Civic Volunteer: 'একটু ঝাড়াই-বাছাই...,' বাজেটে ২০০০ টাকা দিয়েও সিভিক ভলান্টিয়রদের সতর্কবার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

Civic Volunteer: প্রশাসনের তরফে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে সিভিক ভলান্টিয়ারদের জন্য নির্দিষ্ট মূল্যায়ন ও যাচাই ব্যবস্থা চালু হতে পারে। সেই প্রক্রিয়ায় কর্মদক্ষতা, নথিপত্র এবং নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য পরীক্ষা করা হবে।

Published on: Jun 22, 2026, 21:19:02 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Civic Volunteer: সিভিক ভলান্টিয়র, ভিলেজ পুলিশ-সহ বিভিন্ন চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের নিয়োগ ও যোগ্যতা নিয়ে এবার কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার রাজ্য বাজেট ঘোষণার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানালেন, এই সমস্ত স্তরের কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক অনিয়ম ও অস্বচ্ছতা দানা বেঁধেছিল,, যা আর বরদাস্ত করা হবে না। ফলে রাজ্যের হাজার হাজার সিভিক ভলান্টিয়ারের মধ্যে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

সিভিক ভলান্টিয়রদের সতর্কবার্তা মুখ্যমন্ত্রীর (Debajyoti Chakraborty)
সিভিক ভলান্টিয়রদের সতর্কবার্তা মুখ্যমন্ত্রীর (Debajyoti Chakraborty)

এবারের বাজেটে এই সমস্ত স্তরের কর্মীদের ভাতা ২,০০০ টাকা করে বৃদ্ধি করার ঘোষণা করেছে নতুন সরকার। তবে আর্থিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি সমান্তরালভাবে শৃঙ্খলার দড়িও যে শক্ত হাতে ধরা হচ্ছে, তা মনে করিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, 'দু'হাজার টাকা করে দিয়েছি। কিন্তু এদের অনেকের নথিতে জল মেশানো রয়েছে। কারও শারীরিক সক্ষমতা নেই, কারও শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই। কেউ পার্টির ক্যাডার হিসেবে কাজ করেন। সেগুলো এবার একটু ঝাড়াই-বাছাই হবে। এটা মাথায় রাখতে পারেন। মানসিক প্রস্তুতি নিতে শুরু করুন।' এই শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো ভুয়ো ও অযোগ্যদের চিহ্নিত করা। প্রশাসন সূত্রে বার্তা, এই ঝাড়াই-বাছাই পর্ব শেষ হওয়ার পর যোগ্য ও সঠিক মানুষরাই কাজের ভিত্তিতে তাঁদের প্রকৃত ও উপযুক্ত পারিশ্রমিক পাবেন। অযোগ্যদের আর কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না।

প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এখনই ঢালাও ছাঁটাইয়ের পথে না হাঁটলেও, কর্মীদের যোগ্যতা ও নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হবে। প্রশাসনের তরফে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে সিভিক ভলান্টিয়ারদের জন্য নির্দিষ্ট মূল্যায়ন ও যাচাই ব্যবস্থা চালু হতে পারে। সেই প্রক্রিয়ায় কর্মদক্ষতা, নথিপত্র এবং নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য পরীক্ষা করা হবে। রাজ্য সরকারের এই অবস্থানকে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধির পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন একাংশ। যদিও সিভিক ভলান্টিয়ারদের মধ্যে এই ঘোষণা নিয়ে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। কারণ, বেতন বৃদ্ধি যেমন স্বস্তি দিয়েছে, তেমনই সম্ভাব্য যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে সিভিক ভলান্টিয়ারদের জন্য আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মক্ষমতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে একটি নতুন মূল্যায়ন কাঠামোর ইঙ্গিত দিল রাজ্য সরকার। ফলে আগামী দিনে এই বাছাই প্রক্রিয়া কীভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।

প্রসঙ্গত, প্রথম বার ক্ষমতায় এসে এই বাহিনী তৈরি করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৩ সালে রাজ্যে ৪০,০০০ পুলিশ এবং ১,৩০,০০০ হাজার ‘সিভিক পুলিশ ভলান্টিয়ার’ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই বছরের ১০ অক্টোবর কাজ শুরু করে ‘সিভিক ভলান্টিয়ার পুলিশ।’ ২০১৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে বাহিনীর নাম থেকে ‘পুলিশ’ শব্দটি ছেঁটে ‘সিভিক ভলান্টিয়ার্স’ করে রাজ্য। প্রথমে শিক্ষাগত যোগ্যতা মাধ্যমিক থাকলেও এখন অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণ হলেই হয়। ওই বাহিনী গঠনের পরে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল সিভিক ভলান্টিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন’ তৈরি হয়।