East Bengal ACL 2 Match Latest Update: ৪ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট হত, গোল মিস করে এশিয়ায় বিদায়ের মুখে ইস্টবেঙ্গল, হারাল খাজা দলও

East Bengal ACL 2 Match Latest Update: এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-র ম্যাচে ওমানের ক্লাব দল আল সিবের বিরুদ্ধে ২-০ গোলে হেরে গেল ইস্টবেঙ্গল। তার ফলে এশিয়ার মঞ্চ থেকে ইস্টবেঙ্গলের প্রায় বিদায়ঘণ্টা বেজে গেল।

Published on: Nov 3, 2026, 21:09:27 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

East Bengal ACL 2 Match Latest Update: 'WE DIDN'T COME THIS FAR TO FALL AGAIN - STAND UP, BE COUNTED' - এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-র গ্রুপ লিগের ম্যাচের পুরো সময়টা যুবভারতীতে সেই ব্যানার লাগানো থাকল। কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের গোলের মিসের রোগ তাতেও কাটল না। আর সেই গোল মিসের বন্যার সুযোগ নিয়ে ০-২ গোলে হেরে গিয়ে এশিয়ার মঞ্চে প্রায় খাদের কিনারায় পৌঁছে গেল ইস্টবেঙ্গল। এতদিনে চার ম্যাচে ১০ পয়েন্ট হওয়ার কথা ছিল লাল-হলুদের। কিন্তু আল হুসেন, আল শোরতার বিরুদ্ধে গোল মিস করে-করে পয়েন্ট খুইয়েছে। আজ তো কার্যত ‘খাজা’ দল আল সিবের কাছে হেরে গেল। তার ফলে এশিয়ার মঞ্চে প্রায় খাদের কিনারায় পৌঁছে গেল।

এশিয়ায় ইস্টবেঙ্গলের আশা কার্যত শেষ হয়ে গেল। (ছবি সৌজন্যে East Bengal)
এশিয়ায় ইস্টবেঙ্গলের আশা কার্যত শেষ হয়ে গেল। (ছবি সৌজন্যে East Bengal)

ফাইনাল থার্ডে ‘জোশ’-র অভাব, প্রথমে শাসন করে আল সিবকে

প্রথম ১০ মিনিটে কার্যত কোনও সুযোগ তৈরি করতে পারেনি আল সিব। বারবার আক্রমণে উঠে যেতে থাকে ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু ফাইনাল থার্ডে বারবার আটকে যায়। বক্সের ভিতর বা বক্সের একেবারে কাছে গিয়ে মশাল জ্বালিয়ে তোলার মতো সেই ‘জোশ’-টা দেখা যাচ্ছিল না।

লাগাতার ম্যাচের ধকল, আনোয়ারের চোট

তাও চেষ্টা করতে যেতে থাকে ইস্টবেঙ্গল। তারইমধ্যে ১৭ মিনিটে চোট পেয়ে উঠে যান আনোয়ার আলি। জাতীয় দল থেকে শুরু করে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে প্রতিটি ম্যাচ খেলার ধকল পড়েছে তাঁর উপরে। তার মাশুল গুনতে হয় লাল-হলুদ শিবিরকে। তা নিয়ে সমর্থকদের হা-হুতাশের তিন মিনিটের মধ্যে ইস্টবেঙ্গলের সামনে চলে আসে গোলের সুবর্ণ সুযোগ।

আরও পড়ুন: SAI Fund: টুর্নামেন্ট চলাকালীনই বন্ধ কেন্দ্রীয় অনুদান! ইউরোপে অনিশ্চয়তায় পিভি সিন্ধু-লক্ষ্য সেনরা

গোললাইনের একেবারে সামনে থেকে সুবর্ণ সুযোগ মিস

কিন্তু ২০ মিনিটে সেই সুবর্ণ সুযোগ মিস করেন মহম্মদ রশিদ। আল সাব বক্সের মধ্যে ক্রস বাড়ান এডমুন্ড লালরিনডিকা। যা প্রাথমিকভাবে বাঁচিয়ে দেন ওমানের দলের দোলকিপার ইব্রাহিম। ফিরতি বলটা পান বিপিন সিং। যিনি বলটা বাড়ান গোল থেকে মেরেকেটে একহাত দূরে দাঁড়িয়ে থাকা ইস্টবেঙ্গল অধিনায়কের দিকে। অনেকক্ষণ সময় পেয়ে, নিজেকে প্রস্তুত করেও প্রায় গোললাইনের সামনে থেকে হেডে বলটা তেকাঠিতে ব্যর্থ হন।রশিদ। দ্বিতীয় পোস্টে বলটা রাখতে গিয়েই ভুলটা করে বসেন।

আরও পড়ুন: অবসরের আগে রাজনাথকে চিঠি, ৪০ একর জমির দখল না নিতে সরকারের কাছে আর্জি প্রাক্তন বায়ুসেনা প্রধানের

