Bikash on Bangladeshi Infiltrators: বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের প্রতি ‘মানবিক’ হতে গিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। দলাই লামাকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবেও উল্লেখ করেন সিপিআইএম নেতা। তিনি বলেছেন, ‘শুভেন্দুবাবু (মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী), একটু খোঁজ খবর নিয়ে দেখুন তিব্বতের দলাই লামা-সহ অনুপ্রবেশকারীরা ভারতবর্ষে প্রায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। সংবিধানের ২১ নম্বর ধারা অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, ওই তিব্বতিদের সমস্ত সুযোগ দিয়ে মানবাধিকার রক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশের বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিন। আপনার বক্তব্যে অমানবিক ঔদ্ধত্য প্রকাশ পেয়েছে। সংবেদনশীলতার সঙ্গে মানবিক আচরণ করে ওদের ফেরত পাঠান।’
বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের জন্য ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ

আর তিনি সেই মন্তব্য করেছেন অনুপ্রবেশ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পরে। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরই শুভেন্দু স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি ফেরত পাঠানো হবে। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বা রোহিঙ্গা সন্দেহে যাঁদের ধরা হবে, তাঁদের রাখার জন্য বিভিন্ন জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছে শুভেন্দু সরকার।
হাকিমপুর সীমান্তে অনুপ্রবেশকারীদের স্রোত
সেই ঘোষণার পরই সীমান্তে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের স্রোত আছড়ে পড়েছে। মঙ্গলবার উত্তর ২৪ পরগনার হাকিমপুর সীমান্তে এরকম প্রচুর বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। যাঁদের কেউ এক বছর ধরে ভারতে ছিলেন বলে দাবি করেছেন। কেউ আবার দাবি করেছেন যে মাসতিনেক আগে ভারতে এসেছিলেন। তাঁরা দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কড়া অবস্থানের পরে বাংলাদেশে ফিরে যাচ্ছেন।
বিষয়টি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, যে আইন ছিল, সেটাই প্রয়োগ করা হচ্ছে। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের জেলে রেখে ভারতের টাকা নষ্ট করার কোনও অর্থ নেই। তাঁদের জেলে রাখলে আখেরে ভারতীয়দের চাল, ডাল, ওষুধ, খাবার নষ্ট হবে। তাই অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দেবে রাজ্য সরকার। আর বিএসএফ নিয়ম মেনে অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দেবে বলে জানান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।
দলাই লামা 'অনুপ্রবেশকারী' নন, স্মরণ করানো হল বিকাশকে
শুভেন্দুর সেই কড়া বার্তার পরই বিকাশ যে মন্তব্য করেছেন, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কীভাবে দলাই লামার সঙ্গে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের একই সারিতে বসিয়ে দিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে দলাই লামা মোটেও 'অনুপ্রবেশকারী' নন। মানবিক কারণে তাঁকে ভারতে আশ্রয় দেয় ভারত সরকার।