Election Commission: দ্বিতীয় দফায় ভোটকর্মীর আকাল! প্রথম দফার কর্মীদের ফের ডিউটিতে নিয়োগ কমিশনের

Election Commission: নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, মোট ১৭ হাজার ২৭৬ জন কেন্দ্রীয় কর্মচারী, যাঁরা পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফার ভোটে কাজ করেছেন, তাঁদের অবিলম্বে জেলাভিত্তিক নিয়োগ করতে হবে দ্বিতীয় দফার ভোটে। প্রিসাইডিং অফিসার-সহ মোট চার ক্ষেত্রে ভোটকর্মীদের নিয়োগ করা হবে।

Published on: Apr 26, 2026, 16:21:39 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Election Commission: ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের আগে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৯ এপ্রিল সাত জেলায় দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ হবে। কিন্তু তার আগে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভোটকর্মীদের ঘাটতি দেখা দেওয়ায়, প্রথম দফায় নির্বাচন হয়ে যাওয়া জেলাগুলো থেকে কর্মীদের দ্বিতীয় দফার জেলাগুলিতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ২৪ এপ্রিল এই মর্মে একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক।

প্রথম দফার কর্মীদের ফের ডিউটিতে নিয়োগ কমিশনের (Jitender Gupta)
প্রথম দফার কর্মীদের ফের ডিউটিতে নিয়োগ কমিশনের (Jitender Gupta)

সূত্রের খবর, দ্বিতীয় দফা ভোটের জন্য জেলাগুলোতে দরকারি ভোটকর্মীর বেশ অভাব দেখা দিয়েছে। এই সমস্যা মেটাতে নির্বাচন কমিশন একটি নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যারা গত প্রথম দফার ভোটে ডিউটি করে ফেলেছেন (বিশেষ করে কেন্দ্রীয় সরকারি এবং রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার কর্মীরা), তাঁদের আবারও দ্বিতীয় দফার ভোটে ডিউটিতে পাঠানো হবে। অর্থাৎ এক জেলার কর্মীদের অন্য জেলায় যেখানে অভাব আছে, সেখানে পাঠানো হচ্ছে। জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (ডিইও) নির্দেশিকা দিয়ে কমিশন জানিয়েছে, প্রথম দফায় দায়িত্ব পালন করা কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের আবার দ্বিতীয় দফায় নিয়োগ করতে হবে। জরুরি ভিত্তিতে সব ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাঁদের নিয়োগপত্র দিতে বলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, মোট ১৭ হাজার ২৭৬ জন কেন্দ্রীয় কর্মচারী, যাঁরা পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফার ভোটে কাজ করেছেন, তাঁদের অবিলম্বে জেলাভিত্তিক নিয়োগ করতে হবে দ্বিতীয় দফার ভোটে। প্রিসাইডিং অফিসার-সহ মোট চার ক্ষেত্রে ভোটকর্মীদের নিয়োগ করা হবে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাতেই নিয়োগ করা হচ্ছে ৬ হাজার ৬২০ জন ভোটকর্মী। তারপরেই রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা। ওই জেলায় মোট ৫ হাজার ৬৮০ জনকে নিয়োগ করা হচ্ছে, যাঁরা প্রত্যেকেই প্রথম দফার ভোটে কাজ করেছেন। এছাড়াও নদিয়ায় নিয়োগ করা হচ্ছে ১,৭৪৫ জনকে। তাঁদের মধ্যে তেহট্ট বিধানসভাতেই বেশি। হাওড়ার ডোমজুড় বিধানসভা কেন্দ্রে ২২১ জনকে নিয়োগ করতে চলেছে কমিশন। হাওড়ার অন্যত্র ৫০৩ জনকে নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ হাওড়ায় মোট ৭২৪ জনকে নিয়োগ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, দক্ষিণ কলকাতায় ১, ১০৯ জন, হুগলিতে ৭১২ জন এবং পূর্ব বর্ধমানে ৬৮৬ জন ভোটকর্মীকে নতুন করে নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। পাশাপাশি কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, এই বদলির আগে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসকদের মধ্যে পারস্পরিক আলোচনা ও সমন্বয় থাকা বাধ্যতামূলক। প্রতিটি ভোটকর্মীকে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য দ্রুত নিয়োগপত্র জারি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে ভোটের দিন কোনওভাবেই ভোটগ্রহণের কাজে ব্যাঘাত না ঘটে।

অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের এই নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভোটকর্মী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল। তাঁর প্রশ্ন, কেন শুধু কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারীদের নিয়োগের কথা বলল কমিশন। ভোটকর্মী সঙ্কট মেটাতে রাজ্য সরকারের কর্মচারীদেরও তো নিয়োগ করা যেত! রাজ্য সরকারের অনেক কর্মচারী রয়েছেন, যাঁরা এখনও ভোটের কোনও কাজ পাননি। তাঁদের নিয়োগ না-করে প্রথম দফার ভোটে কাজ করা কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের আনা হচ্ছে দ্বিতীয় দফার ভোটে। স্বপনের কথায়, ‘এই ধরনের ঘটনা আমরা এর আগে দেখিনি।’ তবে তিনিও সুষ্ঠু এবং অবাধ নির্বাচনের পক্ষে সওয়াল করেছেন।