ED Raid: ২১ জুলাই অ্যাকশন মুডে ED! সাতসকালে কলকাতা-সহ ৮ জায়গায় একযোগে তল্লাশি, কোন মামলায়?
ED Raid: তদন্তকারীরা জানতে পারেন, বনগাঁ-সহ রাজ্যের বেশ কয়েকটি জায়গায় এর প্রতারণার জাল ছড়িয়ে। এরপরই এদিন কার্যত সাতসকালে একাধিক দলে ভাগ হয়ে বনগাঁ, কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগণা-সহ মোট ৮ জায়গায় পৌঁছে যান ইডি আধিকারিকরা।
ED Raid: সাতসকালে রাজ্যে ফের আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে বড়সড় পদক্ষেপ এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর। কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মঙ্গলবার কলকাতা-সহ ৮ জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এদিন সকাল সকাল তদন্তকারীদের একাধিক দল ভিন্ন ভিন্ন ঠিকানায় হানা দেয়। বিগত কয়েক মাসের তদন্তে পাওয়া বেশ কিছু সূত্র ধরেই আজকের এই অভিযান বলে খবর সূত্রের।

ইডি সূত্রে খবর, সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার টোপ দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা তোলা হতো। একটি চক্র কাজ করত যারা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষকে প্রলোভন দিত। টাকা বেশি দিলে সুবিধাও শীঘ্র ও বেশি মিলবে, এই টোপ দিয়ে দিনের পর দিন ওই চক্র মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ। অভিযোগ, প্রায় এভাবে ২০ হাজার আমানতকারীর কাছ থেকে প্রায় ১৬৫ কোটি টাকা তোলা হয়েছে। এরপরই এই সংক্রান্ত অভিযোগ জমা হয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটে। এরপরই নড়েচড়ে বসেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথিও পেয়েছে ইডি। সেইগুলিতে যে আর্থিক লেনদেন হয়েছিল, তার উৎস খোঁজা চলছে।
তদন্তকারীরা জানতে পারেন, বনগাঁ-সহ রাজ্যের বেশ কয়েকটি জায়গায় এর প্রতারণার জাল ছড়িয়ে। এরপরই এদিন কার্যত সাতসকালে একাধিক দলে ভাগ হয়ে বনগাঁ, কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগণা-সহ মোট ৮ জায়গায় পৌঁছে যান ইডি আধিকারিকরা। জানা গিয়েছে, বনগাঁর ৪টি ঠিকানায় তল্লাশি চলছে। তল্লাশি চলছে অভিজিৎ বিশ্বাস এবং তাঁর এক প্রতিবেশীর বাড়িতে। কিন্তু এদিন সকালে তাঁদের বাড়িতে গেলে কাউকেই পাওয়া যায়নি। ইডি সূত্রে খবর, বড়সড় এই প্রতারণা চক্রের পিছনে অভিজিৎ বিশ্বাসের বড় ভূমিকা রয়েছে। আর তা খতিয়ে দেখতেই তাঁর বাড়িতে এই মুহূর্তে তল্লাশি চালাচ্ছেন ইডি আধিকারিকরা। স্থানীয়দের দাবি, অভিজিৎ বিশ্বাস বাইরে থাকেন। খুব একটা এলাকাতেও তাঁকে দেখা যায় না। তাঁর বাড়ি ঘিরে ফেলেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। যা নিয়ে রীতিমতো উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। ঠিক কারা কারা এই চক্রের সঙ্গে জড়িত তা জানার চেষ্টা করছে ইডি। জানা গিয়েছে, ২০১৪ থেকে ২০২০, এই ছ'বছরে বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমেও টাকা তোলা হয়েছে। মোটা অঙ্কের সুদের টোপ দিয়ে প্রায় ১৬৫ কোটি টাকা প্রতারণা করা হয়েছে বলে দাবি। ক'বছরে প্রায় ১৯ হাজার মানুষ প্রতারণার শিকার হয়েছে। একটি এফআইআরের ভিত্তিতে করা মামলায় এবার তদন্ত করে দেখছে ইডি। তদন্ত চলায় আগামী দিনে এই মামলায় আরও নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে।
বলে রাখা প্রয়োজন, আজ, মঙ্গলবার ঐতিহাসিক ২১ জুলাই। যদিও পরিবর্তনের বাংলায় কলকাতায় তিনটি শহিদ দিবসের অনুষ্ঠান হচ্ছে। যা নিয়ে ক্রমশ চড়ছে রাজনৈতিক পারদ। এর মধ্যেই ইডি তল্লাশি ঘিরে আরও বেড়েছে উত্তেজনা।
E-Paper