তারপরও অবশ্য প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ পায় ইস্টবেঙ্গল। ডানি রামিরেজ তো বিশেষত বক্সের ভিতর বা বক্সের একেবারে বাইরে থেকে কমপক্ষে তিনটি শট নেন। কিন্তু গোল হয়নি। বরং ধীরে-ধীরে ম্যাচে ফিরতে থাকে ওমানের ক্লাব। আনোয়ারের অনুপস্থিতিতে ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্সেও কিছুটা ফাঁক তৈরি হয়। তারপরও আল সিব প্রথমার্ধে এমন কোনও শট নিতে পারেনি, যা লাল-হলুদ গোলকিপার ফুরবা লাচেনপাকে পরীক্ষার মুখে ফেলে দেয়। ফলস্বরূপ প্রথমার্ধ গোলশূন্যভাবেই শেষ হয়।

দ্বিতীয়ার্ধেই ৩০ সেকেন্ডেই গোলের সুযোগ ইস্টবেঙ্গলের

আর সেই স্কোরলাইনটা ১-০ করার সুযোগ ইস্টবেঙ্গল পেয়ে যায় দ্বিতীয়ার্ধের ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই। বাঁ-দিক থেকে নীচ ক্রস বাড়ান জয় গুপ্তা। বলের কিছুটা আগে এগিয়ে গিয়েছিলেন ডেভিড। তিনি ফ্লিক করার চেষ্টা করেন। কিন্তু বলের সঙ্গে ঠিকমতো সংযোগ হয়নি। ফলে গোল পায়নি লাল-হলুদ ব্রিগেড। তবে সাড়ে ৪৮ মিনিটের মাথায় বেঁচে যায় ইস্টবেঙ্গল। রশিদ যেমন গোলের সামনে থেকে তেকাঠিতে বল রাখতে পারেননি, সেরকমভাবেই সুবর্ণ সুযোগ মিস করেন ওমানের ক্লাবের ফরোয়ার্ড অ্যাক্সেল মে ডং।

আরও পড়ুন: Kolkata Crisis Chances Latest Update: বেশি ‘বন্যা’, ভয়ংকর বৃষ্টি, জলের আকাল- ২১০০ সালের মধ্যে কলকাতার হাল ভয়াবহ হতে পারে

আবার ৫৫ মিনিটে গোলের একেবারে কাছে এসে যায় ইস্টবেঙ্গল। সন্দীপ মান্ডির ক্রস ভেসে আসতেই বক্সের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হেড করেন লালরিনডিকা। কিন্তু একটুর জন্য তেকাঠিতে বলটা রাখতে পারেননি - জাস্ট একটুর জন্য। আর সেই দীর্ঘশ্বাসের মাত্রা আরও জোরালো হয় ৬১ মিনিটে। বাঁ উইং কাট করে ভিতরের ঢুকে পড়েন জয়। পাস বাড়ান একে লোবাকে। যিনি বলটা বাঁ-দিকে থাকা রামিরেজকে দেন। বাঁ-পায়ের বুটের বাইরের অংশ দিয়ে বলটা ঠেলে দেন স্প্যানিশ। কিন্তু ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটা সেভ করে দেন ওমানের দলের গোলকিপার।

লাচেনপার দুর্দান্ত ক্ষিপ্রতায় সেভ, বাঁচল ইস্টবেঙ্গল

আর তার থেকেও দুর্দান্ত সেভ করেন ইস্টবেঙ্গলের গোলকিপার। বক্সের একেবারে মাঝখান থেকে আল সিবের ওমের আল মালকির হেডার দুর্দান্ত ক্ষিপ্রতায় ডানদিকে ঝাঁপিয়ে বাঁচিয়ে দেন লাচেনপা। যিনি ওমানেও একই দলের বিরুদ্ধে খেলার একেবারে শেষলগ্নে দুরন্ত সেভ করে ইস্টবেঙ্গলকে এক পয়েন্ট এনে দিয়েছিলেন।

দাঁড়িয়ে গেল ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্স

কিন্তু যুবভারতীতে ইস্টবেঙ্গলের দাঁড়িয়ে যাওয়া ডিফেন্সের কারণে লাচেনপার সেই ক্ষিপ্রতা কাজে এল না। কয়েক মিনিট ধরে লাল-হলুদ ডিফেন্সের উপরে চাপ বাড়িয়েছিল ওমানের দল। সেই রেশ ধরে বক্সের ডানদিক থেকে ক্রস বাড়ান হাসান। সন্দীপ মান্ডিকে কাঁধের কাছে নিয়ে প্রথম পোস্ট দিয়ে ইস্টবেঙ্গলের তেকাঠিতে ৮৫ মিনিটে বল রেখে যান অ্যাক্সেল। আর ঠিক ৯০ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করেন।

ACL2-র গ্রুপ ডি'র পয়েন্ট তালিকা

১) আল শোরতা (ইরাক): ৩ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট।

২) আল হুসেন (জর্ডন): ৩ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট।

৩) আল সিব (ওমান): ৪ ম্যাচে পয়েন্ট।

৪) ইস্টবেঙ্গল (ভারত): ৪ ম্যাচে ২ পয়েন্ট।

(ইস্টবেঙ্গল বনাম আল সিব ম্যাচের পর পর্যন্ত। আল শোরতা বনাম আল হুসেন ম্যাচ আছে রাতে।)

  • Ayan Das
    ABOUT THE AUTHOR
    Ayan Das

    অয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More