শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, এই সব ক্ষেত্রে আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য কোনও ছাড় আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে এবং নথি যাচাইয়ের সময় ১৯৯৭ সনে জন্মানো এবং মাত্র পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ইন্টারভিউ তালিকায় ঢোকা এক প্রার্থীর বিষয়টিও দেখা হবে।
এসএসসিতে শিক্ষক নিয়োগে শূন্যপদ বাড়ানোর ইঙ্গিত শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর। সোমবার বিকাশ ভবনে তিনি জানান, এসএসসির নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরে শূন্যপদ বাড়ানোর বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং আইনি দিকগুলো খতিয়ে দেখার পরে এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও একাদশ-দ্বাদশের ইন্টারভিউ তালিকায় ঠাঁই না পাননি কয়েক হাজার প্রার্থী যাদের ৩১ ডিসেম্বর থেকে চাকরিহারা হওয়ার আশঙ্কা। তাদের ক্ষেত্রে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হতেই সরকার সমস্ত বিকল্প খতিয়ে দেখবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ইন্টারভিউ তালিকা প্রকাশের পর দেখা গেছে, শুধুমাত্র একাদশ-দ্বাদশের জন্য পরীক্ষা দিয়েছেন এমন অনেকে যাঁরা নবম-দশমের পরীক্ষায় অংশ নেননি, সেটিগুলোতে যোগ্যতা অর্জন না করায় তাদের চাকরির অধিকার বিঘ্নিত হচ্ছে। এমন অভিযোগে ক্ষুব্ধ শিক্ষক চিন্ময় মণ্ডলসহ অনেকে রাজ্য বিজেপির দফতরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও দেখা করেছেন। শুভেন্দু দাবি করেছেন যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাকরি দেবেন না এবং বছরগুলোতে শূন্য পদ লোপ হয়েছে, পাশাপাশি নবীন পরীক্ষার্থীদের ফর্ম ফিল-আপ ফি ফিরিয়ে দিতে হবে। তালিকায় উঠে আসা বিতর্কনামা নামগুলোর মধ্যে নীতীশরঞ্জন বর্মণের কেসও আছে। তাঁর বাবা কেশব বর্মণ জানান, নীতীশ শ্রবণ প্রতিবন্ধী, ২০১৬ সালে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কোটা থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করেছেন এবং মেধা তালিকায়ও নাম রয়েছে। কিন্তু এই ধরনের বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের কোটাকে কেন্দ্র করে ইন্টারভিউ তালিকায় হাস্যরসাত্মকভাবে ‘অযোগ্য’ বা ‘অন্যায়ভাবে ডাকা’ ইস্যু উঠায় বিতর্ক উসকে উঠেছে।
শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, এই সব ক্ষেত্রে আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য কোনও ছাড় আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে এবং নথি যাচাইয়ের সময় ১৯৯৭ সনে জন্মানো এবং মাত্র পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ইন্টারভিউ তালিকায় ঢোকা এক প্রার্থীর বিষয়টিও দেখা হবে। ব্রাত্য দাবি করেছেন, নীতীশ ছাড়া আর কোনও অযোগ্যের নাম ইন্টারভিউ তালিকায় উঠেনি, তবু সব নথি যাচাই হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত কিছু বলা যাবে না। সরকারের এই সঙ্কটময় রূপরেখায় যোগ্যরা আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলছেন, তারা প্রতিবাদে প্রস্তুত। শিক্ষামন্ত্রী শূন্যপদ বাড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া এবং আইনি বিষয়গুলোয়ের পরিপূর্ণ পর্যালোচনা অপরিহার্য বলে জানিয়েছেন।