রাজভবনে বিজেপির অপরাধীদের আশ্রয়, কল্যাণের মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক, তদন্তের দাবি বোসের

রাজভবনের দাবি, রাজ্যপালের নিরাপত্তা আধিকারিকেরা তাঁকে সাময়িকভাবে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত। কিন্তু রাজ্যপাল সেই পরামর্শ মানতে অস্বীকার করেছেন। তাঁর স্পষ্ট কথা, তিনি রাজভবনেই থাকবেন, যা-ই ঘটুক।

Published on: Nov 16, 2025 5:31 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

গুরুতর অভিযোগ তুললেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরেই সরব হলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র আক্রমণের পর রাজভবনের তরফে আসে তীব্র প্রতিক্রিয়া। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী বা এসআইআরকে সমর্থন করার পরই রাজ্যপালকে লক্ষ্য করে কল্যাণের অভিযোগ, রাজভবনে বিজেপির অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের হাতে বন্দুক-বোমা তুলে দিয়ে তৃণমূল কর্মীদের আক্রমণে উসকানি দেওয়া হচ্ছে।

তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন: কল্যাণের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করলেন মমতা, লোকসভায় তৃণমূলের চিফ হুইপ হলেন কে?

এই বিস্ফোরক মন্তব্যকে ‘গুরুতর ও ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করে সরাসরি তদন্তের দাবি জানিয়েছে রাজভবন। রবিবার সকালে রাজভবনের প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সাংসদ, সাংবাদিক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ ১০০ জনকে অবিলম্বে রাজভবনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। তাঁদের সামনে রাজভবন নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে চায়, কল্যাণের অভিযোগের কোনও বাস্তব ভিত্তি আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। রাজভবনের সাফ কথা, অভিযোগ যদি মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তাহলে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজ্যের মানুষের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে এবং ঘৃণাত্মক বক্তব্যের জন্য তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।

এখানেই থামেনি রাজভবন। প্রশ্ন তুলেছে কলকাতা পুলিশের ওপরও। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাজভবনের নিরাপত্তা যেহেতু কলকাতা পুলিশের হাতে, তাহলে অভিযোগ অনুযায়ী অস্ত্র বা গোলাবারুদ কীভাবে ভবনের ভেতরে ঢুকল, সে বিষয়েও অবিলম্বে তদন্ত হওয়া জরুরি। রাজভবনের ভাষায়, এটি জ়েড-প্লাস সুরক্ষিত রাজ্যপাল এবং রাজভবনের সমস্ত কর্মীর জন্য বিপজ্জনক হুমকি। রাজভবনের দাবি, রাজ্যপালের নিরাপত্তা আধিকারিকেরা তাঁকে সাময়িকভাবে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত। কিন্তু রাজ্যপাল সেই পরামর্শ মানতে অস্বীকার করেছেন। তাঁর স্পষ্ট কথা, তিনি রাজভবনেই থাকবেন, যা-ই ঘটুক। পাশাপাশি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যেহেতু অভিযোগ এক জন লোকসভা সদস্য করেছেন, তাই পুরো বিষয়টি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে পাঠিয়ে বিচারবিভাগীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার অনুরোধ করা হবে।

এই বিতর্কের মূল সূত্র এসআইআর প্রসঙ্গ। রাজ্যপাল আনন্দ বোস জানিয়েছিলেন, এসআইআর অত্যন্ত জরুরি। এটি নির্বাচনী ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ এবং বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে সাহায্য করবে। বিহারে এই প্রক্রিয়া সফল হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গেও তা সাফল্য পাবে। তাঁর এমন মন্তব্যের পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ।

News/Bengal/রাজভবনে বিজেপির অপরাধীদের আশ্রয়, কল্যাণের মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক, তদন্তের দাবি বোসের