রাজভবন নিয়ে কল্যাণের মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া, সমালোচনায় সরব দিলীপ ঘোষ
কল্যাণের বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ্যপাল শুধু যে তাঁদের আপ্যায়ন করছেন তা-ই নয়, টিএমসি কর্মীদের আক্রমণ করার জন্য তাঁদের হাতে অস্ত্র ও গোলাবারুদও তুলে দিচ্ছেন।
তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি। তাঁর দাবি, রাজভবনের ভিতরেই নাকি বিজেপি কর্মীদের হাতে অস্ত্র ও গোলাবারুদ তুলে দেওয়া হচ্ছে, আর সেই অস্ত্রই ব্যবহার করা হচ্ছে রাজ্যের শাসকদলের কর্মীদের নিশানা করতে। এই অভিযোগ সামনে আসতেই তা তদন্তের দাবি তুললেন বিজেপি নেতারাই। বিশেষ করে বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ অভিযোগটিকে অত্যন্ত গুরুতর বলে দাবি করে কল্যাণের মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন।

আরও পড়ুন: কল্যাণের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করলেন মমতা, লোকসভায় তৃণমূলের চিফ হুইপ হলেন কে?
দিলীপ ঘোষ বলেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী, সাংসদ ও দীর্ঘদিনের জন প্রতিনিধি থেকে এমন ‘অপ্রত্যাশিত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ মন্তব্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তাঁর দাবি, এই ধরনের মন্তব্য সংবিধান ও গণতন্ত্র উভয়েরই ক্ষতি করে। তাই এমন মন্তব্যের ক্ষেত্রে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। ঘোষের কথায়, ভেবেচিন্তে কথা বলা উচিত। এমন বক্তব্য দেশের সাংবিধানিক কাঠামোকে আঘাত করে।
এর আগে হুগলির শীলমপুরে একটি জনসভায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস রাজভবনকে নাকি বিজেপির ‘অপরাধীদের’ আতিথ্য দেওয়ার জায়গায় পরিণত করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ্যপাল শুধু যে তাঁদের আপ্যায়ন করছেন তা-ই নয়, টিএমসি কর্মীদের আক্রমণ করার জন্য তাঁদের হাতে অস্ত্র ও গোলাবারুদও তুলে দিচ্ছেন। তাঁর ভাষায়, রাজ্যপালকে বলুন, রাজভবনে অপরাধীদের আপ্যায়ন বন্ধ করুন। তিনি ওদের রেখে তৃণমূল কর্মীদের আক্রমণের জন্য অস্ত্র দিচ্ছেন। এমন রাজ্যপাল থাকলে বাংলার ভাল কিছু হবে না।’
এই অভিযোগের জবাবে পাল্টা সুরে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস জানান, অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, রাজভবনে অস্ত্র খোঁজা মানে অন্ধকার ঘরে এমন একটা কালো বিড়াল খোঁজা, যা আদৌ সেখানে নেই। তাঁর প্রশ্ন, এই মন্তব্যের মাধ্যমে কি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য পুলিশের উপর অনাস্থা প্রকাশ করছেন? নাকি দলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের প্রতিফলন ঘটছে তাঁর বক্তব্যে? রাজ্যপাল আরও জানান, রাজভবন ইতিমধ্যেই জনসাধারণের জন্য খোলা, যে কেউ চাইলে এসে দেখে যেতে পারেন। পুরো ঘটনা এখন তৃণমূল বনাম রাজ্যপাল। তার সঙ্গে বিজেপির প্রতিক্রিয়া মিলে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়েছে।












