যুব সমাজকে নিশানা, আইএসআইয়ের মাদক নেটওয়ার্ক নিয়ে গোয়েন্দাদের সতর্কবার্তা, রিপোর্ট
আইএসআইয়ের নির্দেশে বাংলাদেশের ভারতসীমান্ত লাগোয়া গ্রামগুলিতে ডি-কোম্পানির নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে। ছোট ছোট ম্যানুফ্যাকচারিং হাব, গোপন গোডাউন, আন্তর্জাতিক রুটে বিশেষ মডিউল সবই তৈরি। এখন শুধু দরকার ‘ক্যারিয়ার’।
তিন পাকিস্তানি যুবক সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের মাটিতে ছুড়ে দিল তিনটি প্যাকেট। তারপর? গোয়েন্দাদের কাছে ছবিটা ভয়ংকরভাবে পরিচিত যেন বাস্তবে ফিরে আসছে ‘উড়তা পাঞ্জাব’-এর দৃশ্য। মাদক, অপরাধ, অস্থিরতা যা একটি দেশের যুবসমাজ ও অর্থনীতির ভিত নষ্ট করে দিতে পারে নিমেষে। ভারতে এখন ঠিক সেই গন্ধই পাচ্ছেন নিরাপত্তা সংস্থার আধিকারিকেরা। বহুদিন ধরে কালো টাকা দিয়ে দেশের অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করার চেষ্টা চালিয়েছে পাকিস্তান। এবার সরাসরি নিশানা ভারতের যুবসমাজ। আর সেই পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে আইএসআই।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানি ISI-এর হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে রাজস্থানে গ্রেফতার ব্যক্তি
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতজুড়ে অপরাধ এবং সামাজিক অশান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে মাদককে প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। তাদের লক্ষ্য দুই দিকেই প্রথমত, ভারতীয় যুবকদের মাদকাসক্ত করে তছনছ করা, দ্বিতীয়ত, সেই মাদক ব্যবসার টাকা দিয়ে জঙ্গি পরিকাঠামো গড়ে তোলা।
তথ্য বলছে, আইএসআই এখন ডি কোম্পানিকে পুরোপুরি সামনে রেখে নেশার বাজারে আগ্রাসী ঢেউ তুলতে চাইছে। দাউদ ইব্রাহিমের এই সিন্ডিকেট বাংলাদেশে একাধিক মাদক উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিয়েছে। সেখান থেকেই ভারতমুখী বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরির পরিকল্পনা চলছে। ফলত, ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত জুড়ে নজরদারি আরও কড়া করেছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলি।
মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, উত্তর ২৪ পরগনা এই পাঁচ জেলার সীমান্ত এখন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। গোয়েন্দাদের রিপোর্ট বলছে, নির্ভুল পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছে ডি সিন্ডিকেট। দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচারের মাধ্যমে যে বিপুল অঙ্কের অর্থ আইএসআই সংগ্রহ করেছে, তা জঙ্গি ঘাঁটি পুনর্গঠনে লাগানো হচ্ছে। পহেলগাঁও ঘটনার পর ভারতের সেনা যে একাধিক পাকিস্তানি জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে, সেগুলিকে আবার সক্রিয় করতে বিপুল তহবিলের প্রয়োজন। সেই অর্থ জোগাড়ের বড় অংশই আসছে মাদক ব্যবসা থেকে।
আইএসআইয়ের নির্দেশে বাংলাদেশের ভারতসীমান্ত লাগোয়া গ্রামগুলিতে ডি-কোম্পানির নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে। ছোট ছোট ম্যানুফ্যাকচারিং হাব, গোপন গোডাউন, আন্তর্জাতিক রুটে বিশেষ মডিউল সবই তৈরি। এখন শুধু দরকার ‘ক্যারিয়ার’। ভারতীয় যুবকদের দিকে তাকিয়ে আছে এই মাদকচক্র। লোভনীয় টাকার প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদেরকে পাচারচক্রে টেনে আনার পরিকল্পনা শুরু হয়েছে বলেই দাবি গোয়েন্দাদের।
শুধু বাংলাদেশ নয়, মায়ানমার থেকে পরিচালিত আন্তর্জাতিক মাদকমাফিয়াদের সঙ্গেও হাত মিলিয়েছে ডি কোম্পানি। অর্থাৎ, তিন দিক থেকে ভারতকে চেপে ধরার কৌশল নেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক হল, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বর্তমান ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে ভারতমুখী মাদক চক্রকে আরও মসৃণ করতে চাইছে আইএসআই। মাত্র কয়েক দিন আগেই মুর্শিদাবাদের রানিনগরে বিএসএফের গুলিচালনার ঘটনা তার বড় প্রমাণ। লালগোলা, জলঙ্গি, সাগরপাড়া, রানিতলা, সামশেরগঞ্জ এই সব সীমান্ত এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই অনুপ্রবেশের চেষ্টা ধরা পড়ছে।












