আন্তর্জাতিক জলসীমা লঙ্ঘন, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আটক ২ বাংলাদেশি ট্রলার, তৎপর গোয়েন্দারা
আটক হওয়া ট্রলারগুলির নৌ-রুট, ব্যবহৃত সরঞ্জাম, জিপিএস ও নেভিগেশন সিস্টেম খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে কোনও অসংগতি বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পথবদলের প্রমাণ সামনে আসে কি না, তা নিশ্চিত করা যায়।
দিল্লি বিস্ফোরণের তদন্তে যখন বাংলাদেশের যোগসূত্র নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই বঙ্গোপসাগরে একের পর এক বাংলাদেশি ট্রলারের আন্তর্জাতিক জলসীমা অতিক্রম করে ঢুকে পড়ার ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা কর্মীদের মধ্যে। আগেই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা বিএসএফ ও উপকূলরক্ষী বাহিনীকে বাড়তি সতর্কতা জারি করেছিল। সেই সতর্কতার মাঝেই মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ফের ভারতীয় জলসীমায় ঢুকে পড়ল আরও একটি বাংলাদেশি ট্রলার এফবি ‘মায়ের দোয়া’। ট্রলারটিতে ছিল ২৬ জন মৎস্যজীবী।

আরও পড়ুন: জেলমুক্তি হতে চলেছে ৯৫ ভারতীয় মৎসজীবীর, রবিবার হস্তান্তর করবে বাংলাদেশ
রবিবার বিকেলে উপকূলরক্ষী বাহিনীর টহলদারি জাহাজ ট্রলারটিকে আটক করে। রাতেই সেটিকে এবং ওই ২৬ জনকে ফ্রেজারগঞ্জ মৎস্যবন্দরে নিয়ে আসা হয় এবং পরে ফ্রেজারগঞ্জ উপকূল থানার হাতে তুলে দেওয়া হয়। ধৃতরা সত্যিই মৎস্যজীবী কি না, নাকি মৎস্যজীবীর পরিচয়কে আড়াল করে সুন্দরবনের উপকূল ঘেঁষে অনুপ্রবেশের চেষ্টা হচ্ছিল, তা জানতেই তাদের গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। এর মাত্র আগের রাতেই উপকূলরক্ষী বাহিনী আটক করেছিল আরও একটি ট্রলার এফবি ‘আমিনা গনি’। সেই ট্রলার থেকে ধরা পড়ে ২৯ জন বাংলাদেশি। ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই দ্বিতীয় ট্রলার-সহ এতজন বাংলাদেশির গ্রেপ্তার হওয়ায় আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটক হওয়া ট্রলারগুলির নৌ-রুট, ব্যবহৃত সরঞ্জাম, জিপিএস ও নেভিগেশন সিস্টেম খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে কোনও অসংগতি বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পথবদলের প্রমাণ সামনে আসে কি না, তা নিশ্চিত করা যায়।
বাংলাদেশে উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় জলসীমার নিরাপত্তা আগের তুলনায় আরও কঠোর করা হয়েছে। উপকূলজুড়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বহু গুণ। সোমবার দুপুরে ধৃত ৫৫ জন বাংলাদেশিকে কাকদ্বীপ মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁদের ১৪ দিনের জেলা হেফাজতের নির্দেশ দেন। সাগর এসডিপিও সুমনকান্তি ঘোষ জানিয়েছেন, ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী জানিয়েছিল যে ট্রলারগুলো ভারতীয় জলসীমা লঙ্ঘন করে ঢুকে পড়েছে। সেই তথ্য পাওয়ার পরই গ্রেফতার ও তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।












