Cencus: অনুপ্রবেশে জনবিন্যাস বদল! ১ অগাস্ট থেকে রাজ্যে ডিজিটাল জনগণনা, পূর্বতন সরকারকে তোপ মুখ্যমন্ত্রীর

Cencus: শুক্রবার নবান্ন সভাঘরে জনগণনা নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক উপলক্ষে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে জনগণনা চালু করার জন্য দিল্লি থেকে চিঠি এসেছিল পূর্বতন রাজ্য সরকারের কাছে। কিন্তু তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কোনও পদক্ষেপ করেনি।

Published on: May 29, 2026, 19:21:22 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Cencus: রাজ্যে আগামী ১ অগাস্ট থেকে শুরু হতে চলেছে ডিজিটাল জনগণনা বা সেন্সাস। নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, এই প্রক্রিয়া ১ অগাস্ট থেকে শুরু হয়ে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত চলবে। রাজ্যের প্রতিটি নাগরিককে এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ ও সক্রিয় সহযোগিতা করার জন্য আর্জি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে পূর্বতন সরকারকে তীব্র নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, অনুপ্রবেশের কারণে বাংলার জনবিন্যাস বদলে গিয়েছে, তাই এই জনগণনা অত্যন্ত জরুরি। তবে এতে এ দেশের বা রাজ্যের বৈধ নাগরিকদের ভয়ের কোনও কারণ নেই।

পূর্বতন সরকারকে তোপ মুখ্যমন্ত্রীর ( Saikat Paul)
পূর্বতন সরকারকে তোপ মুখ্যমন্ত্রীর ( Saikat Paul)

শুক্রবার নবান্ন সভাঘরে জনগণনা নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক উপলক্ষে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে জনগণনা চালু করার জন্য দিল্লি থেকে চিঠি এসেছিল পূর্বতন রাজ্য সরকারের কাছে। কিন্তু তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কোনও পদক্ষেপ করেনি। এমনকী, চিঠির জবাবও দেয়নি। জনগণনা নিয়ে তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের ভূমিকাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে চিহ্নিত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনৈতিক কারণে জনগণনার কাজ শুরু করেনি আগের সরকার। পূর্বতন মুখ্যসচিব জনগণনা নিয়েও রাজনৈতিক ঐকমত্যের অপেক্ষায় ছিলেন। আগের সরকার জনগণনার কোনও কাজ না-করার ফলে অন্য রাজ্যগুলি অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে। আমরা পিছিয়ে পড়েছি।’

সেই খামতি ঢাকতে তাঁর সরকার দ্রুত পদক্ষেপ করেছে বলে জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার পরে আমি ১১ মে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে মুখ্যসচিবের উপস্থিতিতে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তার মধ্যে ছিল জনগণনার কাজ শুরু করা।’ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই সেন্সাসের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, আগামী ১ অগস্ট থেকে দেশ ও রাজ্যে একযোগে এই প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সাধারণ বাসিন্দাদের জন্য থাকছে ‘সেলফ এনুমারেশন’ বা নিজে নিজেই তথ্য নথিভুক্ত করার বিশেষ সুযোগ। গোটা প্রক্রিয়াটি আগামী ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত চলবে। জনগণনা সংক্রান্ত গোটা প্রক্রিয়ার দায়িত্বে থাকবেন ‘সেন্সাস ডিরেক্টর’ রশ্মি কোমল। জনগণনা নিয়ে আমজনতার মনে যাতে কোনও রকম বিভ্রান্তি বা সমস্যার সৃষ্টি না হয়, তার জন্য রাজ্য ও কেন্দ্রের তরফে বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর এবং ওয়েবসাইট চালু করা হচ্ছে। দেশব্যাপী যে টোল-ফ্রি নম্বরটি সচল থাকবে, সেটি হল— ১৮৫৫। এর পাশাপাশি একটি ল্যান্ডলাইন নম্বরও চালু করা হচ্ছে, নম্বরটি হল— ০৩৩-২৩৩৫ ৯৫০৩। যে কোনও তথ্যের জন্য নাগরিকেরা সরাসরি নজর রাখতে পারবেন সরকারি ওয়েবসাইটে: www.westbengal.census.gov.in।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই প্রথম বার জনগণনা হবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। প্রসঙ্গত প্রায় ১৫ বছর পরে অনুষ্ঠিত জনগণনায় এবার সরকারি কর্মচারীরা তথ্য সংগ্রহ করবেন নিজেদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। তাঁদের জন্য বিশেষ একটি অ্যাপ থাকবে। সংগৃহীত তথ্য সেই অ্যাপের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সার্ভারে আপলোড করতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিশেষ সেই অ্যাপ তৈরির কাজ শেষের মুখে। এদিন নবান্নের সভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণনার সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা রয়েছে।’ জনগণনা প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য পশ্চিমবঙ্গের সব স্তরের নাগরিকের সাহায্যও চেয়েছেন তিনি। তিনি বলেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের ৬০০ কিলোমিটার সীমান্তে কোনও বেড়া নেই। তাই অনুপ্রবেশের মাধ্যমে জনবিন্যাসের চরিত্রের পরিবর্তন হয়েছে ওই এলাকাগুলিতে। তার সঙ্গে সরাসরি সংযোগ না-থাকলেও আমাদের রাজ্যের ক্ষেত্রে এই জনগণনা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’ পূর্বতন তৃণমূল সরকার বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি চৌকি এবং বেড়া বসানোর জন্য বিএসএফ-কে জমি না দেওয়ায় বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘কী ভাবে লোক ঢুকেছে তা আপনারা টিভিতে দেখেছেন।’