Howrah Station: ট্রেন লেট কমাতে রেলের বড় পদক্ষেপ, হাওড়া স্টেশনে চালু ২৪ নং প্ল্যাটফর্ম, দাঁড়াতে পারবে ২৬ বগির ট্রেন
নতুন প্ল্যাটফর্মটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৩৫ মিটার, যা বর্তমানে হাওড়া স্টেশনের দীর্ঘতম প্ল্যাটফর্ম। এতদিন ৯ নম্বর প্ল্যাটফর্ম ছিল সবচেয়ে বড়। নতুন প্ল্যাটফর্মে একসঙ্গে প্রায় ২৬ বগির ট্রেন সহজেই দাঁড় করানো যাবে। এর ফলে দীর্ঘ দূরত্বের একাধিক এক্সপ্রেস ট্রেন পরিচালনায় সুবিধা হবে।
Howrah Station 24 No. Platform: সিগন্যালে ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকা, প্ল্যাটফর্মের অভাব এবং দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা—হাওড়া স্টেশনের নিত্যদিনের এই সমস্যার সমাধানে বড় পদক্ষেপ নিল ভারতীয় রেল। সোমবার থেকে যাত্রী পরিষেবার জন্য চালু হল হাওড়া স্টেশনের নতুন ২৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম। রেলের দাবি, এই নতুন প্ল্যাটফর্ম চালু হলে দীর্ঘ দূরত্বের ট্রেন পরিচালনা আরও সহজ হবে এবং ধীরে ধীরে ট্রেন দেরির সমস্যাও অনেকটাই কমবে।

হাওড়া ভারতের অন্যতম ব্যস্ততম রেলস্টেশন। প্রতিদিন কয়েক লক্ষ যাত্রী এই স্টেশন ব্যবহার করেন। যাত্রীসংখ্যা ও ট্রেন চলাচলের তুলনায় প্ল্যাটফর্মের সংখ্যা এবং পরিকাঠামো দীর্ঘদিন ধরেই চাপের মুখে ছিল। বিশেষ করে দীর্ঘ দূরত্বের ট্রেনের ক্ষেত্রে প্ল্যাটফর্ম না পাওয়ায় অনেক সময় সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় ট্রেনকে। সেই সমস্যা দূর করতেই নতুন ২৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন প্ল্যাটফর্মটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৩৫ মিটার, যা বর্তমানে হাওড়া স্টেশনের দীর্ঘতম প্ল্যাটফর্ম। এতদিন ৯ নম্বর প্ল্যাটফর্ম ছিল সবচেয়ে বড়। নতুন প্ল্যাটফর্মে একসঙ্গে প্রায় ২৬ বগির ট্রেন সহজেই দাঁড় করানো যাবে। এর ফলে দীর্ঘ দূরত্বের একাধিক এক্সপ্রেস ট্রেন পরিচালনায় সুবিধা হবে বলে মনে করছে রেল কর্তৃপক্ষ।
এই প্ল্যাটফর্ম নির্মাণে প্রায় ২.৬৯ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে শুধু নতুন প্ল্যাটফর্মই নয়, হাওড়া স্টেশনের সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজও চলছে জোরকদমে। হাওড়া ডিভিশন সূত্রে খবর, ১০-১১ এবং ১২-১৩ নম্বর প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণের কাজ চলছে। পাশাপাশি ১৬ নম্বর প্ল্যাটফর্মেও উন্নয়নের কাজ অব্যাহত রয়েছে।
রেল কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, হাওড়া স্টেশনে আধুনিক 'রুট রিলে ইন্টারলকিং' (Route Relay Interlocking) ব্যবস্থা বসানো হচ্ছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ট্রেন চলাচল আরও নিরাপদ ও দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। সিগন্যালিং ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের ফলে ট্রেন পরিচালনায় দক্ষতা বাড়বে বলেও আশা করা হচ্ছে।
হাওড়া ডিভিশনের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) জানিয়েছেন, বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব রেল ও পূর্ব রেলের লাইন সংযোগের কাজ চলায় অনেক ট্রেন নির্ধারিত সময়ে স্টেশন ছাড়তে পারছে না। একই কারণে স্টেশনে প্রবেশ ও প্রস্থানেও বিলম্ব হচ্ছে। তাঁর কথায়, এই জংশন সংক্রান্ত কাজ শেষ হলে ট্রেন দেরির সমস্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।
শুধু হাওড়াই নয়, রাজ্যের বিভিন্ন স্টেশনেও পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, তারকেশ্বর, লিলুয়া, আজিমগঞ্জ, ডানকুনি, রামপুরহাট এবং কাটোয়া স্টেশনে একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি যাত্রীদের সুবিধার্থে বিভিন্ন স্টেশনে লিফট বসানোর কাজও শুরু হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে হাওড়া, সাঁইথিয়া, বালি, রিষড়া, বেলুড়, শেওড়াফুলি, চন্দননগর, ব্যান্ডেল ও লিলুয়া-সহ আরও একাধিক স্টেশনে লিফট বসানো হবে।
রেলের আশা, নতুন প্ল্যাটফর্ম, আধুনিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা এবং চলমান পরিকাঠামো উন্নয়নের ফলে হাওড়া স্টেশনে ট্রেন পরিচালনা আরও সুসংহত হবে। এর সরাসরি সুফল পাবেন প্রতিদিনের লক্ষ লক্ষ যাত্রী, যাঁদের দীর্ঘদিনের ট্রেন লেট ও প্ল্যাটফর্ম-সংক্রান্ত ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


