WB Rail Projects Land Alloaction Update: পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা একাধিক কেন্দ্রীয় রেল প্রকল্পের গতি বাড়াতে এক বড়সড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল নবান্ন। রাজ্যে জমি জটের কারণে থমকে থাকা মোট ৬১টি গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রকল্পের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সমস্ত সরকারি দফতরের অবিলম্বে রেল কর্তৃপক্ষের হাতে জমি তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার কলকাতায় এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এই সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের জানান।

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে রাজ্যের সার্বিক অর্থনৈতিক বিকাশ এবং উন্নত যোগাযোগ পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই রেল প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই ইতিবাচক এবং কঠোর মনোভাবের ফলে রাজ্যে রেলের পরিকাঠামো ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতায় যে প্রকল্পগুলি বছরের পর বছর ফাইলের তলায় চাপা পড়েছিল, এবার সেগুলির কাজ দ্রুত গতিতে শুরু হতে চলেছে।
সীমান্তবর্তী এলাকাতেও কাটল জট: নজর নন্দীগ্রাম ও হিলিতে
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু আজ জানান, উত্তর দিনাজপুর জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী হিলি এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রামের মতো ভৌগোলিক দিক থেকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতেও রেল প্রকল্পের জমি জট পুরোপুরি কেটে গিয়েছে। এই প্রকল্পগুলি দীর্ঘদিন ধরে শুধুমাত্র জমি বরাদ্দের অভাবে স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সমস্ত সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগকে কড়া নির্দেশ দিয়েছি যাতে কোনওপ্রকার লাল ফিতের ফাঁসি বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা না রেখে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে চিহ্নিত জমি রেলওয়ের হাতে হস্তান্তর করা হয়।’
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, রাজ্যে সদ্য গঠিত 'ডবল ইঞ্জিন' সরকারের সুফল খুব দ্রুতই সাধারণ মানুষ ভোগ করতে পারবেন। কেন্দ্রে ও রাজ্যে একই রাজনৈতিক দলের সরকার থাকার কারণে উন্নয়নমূলক কাজের গতি যে বহুগুণ বৃদ্ধি পায়, এই রেল প্রকল্পগুলির দ্রুত অগ্রগতিই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হতে চলেছে।
পুরোদমে চলছে চিংড়িঘাটা মেট্রো লাইনের কাজ
রাজ্যে সদ্য গঠিত রাজনৈতিক সমীকরণের কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী আত্মবিশ্বাসের সুর ফুটিয়ে তোলেন। তিনি বলেন, গত ৯ মে রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকেই রাজ্যে থমকে থাকা উন্নয়নমূলক কাজগুলি যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু করা হয়েছে। এর একটি বড় উদাহরণ হিসেবে তিনি পূর্ব কলকাতার চিংড়িঘাটা ক্রসিংয়ের ৩৬৬ মিটার দীর্ঘ ভায়াডাক্ট নির্মাণের কাজকে তুলে ধরেন। নিউ গড়িয়া-বিমানবন্দর মেট্রো লাইনের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশটি বিগত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় পুলিশি ও প্রশাসনিক অনুমতির অভাবে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছিল। নতুন সরকার গঠনের পর সমস্ত প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও অনুমতি দ্রুত মঞ্জুর করা হয়েছে এবং বর্তমানে সেখানে কাজ পুরোদমে চলছে।
'বাংলা এগোলেই এগোবে ভারত'
উন্নয়নের এই মডেল প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের এই ডবল ইঞ্জিনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাংলার প্রতিটি কোণায় উন্নয়নের গতিকে ত্বরান্বিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, পশ্চিমবঙ্গ যদি শিল্প, বাণিজ্য ও পরিকাঠামো ক্ষেত্রে এগিয়ে না যায়, তবে ভারতের সার্বিক অগ্রগতির লক্ষ্য অধরা থেকে যাবে। তাঁর কথায়, ‘একটি উন্নত ও সমৃদ্ধশালী ভারত তখনই গঠন করা সম্ভব, যখন বাংলা উন্নয়নের মূল স্রোতে সবার আগে এগিয়ে আসবে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একসঙ্গে মিলেমিশে কাজ করবে।’