Afrin Begum: 'আমাদের ফোন তোলা...,' বঙ্গ ভোট মিটতেই কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তরুণ CPIM প্রার্থীর

Afrin Begum: প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আফরিন বেগম বলেন, 'যখন আমরা যাচ্ছি, তখন তারা হয়তো একজন সামনে গিয়ে একটা কথা বলে চলে আসছেন ৷ আমরা বলছি পেট্রোলিং দরকার ৷ কেন পেট্রোলিং ও রুটমার্চ করানো হবে না ?'

Published on: Apr 29, 2026, 22:43:22 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Afrin Begum: বাংলায় ভোট শেষ। ৪ মে ইভিএম খোলার পর জানা যাবে চূড়ান্ত রায়। তার আগেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগড়ে দিলেন বালিগঞ্জ বিধানসভার সিপিএম-এর তরুণ প্রার্থী আফরিন বেগম ৷ তাঁর অভিযোগ, বালিগঞ্জ কেন্দ্রে বিভিন্ন জায়গায় বেআইনি জমায়েত হয়েছে ৷ সে বিষয় কমিশনকে জানানোর জন্য একাধিকবার ফোন করেছেন তিনি ৷ কিন্তু, কমিশনের তরফে কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি না।

কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তরুণ CPIM প্রার্থীর (সৌজন্যে ফেসবুক )
কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তরুণ CPIM প্রার্থীর (সৌজন্যে ফেসবুক )

বালিগঞ্জ বিধানসভার বুথের অবস্থা

বুধবার ভোট চলাকালীন 'ইটিভি ভারত'-কে বিশেষ সাক্ষাৎকার রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের কনিষ্ঠ প্রার্থী বলেন, 'বালিগঞ্জ বিধানসভার বুথের ভিতরে তো বহু জায়গায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হচ্ছে ৷ ইতিমধ্যেই, অনেক জায়গায় ৮০ কিংরা ৮৬ শতাংশের কাছাকাছি পোলিং হয়ে গেছে ৷ কিন্তু, সমস্যা হল বুথের বাইরে ৷ বাংলার মানুষ অশান্তি চায় না, বাংলার মানুষ সুস্থ স্বাভাবিক ভোট চায় ৷ কিন্তু, বাইরের একাধিক জায়গায়, যেমন ৬০, ৬১ ও ৬৪ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখুন, মহাদেবী বিড়লা স্কুলের পাশে যে মসজিদ গলি, সেখানে প্রত্যেকটা জায়গায় বেআইনি জমায়েত করা হচ্ছে ৷ আমরা বারবার ফোন করছি কমিশনে ৷ আমাদের ফোন তোলা ইলেকশন কমিশন বন্ধ করে দিয়েছে ৷'

কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, 'আমরা রিটার্নিং অফিসারকে ফোন করেছি, আমরা পুলিশ অবজার্ভারদের ফোন করেছি ৷ ওঁরা কেউ আমাদের ফোন ধরছেন না ৷ আরও অন্য প্রার্থীদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি ৷ তাঁদেরও ফোন ধরছেন না ৷ আমরা জানি যে আমাদের বেশিরভাগ এই অঞ্চলগুলিতে তিনটের পর থেকেই বিভিন্ন অশান্তি শুরু হয় ৷ আমরা এর আগে যখন তাদেরকে বলছি, তারা রুট মার্চ করেছেন ৷ নয়তো সামনে গিয়ে বারণ করছেন বিভিন্ন গলিগুলোতে ৷ তখন সাময়িক তৃণমূলের গুন্ডারা ঢুকে যাচ্ছে ৷ কিন্তু, তারপরেই আবার বেরিয়ে মানুষকে শাসাচ্ছে।' আফরিন বেগম আরও জানান, ​'এখন আমরা এতবার বলছি, আমাদের ফোন তোলা হচ্ছে না ৷ তাহলে ইলেকশন কমিশনের উদ্দেশ্যটা কী ? আসলে মানুষকে সুস্থ স্বাভাবিকভাবে ভোট দিতে দেওয়া কী অধিকার নয় ? বিকেলের দিকে যদি অশান্তি হয়, তারপরেও ওঁরা যদি ফোন না-ধরেন, তাহলে আমি নিজে যাব এলাকায় ৷ সেখানে যে অবস্থাটা তাহলে সৃষ্টি হবে, সেটার দায় ইলেকশন কমিশনকে নিতে হবে ৷'

প্রশাসনের ভূমিকা

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আফরিন বেগম বলেন, 'যখন আমরা যাচ্ছি, তখন তারা হয়তো একজন সামনে গিয়ে একটা কথা বলে চলে আসছেন ৷ আমরা বলছি পেট্রোলিং দরকার ৷ কেন পেট্রোলিং ও রুটমার্চ করানো হবে না ? সেটা করালে তো যারা অলিগলির মধ্যে ঢুকে গেছে, তাদেরও ওখান থেকে সরিয়ে দেওয়া যায় ৷ ইমিডিয়েট অ্যাকশন কেন নেওয়া হবে না ? একটা বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে ৫০-৬০ জনের জমায়েত, মানেটা ভাবতে পারছেন ? এটাকে আটকানো হচ্ছে না ৷ এরপরও অ্যাকশন না-নেওয়া হলে আমি নিজে নামব এবং সেখানে যে অশান্তি সৃষ্টি হবে, সেটার দায় তখন ইলেকশন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসনকে নিতে হবে ৷'

বাই-ইলেকশন

নির্বাচন কমিশন বলেছে, বেশ কিছু জায়গায় বাই-ইলেকশন হলেও হতে পারে ৷ এই প্রশ্নে সিপিএম-এর তরুণ প্রার্থী জবাব দেন, 'তাহলে কী ওঁরা বলে দিচ্ছেন, ওঁরা সামলাতে পারছেন না ? পদ্ধতিগত দিক থেকে ওঁরা সামলাতে ব্যর্থ হচ্ছেন ৷ যদি এই রকম ভাবে ওঁরা চালাতে থাকেন, তাহলে তো সব জায়গায় বাই-ইলেকশন করাতে হয় ৷ সাধারণ মানুষ সারাদিন ভোট দিচ্ছেন ৷ আমি যে রকমভাবে বললাম যে দুপুর দু’টো পর্যন্ত ৮০ শতাংশের কাছাকাছি পোলিং হয়ে গেছে ৷ তাহলে সাধারণ মানুষ ভোট দিতে চাইছেন ৷ ​কিন্তু, আমরা খবর পাচ্ছি যে এপিক কার্ড ছাড়া, বৈধ ভোটার স্লিপ ছাড়াও অনেককে ভোটার কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে, সেটা যাদের দায়িত্ব, তারা কেন সঠিকভাবে পালন করছেন না ? মানুষ যাতে শান্তিতে ভোট দিতে পারেন, সেটার জন্য আমরা লড়াই করছি ৷'