Siliguri Municipal Corporation: মেয়র পদ থেকে গৌতম দেব ইস্তফা দিতেই চূড়ান্ত ডামাডোল শিলিগুড়ি পৌরনিগমে। এই পরিস্থিতিতে অস্থির শিলিগুড়ি পৌরনিগমের ক্ষমতা দখলে তৎপর হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের এক অংশ। অন্যদিকে, তার বিরোধিতায় একাধিক তৃণমূল কাউন্সিলর পদত্যাগ করেছেন। এদিনও পদত্যাগ করতে পারেন আরও কিছু তৃণমূল কাউন্সিলর। এই পরিস্থিতির মধ্যেই বোর্ড নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে ৭২ ঘন্টার সময় বেঁধে দিল রাজ্য সরকার।
শিলিগুড়ির মেয়র হতে মরিয়া ডেপুটি মেয়র
রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের রেশ কাটতে না কাটতেই উত্তরবঙ্গের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু শিলিগুড়ি পৌরনিগমে কার্যত ধস নেমেছে। শুক্রবার মেয়র গৌতম দেবের পদত্যাগের পর শিলিগুড়িতে ক্ষমতা দখলে সচেষ্ট হয় তৃণমূলের এক অংশ। শুক্রবার বিকেলেই কাউন্সিলরদের এক অংশ বৈঠক করে তাঁরা নিজেদের দলনেতা ও উপ দলনেতা বাছাই করেন। ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকার দলনেতা ও মেয়র পারিষদ সঞ্জয় পাঠককে উপ দলনেতা হিসেবে ঠিক করেছেন তাঁরা। তৃণমূল সুত্রে খবর, ঐক্যমতে পৌঁছান গেলে রঞ্জন সরকার মেয়র ও সঞ্জয় পাঠক ডেপুটি মেয়র হওয়ার চেষ্টা করবেন।
যদিও তৃণমূলের একাধিক কাউন্সিলর অবশ্য অন্য মত। ইতিমধ্যেই কাউন্সিলর পদে পদত্যাগ করেছেন সেবিকা মিত্তল, দিলীপ বর্মন। শনিবার পদত্যাগ করতে পারেন একাধিক কাউন্সিলর। ফলে নাটক যে পুরোমাত্রায় জমে উঠেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। অন্যদিকে, ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকার বলছেন, 'পরিষেবার প্রশ্নেই বোর্ড রাখিতে চাইছি আমরা। সরকার কি করবে সিদ্ধান্ত নিক।' এরমধ্যেই মেয়র পারিষদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন মানিক দে। একের পর এক ইস্তফা নিয়ে যখন গোটা শিলিগুড়িতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে, সেই সময় শিলিগুড়ি ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং এমএমআইসি মানিক দে এমএমআইসি পদ থেকেই ইস্তফা দিলেন। তিনি জানালেন, 'ব্যক্তিগত কারনেই এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলাম আমি মনে করি আরো ছয় মাস মানুষের জন্য কাজ করে যেতে পারবো। আপাতত যে পদে আছি সেটা নিয়েই মনসংযোগ করতে চাই।' তিনি আরও বলেন, 'আগামী দিনে যাতে কোন অসুবিধা না হয় সেই কারণে এই সিদ্ধান্ত নিলাম।'
প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পরই গৌতম দেবেরই ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল দলেরই অন্দরে। যে শহরে মেয়র হিসেবে ৪ বছর কাজ করেছেন তিনি সেই শহরের সব ওয়ার্ডেই পরাজিত হয় তৃণমূল। ফলে তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সূত্রের খবর, কয়েকদিন আগেই কলকাতায় এসেছিলেন গৌতম দেব। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও দেখা করেন। তারপরই তাঁর ইস্তফা। তৃণমূলের অনেকেই মনে করছেন, দল ফের ক্ষমতায় ফিরলে গৌতম দেবের রাজনৈতিক জীবন আরও লম্বা হত। ফের মন্ত্রিত্ব প্রাপ্তি নিশ্চিত ছিল। কিন্তু ভোটে ভরাডুবির পর যেভাবে দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় ধস নামতে শুরু করেছে, তাতে গৌতম দেবের রাজনীতিতে থেকে আর কিছু করার নেই। তাই বাধ্য হয়ে ঘুরপথে রাজনৈতিক সন্ন্যাসের ঘোষণা করে দিলেন।
Home/Bengal/Siliguri: দ্রুত বদলাচ্ছে অঙ্ক! শিলিগুড়ির মেয়র হতে মরিয়া ডেপুটি মেয়র, বাড়া ভাতে ছাই TMC কাউন্সিলরদের?