Annapurna Yojana: মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে শুরু ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার', কতজনের অ্যাকাউন্টে ঢুকল ৩ হাজার টাকা?

Annapurna Yojana: এদিন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, এই প্রকল্প শুধুমাত্র যোগ্য ভারতীয় নাগরিকদের জন্যই সংরক্ষিত। মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, উপভোক্তা তালিকাভুক্তি এবং ফর্ম বিলির জন্য ইতিমধ্যেই ব্যাপক হারে প্রচার চালানো হয়েছে। 

Published on: Jun 03, 2026 2:33 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Annapurna Yojana: রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর সবচেয়ে বড় ঘোষণাগুলির মধ্যে অন্যতম ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার।’ পুরনো ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পকে আরও বড় আকারে এনে এবার মহিলাদের মাসে ৩ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো ‘অন্নপূর্ণা যোজনার’ (অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার) পথ চলা। এদিন সরাসরি ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের (ডিবিটি) মাধ্যমে রাজ্যের প্রায় ২৮ লক্ষেরও বেশি মহিলা উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে শুরু ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার' (HT_PRINT)
মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে শুরু ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার' (HT_PRINT)

এদিন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, এই প্রকল্প শুধুমাত্র যোগ্য ভারতীয় নাগরিকদের জন্যই সংরক্ষিত। মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, উপভোক্তা তালিকাভুক্তি এবং ফর্ম বিলির জন্য ইতিমধ্যেই ব্যাপক হারে প্রচার চালানো হয়েছে। প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অনুমোদিত উপভোক্তাদের তালিকা ব্লক থেকে পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত সাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। এছাড়া, কোনও অযোগ্য ব্যক্তি সুবিধা নিচ্ছেন কিনা, তা জানানোর জন্য একটি বিশেষ অভিযোগ কেন্দ্রও খোলা হয়েছে। রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল নিশ্চিত করেছেন যে, ইতিপূর্বেই যারা আবেদন করেছেন, আজ থেকেই সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকতে শুরু করবে। তিনি আরও জানান, ভুয়ো আবেদন ঠেকাতে ১২ পাতার একটি ফর্ম পূরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই ফর্মগুলি বর্তমানে ব্লক অফিস, মহকুমা শাসক (এসডিও) দফতর এবং বিধায়কদের অফিসে পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি একটি অনলাইন পোর্টালও চালু করা হয়েছে, যেখানে আবেদন করার ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যেই অর্থ বরাদ্দ করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, 'এসআইআর-এর পরে দেখা গেছে অনেক মানুষ এ দেশের নয়। তাই আমরা নতুন করে ফর্ম পূরণ করার সিদ্ধান্ত নিই। ১ লক্ষ ২১ হাজার সিএএ তে আবেদন করেছেন। আরও অনেকে অত‍্যাচারিত হয়ে বাংলাদেশ থেকে এ দেশে এসেছেন। আরও মানুষ সিএএ র মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাবেন। কিন্তু যাঁরা অবৈধ ভাবে এ দেশে ঢুকেছেন তাঁরা এই অন্নপূর্ণা যোজনা পাবেন না। মহিলাদের জন্য স্কিমে পুরুষেরা যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুযোগ পাচ্ছিলেন তারা এই টাকা পাবেন না। আমি আশ্বস্ত করতে চাই যারা একান্তই নিজেরা আসতে পারবেন না আমাদের প্রতিনিধি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম ফিলআপ করিয়ে আসবে। ফর্ম ফিলআপ হয়ে গেলে ভেরিফিকেশন হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে টাকা ঢুকে যাবে। ভারতীয় নাগরিকত্ব যাঁদের নেই তাঁরা পাবেন না। ২৮ লক্ষ ২৫ হাজার ৭৬৯ জনের অ্যাকাউন্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজির গ্যারান্টি স্কিম ডাবল ইঞ্জিন সরকার অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করল। আরও সুযোগ থাকবে আবেদন করার।'

জালিয়াতি রুখতে স্ক্রুটিনি ও ক্র্যাকডাউন

বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আর্থিক তছরুপ রুখতে অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি জানান, প্রতি সাত দিন অন্তর উপভোক্তাদের তালিকা যাচাই করা হবে যাতে কোনও অননুমোদিত ব্যক্তি সরকারি টাকা না পায়। পূর্বতন সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে প্রায় ৩০ লক্ষ ভুয়ো অ্যাকাউন্টের অস্তিত্ব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বতন সরকারের আমলে বহু ক্ষেত্রে নিয়ম লঙ্ঘন করে পুরুষদের নামও মহিলাদের কল্যাণমূলক প্রকল্পে ঢোকানো হয়েছিল। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই বেশ কিছু গ্রেফতারি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, 'বিশাল অঙ্কের ডিবিটি (ডিবিটি) জালিয়াতির তদন্ত চলছে। কয়েক হাজার কোটি টাকা ভুতুড়ে অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লুট করা হয়েছে। তৃণমূল স্তর থেকে এই দুর্নীতি নির্মূল করতে আইনের মাধ্যমে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।'

রাজ্য সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, যারা এখনও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের নতুন ফর্ম পূরণ করতে পারেননি, তাঁদের দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই। কোনও মহিলার আর্থিক সুরক্ষা বিঘ্নিত না হয়, তার জন্য নতুন আবেদন যাচাই এবং অনুমোদিত না হওয়া পর্যন্ত উপভোক্তারা আগের কাঠামোর অধীনেই আর্থিক সহায়তা পেতে থাকবেন। এদিন রাজ্যজুড়ে ব্লক, পুরসভা এবং কলকাতা পুরনিগম স্তরে ভার্চুয়ালি এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উদ্বোধনের দিনেই প্রতিটি এলাকা থেকে নির্বাচিত ১০০ জন উপভোক্তার হাতে অনুমোদনের শংসাপত্র বা ‘স্যাংশন লেটার’ তুলে দেওয়া হয়েছে। এসডিও এবং বিডিও-দের মাধ্যমে উপভোক্তা চিহ্নিতকরণের পর জেলাশাসক বা পুর কমিশনারের চূড়ান্ত অনুমোদনের ভিত্তিতেই এই সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। আগামী ৯০ দিন ধরে এই প্রক্রিয়া চলবে। আবেদনকারীকে ১২ পাতার একটি নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করতে হবে, যা সরকারি আধিকারিকদের দ্বারা যাচাই হওয়ার পরেই নাম নথিভুক্ত হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, যারা নিজে থেকে ফর্ম পূরণ করতে পারবেন না, তাদের সহায়তার জন্য আগামী ১৫, ১৬ এবং ১৭ জুন বিশেষ জনকল্যাণ শিবিরের আয়োজন করা হবে। এলাকায় এলাকায় বিধায়কদের উপস্থিতিতে এই প্রক্রিয়া তদারকি করা হবে যাতে কোনও যোগ্য মহিলা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন।