Suvendu on Abhishek: 'এটা খুনের মামলা', সেবাশ্রয় নিয়ে অভিষেককে তোপ দেগে বিস্ফোরক শুভেন্দু
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক, আল্ট্রাসোনোগ্রাফি ও এক্স-রে-সহ নানা চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ম ভেঙে ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রদেরও চিকিৎসার কাজে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে চালু হওয়া ‘সেবাশ্রয়’ শিবিরকে ঘিরে শনিবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত তৈরি হল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সেবাশ্রয় প্রকল্প নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে দাবি করেন, চিকিৎসার নামে গুরুতর অনিয়ম হয়েছে এবং বহু সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, এই ঘটনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিধানসভায় বিবৃতি দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সেবাশ্রয়ের নামে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে ‘চিটিংবাজ ভাইপো’ বলে উল্লেখ করেন। শুভেন্দুর দাবি, বিষ্ণুপুরের একাধিক থানায় ইতিমধ্যেই অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা গোটা ঘটনার তদন্ত করছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক, আল্ট্রাসোনোগ্রাফি ও এক্স-রে-সহ নানা চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ম ভেঙে ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রদেরও চিকিৎসার কাজে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। শুভেন্দুর বক্তব্য, এটা শুধু অনিয়ম নয়, এটা খুনের মামলা। এই ঘটনায় কেউ রেহাই পাবে না।
তিনি আরও দাবি করেন, দিলীপ মণ্ডল নামে এক ব্যক্তির গুদাম থেকে চিকিৎসার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনায় সিআইডি, এসটিএফ, রাজ্য পুলিশ এবং চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, যাঁরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাঁদের কাউকেই ছাড়া হবে না।
বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী একটি চিকিৎসকের লেখা অভিযোগপত্রও পড়ে শোনান। পাশাপাশি সেবাশ্রয়ে চিকিৎসার পর হাত বা পা হারিয়েছেন বলে দাবি করা কয়েকজন রোগীর ছবিও তিনি বিধানসভায় প্রদর্শন করেন। তাঁর অভিযোগ, চিকিৎসার নামে চরম গাফিলতি হয়েছে এবং বহু মানুষ স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
প্রসঙ্গত, তৃণমূল সরকারের আমলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে ‘সেবাশ্রয়’ শিবির চালু হয়েছিল। সেখানে বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা দেওয়া হতো। দূর-দূরান্ত থেকে বহু মানুষ এই শিবিরে চিকিৎসা করাতে আসতেন। তবে সম্প্রতি এই শিবিরকে ঘিরে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ, চিকিৎসায় গাফিলতি, বেআইনি চিকিৎসা পরিষেবা, ওষুধের অনিয়ম এবং সরকারি নিয়ম না মেনে চিকিৎসা শিবির পরিচালনা করা হয়েছিল।
শুক্রবার বিধানসভায় এই বিষয়টি প্রথম উত্থাপন করেন ফলতার বিজেপি বিধায়ক দেবাংশু পণ্ডা। তিনি অভিযোগ করেন, সেবাশ্রয় শিবিরের জন্য খেলার মাঠ দীর্ঘদিন দখল করে রাখা হয়েছিল। মাটির নিচে ওষুধ পুঁতে রাখার অভিযোগও তোলেন তিনি। পাশাপাশি দাবি করেন, চিকিৎসার নামে এমন গাফিলতি হয়েছে যে কয়েকজন রোগীর হাত বা পা কেটে ফেলতে হয়েছে। তাঁর আরও অভিযোগ, ওই অস্থায়ী শিবির সরাতে সরকারি তহবিল থেকে প্রায় ২৪ লক্ষ টাকা খরচ হবে।
দেবাংশু পণ্ডা এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং মুখ্যমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করেছিলেন। সেই দাবির ভিত্তিতেই শনিবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন। তাঁর অভিযোগকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তবে এই বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


