পুর নিয়োগ মামলায় ইডি দফতরে হাজিরা সুজিতের জামাইয়ের, ডাক পেলেন পরিবারের আরও ৪

যদিও ইডির এক আধিকারিক দাবি করেছেন, কয়েক মাস আগেই সুজিতের মেয়ে ও তাঁর স্বামীর মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে। তবে এই তথ্য তদন্তে কতটা প্রাসঙ্গিক, তা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি সংস্থা।

Published on: Nov 17, 2025 5:49 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তদন্তে তৎপর ইডি। সোমবার দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর জামাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিস পাঠানো হয়েছিল। সেই নির্দেশমতো তিনি ইডি অফিসে হাজিরও হন। তাঁকে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, লেনদেন ও ব্যক্তিগত আর্থিক কার্যক্রম সংক্রান্ত নথিপত্র সঙ্গে আনতে বলা হয়েছিল। ইডির সূত্রের দাবি, তল্লাশিতে পাওয়া কয়েকটি নথি পর্যালোচনার পরে সুজিতের জামাইয়ের ভূমিকা এবং আর্থিক লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলেই তাঁকে জেরা করা হচ্ছে।

দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু। 
দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু। 

আরও পড়ুন: সামনে নয়া তথ্য, সুজিত বসুর অফিস সহ ১৩ জায়গায় ইডি হানায় বাজেয়াপ্ত ৪৫ লাখ টাকা নগদ

পুর নিয়োগে অনিয়ম সংক্রান্ত তদন্তে গত কয়েক সপ্তাহে কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে ইডি। সল্টলেক সেক্টর ওয়ানের যে ভবনে সুজিত বসুর দফতর ছিল, সেখানেও পৌঁছয় তদন্তকারী দল। তাছাড়া দমকলমন্ত্রীর পরিবারের মালিকানাধীন বলে দাবি করা একটি রেস্তরাঁ এবং গোলাহাটায় তাঁদের একটি ধাবায় তল্লাশি চালানো হয়। ধাবাটি মন্ত্রীপুত্রের বলে জানা গিয়েছে। এসব জায়গা থেকেই ইডি বেশ কিছু আর্থিক নথি ও লেনদেনের রেকর্ড উদ্ধার করে, যা পুর নিয়োগ দুর্নীতির স্রোত কোন কোন ব্যবসায় ঢুকেছে তা বুঝতে তদন্তকারীদের দিশা দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইডি সূত্রের দাবি, পুর নিয়োগ দুর্নীতির মাধ্যমে যে অর্থ আদানপ্রদান হয়েছে, তার একটি অংশ বিভিন্ন হোটেল, রেস্তরাঁসহ কিছু ব্যক্তিগত ব্যবসায় ঢুকেছে সন্দেহ করা হচ্ছে। যেহেতু সুজিত বসুর জামাই এবং তাঁর পরিবারও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, তাই তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, ঋণ সংক্রান্ত নথি ও আর্থিক কার্যক্রম খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেয় ইডি। সেই কারণেই সুজিতের জামাইকে প্রথম দফায় হাজিরা দিতে বলা হয়। যদিও ইডির এক আধিকারিক দাবি করেছেন, কয়েক মাস আগেই সুজিতের মেয়ে ও তাঁর স্বামীর মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে। তবে এই তথ্য তদন্তে কতটা প্রাসঙ্গিক, তা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি সংস্থা।

এখানেই থেমে থাকছে না তদন্ত। সুজিত বসুর স্ত্রী, কন্যা এবং পুত্র পরিবারের আরও তিন সদস্যকেও ইডি নোটিস পাঠায়। মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে তাঁদের প্রত্যেককে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁদেরও ব্যাঙ্ক লেনদেন, ঋণের কাগজপত্র এবং ব্যক্তিগত আর্থিক নথি সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তের সূত্রপাত হয়েছিল স্কুল সার্ভিস দুর্নীতি তদন্তের সময়। ব্যবসায়ী অয়ন শীলকে সিবিআই গ্রেফতার করার পর তাঁর সল্টলেক অফিসে তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছিল একগুচ্ছ ওএমআর শিট। সেই নথি থেকেই সামনে আসে পুরসভার নিয়োগেও জালিয়াতির চক্র। অয়নের সংস্থা পুর নিয়োগে ওএমআর ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিল। সেই সূত্রে একে একে বহু দপ্তর ও ব্যক্তির উপর নজর রাখে কেন্দ্রীয় সংস্থা। আর্থিক অনিয়মের দিকটি সামনে আসতেই তদন্তে নামে ইডিও।

News/Bengal/পুর নিয়োগ মামলায় ইডি দফতরে হাজিরা সুজিতের জামাইয়ের, ডাক পেলেন পরিবারের আরও ৪