পরিকল্পনামাফিক বাঁকুড়ায় ১৫০ কিলোমিটার, পুরুলিয়ায় ১০০ কিলোমিটার এবং বীরভূম ও বর্ধমানে মিলিয়ে আরও ৫০ কিলোমিটারের রাস্তায় চার মিটার অন্তর অন্তর তালচারা বসানো হবে। রাস্তার ধারের এমন জায়গাগুলি বেছে নেওয়া হচ্ছে যা বনভূমির অন্তর্ভুক্ত নয়, ফলে চারা রক্ষা করা ও বড় করে তোলার কাজ তুলনামূলকভাবে সহজ হবে।
গ্রামবাংলার চিরচেনা ছবি, রাস্তার ধারে, মাঠের আলে কিংবা পুকুরপাড়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা সারি সারি তালগাছ। একসময় এই দৃশ্য ছিল গ্রামাঞ্চলের স্বাভাবিক পরিচিতি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অকারণে গাছ কাটার প্রবণতা, শহরায়ন ও চাষের জমির বিস্তারের কারণে কমতে শুরু করেছে তালগাছের সংখ্যা। আর তারই সরাসরি ফল হিসেবে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বছর বছর বাড়ছে বজ্রপাতে মৃতের সংখ্যা। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি বদলাতে এবার বড় উদ্যোগ নিল রাজ্যের বন দফতর।
আগামী বর্ষায় দক্ষিণবঙ্গের চার জেলায় প্রায় ৭৫ হাজার তালগাছের চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। বন দফতর সূত্রে জানা গেছে, পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে মোট ৩০০ কিলোমিটার রাস্তার দুই ধারে পর্যায়ক্রমে তালের চারা লাগানোর কাজ শুরু হয়েছে। মুখ্য বনপাল (দক্ষিণ পশ্চিম চক্র) বিদ্যুৎ সরকার জানিয়েছেন, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূম ও পূর্ব বর্ধমান এই চার জেলায় বৃহৎ পরিসরে তালগাছ লাগানোর পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে।
বনবিশেষজ্ঞদের মতে, তালগাছ বজ্রপাত প্রতিরোধে স্বাভাবিকভাবেই অত্যন্ত কার্যকর। এর উচ্চতা সাধারণত ১০০ ফুটের বেশি হয় এবং শিকড় মাটির গভীর স্তর পর্যন্ত প্রবেশ করে। বজ্রপাতের সময় তালগাছ স্বাভাবিক আর্থিং-এর মতো আচরণ করে বিদ্যুৎকে মাটির গভীরে নামিয়ে দেয়। ফলে আশেপাশের মানুষ ও ঘরবাড়ি তুলনামূলকভাবে নিরাপদ থাকে। তাই বজ্রপাতে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা বিশেষত স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল এবং জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলের চারপাশে তালগাছ লাগানো প্রয়োজন বলে মনে করছে প্রশাসন।
বন দফতর সূত্রের খবর, বাঁকুড়ার কেন্দ্রীয় চক্র, পুরুলিয়ার দক্ষিণ পশ্চিম চক্র, বীরভূম ও বর্ধমানের দক্ষিণ পূর্ব চক্রে তালগাছ লাগানোর পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই কার্যকর করতে পদক্ষেপ করা হচ্ছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাজ্যের প্রধান মুখ্য বনপাল (অর্থ) ও এই প্রকল্পের নোডাল অফিসার রাজু দাস তিনটি চক্রের আধিকারিকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে বিস্তারিত নির্দেশ দিয়েছেন। পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া এই দুই জেলায় বজ্রপাতে মৃত্যু সবচেয়ে বেশি। সরকারি তথ্য বলছে, দক্ষিণবঙ্গের কিছু জেলায় বছরে ৬০ থেকে ৭০ জন পর্যন্ত মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। এর অন্যতম কারণ তাল ও খেজুর গাছের সংখ্যা দ্রুত কমে যাওয়া।
পরিকল্পনামাফিক বাঁকুড়ায় ১৫০ কিলোমিটার, পুরুলিয়ায় ১০০ কিলোমিটার এবং বীরভূম ও বর্ধমানে মিলিয়ে আরও ৫০ কিলোমিটারের রাস্তায় চার মিটার অন্তর অন্তর তালচারা বসানো হবে। রাস্তার ধারের এমন জায়গাগুলি বেছে নেওয়া হচ্ছে যা বনভূমির অন্তর্ভুক্ত নয়, ফলে চারা রক্ষা করা ও বড় করে তোলার কাজ তুলনামূলকভাবে সহজ হবে। ইতিমধ্যেই চারা তৈরির জন্য প্রচুর বীজ সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে।