মাছ ধরতে গিয়ে বাংলাদেশি নৌসেনার হাতে ধৃত, জেলে রহস্যমৃত্যু কাকদ্বীপের মৎস্যজীবীর

ভারতীয় মৎস্যজীবীকে বাংলাদেশের নৌসেনা আটক করে। ১৫ জুলাই মংলা বন্দরের কাছে তাঁদের গ্রেফতার করা হয় এবং মংলা থানায় মামলা হয়। পরে বাগেরহাট আদালতের নির্দেশে সবাইকে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়। সেই থেকে বাবুল বাংলাদেশের জেলেই বন্দি ছিলেন।

Published on: Nov 16, 2025 10:15 AM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

আন্তর্জাতিক জলসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশ নৌসেনার হাতে গ্রেফতারের চার মাস পর জেলবন্দি অবস্থায় মৃত্যু হল সুন্দরবনের এক মৎস্যজীবীর। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে শনিবার সন্ধ্যায় সেই খবর পৌঁছতেই শোকে স্তব্ধ হয়ে যায় গোটা পরিবার ও পাড়া। মৃতের পরিবারের দাবি, এটি কোনও স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, পরিকল্পিত অত্যাচারের জেরেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

মাছ ধরতে গিয়ে বাংলাদেশি নৌসেনার হাতে আটক, জেলে রহস্যমৃত্যু কাকদ্বীপের মৎস্যজীবীর
মাছ ধরতে গিয়ে বাংলাদেশি নৌসেনার হাতে আটক, জেলে রহস্যমৃত্যু কাকদ্বীপের মৎস্যজীবীর

আরও পড়ুন: আর আবেদন-নিবেদন নয়, সমুদ্র সাথীর টাকা না পেয়ে মাইকে প্রচার শুরু জেলে পাড়ায়!

মৃত মৎস্যজীবীর নাম বাবুল দাস। হারউড পয়েন্ট কোস্টাল থানার রামকৃষ্ণ গ্রাম পঞ্চায়েতের পশ্চিম গঙ্গাধরপুরের বাসিন্দা বাবুল জন্মগতভাবে মূক ও বধির ছিলেন। সংসারের দায় মাথায় নিয়ে ট্রলারে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতেই তাঁর জীবিকা। জুলাই মাসে ‘এফবি মঙ্গলচণ্ডী-৩৮’ ট্রলারে চেপে বঙ্গোপসাগরের দিকে রওনা দেন তিনি। সেই সময় ভুলবশত আন্তর্জাতিক জলসীমা অতিক্রম করায় বাবুল-সহ মোট ৩৪ জন ভারতীয় মৎস্যজীবীকে বাংলাদেশের নৌসেনা আটক করে। ১৫ জুলাই মংলা বন্দরের কাছে তাঁদের গ্রেফতার করা হয় এবং মংলা থানায় মামলা হয়। পরে বাগেরহাট আদালতের নির্দেশে সবাইকে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়। সেই থেকে বাবুল বাংলাদেশের জেলেই বন্দি ছিলেন।

শনিবার হঠাৎ পরিবারের কাছে বাংলাদেশ থেকে খবর আসে, জেলে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে বাবুলের। খবর পাওয়ার পর থেকেই কান্নায় ভেঙে পড়ে তাঁর পরিবার। গোটা এলাকাতেই নেমে আসে শোকের ছায়া। কিন্তু পরিবারের অভিযোগ, বাবুল একদমই সুস্থ ছিলেন, কোনও শারীরিক অসুখ ছিল না। তাঁর ভাই বাসুদেব দাস জানান, দাদা মূক-বধির হলেও শারীরিকভাবে সবল ছিল। ওর হঠাৎ মৃত্যুর খবর শুনে প্রথমেই সন্দেহ হয়। তিনি মনে করেন, জেলের ভিতরে অত্যাচার করে দাদাকে মেরে ফেলা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, এটি নিছক দুর্ঘটনা বা অসুস্থতার মৃত্যু নয় পরিকল্পিত খুন।

স্থানীয় মৎস্যজীবী সংগঠনও এই মৃত্যুকে ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সুন্দরবন শ্রমজীবী মৎস্য ইউনিয়নের সম্পাদক সতীনাথ পাত্র শনিবার বাবুলের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি জানিয়েছেন, দ্রুত বাবুলের দেহ ভারত ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি কীভাবে একজন সুস্থ মৎস্যজীবীর হঠাৎ মৃত্যু হল, তা নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশ্ন তোলার দাবি উঠছে।

News/Bengal/মাছ ধরতে গিয়ে বাংলাদেশি নৌসেনার হাতে ধৃত, জেলে রহস্যমৃত্যু কাকদ্বীপের মৎস্যজীবীর