ধর্মতলা কাণ্ডে ধৃতের তৃণমূল-যোগ নিয়ে চর্চা, কী বললেন আফরোজের এলাকার তৃণমূল বিধায়ক?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত মহম্মদ আফরোজ কলকাতার মেটিয়াবুরুজ এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয়ভাবে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী হিসেবেই পরিচিত বলে দাবি উঠেছে। তদন্তকারীদের নজরে এসেছে তাঁর একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, যেখানে তাঁকে তৃণমূলের দলীয় পতাকা হাতে মিছিলে অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে।
ধর্মতলায় ছাত্র মিছিল ঘিরে হিংসা, ভাঙচুর এবং সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনায় তদন্তে নেমে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে পাচ্ছে কলকাতা পুলিশ। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে অন্যতম মহম্মদ আফরোজকে জেরা করে তদন্তকারীরা তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও যোগাযোগ খতিয়ে দেখছেন। ইতিমধ্যেই আফরোজের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতার ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে সামনে আসায় নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত মহম্মদ আফরোজ কলকাতার মেটিয়াবুরুজ এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয়ভাবে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী হিসেবেই পরিচিত বলে দাবি উঠেছে। তদন্তকারীদের নজরে এসেছে তাঁর একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, যেখানে তাঁকে তৃণমূলের দলীয় পতাকা হাতে মিছিলে অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, বিধানসভা নির্বাচনের সময় মেটিয়াবুরুজ কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী আবদুল খালেকের হয়ে প্রচার করতেও দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। বর্তমানে আবদুল খালেক ওই কেন্দ্রের বিধায়ক।
এই তথ্য সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠেছে, আফরোজ কি শুধুই দলের সাধারণ সমর্থক, নাকি স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল? যদিও এই জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন বিধায়ক আবদুল খালেক। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বহু মানুষ অংশ নেন। তাই কারও সঙ্গে একই মঞ্চে বা মিছিলে থাকা মানেই ব্যক্তিগত পরিচয় বা যোগাযোগ রয়েছে, এমনটা বলা যায় না।
তদন্তকারীরা আফরোজের সামাজিক মাধ্যমের কার্যকলাপও খতিয়ে দেখছেন। সেখানে একাধিক ছবি, ভিডিও এবং রিলসে তাঁকে আগ্নেয়াস্ত্র সদৃশ বস্তু হাতে দেখা গিয়েছে। পাশাপাশি কিছু পোস্টে নিজেদের **'মাফিয়া গ্যাং'** এবং **'টিম মাফিয়া'** বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওই আগ্নেয়াস্ত্র আসল নাকি নকল এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় থাকা ছবি বা ভিডিওগুলির সত্যতা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা হয়নি। পুলিশ ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে সেই তথ্য যাচাই করছে বলে সূত্রের খবর।
ধর্মতলার বিক্ষোভে পুলিশের উপর হামলা, ভাঙচুর এবং সাংবাদিকদের মারধরের অভিযোগে আফরোজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনায় তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে গুন্ডাদমন আইনের অধীনেও মামলা রুজু হয়েছে। পাশাপাশি তিনি কোনও সংগঠিত দুষ্কৃতী চক্রের সঙ্গে যুক্ত কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় এসেছে।
এদিকে, এই ঘটনার জেরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিরোধীদের একাংশ আফরোজের সঙ্গে তৃণমূল নেতাদের ছবি সামনে এনে প্রশ্ন তুলেছে। তবে সেই অভিযোগ খারিজ করে মেটিয়াবুরুজের বিধায়ক আবদুল খালেক বলেছেন, **"পুলিশ তাদের কাজ করছে। তদন্তে যদি কেউ দোষী প্রমাণিত হন, তাহলে আইন অনুযায়ী শাস্তি পাবেন। কিন্তু তাঁর সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত পরিচয় বা যোগাযোগ রয়েছে—এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।"**
ধর্মতলা কাণ্ডে ইতিমধ্যেই ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার নেপথ্যে আরও কেউ রয়েছে কি না, কোনও রাজনৈতিক বা অসামাজিক চক্র এর সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে থাকা ছবি, ভিডিও এবং ডিজিটাল তথ্যও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এখন নজর, তদন্তে আর কী কী তথ্য সামনে আসে এবং মহম্মদ আফরোজের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ সম্পর্কে পুলিশ কী সিদ্ধান্তে পৌঁছয়।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


