Kalyan Banerjee: 'মমতা দির কাছে নতুন গাড়ি চেয়েছিলেন...,' সুদীপের শিবির বদলের জল্পনার মধ্যেই বিস্ফোরক কল্যাণ
Kalyan Banerjee on Sudip Bandopadhayay: শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদের দাবি, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের যাওয়ার অনেক কারণ থাকতে পারে। এক সময় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় যখন রোজভ্যালি মামলার অভিযুক্ত হিসেবে জেল হেফাজতে ছিলেন, তখন কীভাবে তিনি আইনি সাহায্য করেছিলেন, সে কথা মনে করিয়ে দেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
Kalyan Banerjee on Sudip Banerjee: বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙন ও ‘বিদ্রোহ’ এখন কার্যত প্রতিদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দলের এই চরম খারাপ সময়ে এবার সম্পূর্ণ ‘বেসুরো’ হয়ে পড়েছেন উত্তর কলকাতার তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে হঠাৎ দেখা যায় তাঁকে। সঙ্গে ছিলেন বীরভূমের আর এক ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ শতাব্দী রায়। স্বাভাবিকভাবেই দলের এই কঠিন দিনে সুদীপের এই ‘দিল্লি যাত্রা’ নিয়ে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তৃণমূলের মমতা-পন্থীরা। বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ আগেই বিদ্রোহীদের নিশানা করেছিলেন; এবার বর্ষীয়ান সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করলেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিস্ফোরক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদের দাবি, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের যাওয়ার অনেক কারণ থাকতে পারে। এক সময় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় যখন রোজভ্যালি মামলার অভিযুক্ত হিসেবে জেল হেফাজতে ছিলেন, তখন কীভাবে তিনি আইনি সাহায্য করেছিলেন, সে কথা মনে করিয়ে দেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, সুদীপের জন্য দলের অনেক টাকা খরচ হয়েছে। তাঁর কথায়, 'সুদীপ দা যদি রোজভ্যালি-কাণ্ডে ইডি-র মামলা থেকে অব্যাহতি চান, তাহলে সুবিধা হবে, তাই হয়ত সুদীপ দা গিয়েছেন। ওঁর তো এমন একটা অভ্যাস আছে। কংগ্রেসে গিয়েছিলেন, আবার তৃণমূলে এসেছেন। তারপরও মমতা দি ওঁকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করেছে। সুদীপ দা কিছুদিন আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে একটা নতুন গাড়ি চেয়েছিলেন। কারণ দিল্লির গাড়িটা ১৭ বছর হয়ে গিয়েছে। নতুন গাড়ি চাই। মমতা দি দেননি। বলেছেন, ‘এখন গাড়ি দেওয়া সম্ভব নয়, দলের পুরনো গাড়ি আছে, ইচ্ছে হলে ব্যবহার করুন’। সুতরাং সুদীপ দা কী কারণে গিয়েছেন, তা বলা মুস্কিল।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতিরিক্ত সুদীপ-প্রীতির সমালোচনা করে কল্যাণ আক্ষেপের সুরে বলেন, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অন্ধের মতো সুদীপদাকে সমর্থন করে গিয়েছেন। শুধুমাত্র সুদীপদার কথা ভেবে তিনি বাকি সমস্ত সাংসদ-বিধায়কদের সব অভিযোগ এক ফুঁয়ে নস্যাৎ করে দিয়েছিলেন। সুদীপদার অতিরিক্ত দাপটের কারণেই তো যোগ্য নেতা তাপস রায় পর্যন্ত এক সময় দল ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। উত্তর কলকাতার বহু কাউন্সিলরদেরও ওঁর বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ ছিল, সেটাও নেত্রী কখনও কানে তোলেননি; একমাত্র সুদীপদাকে স্নেহ করতেন আর ভালোবাসতেন বলে। আর আজ দল ক্ষমতা হারাতেই সেই ভালবাসার মানুষটাই নেত্রীকে ছেড়ে চলে গেলেন, বাংলার মানুষ ও কর্মীরা এই বিশ্বাসঘাতকতা আজীবন মনে রাখবে।' এই প্রেক্ষিতে বিজেপিকেও নিশানা করতে ছাড়েননি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সাফ কথা, বিজেপির কাছে ব্যাপারটা ইগোর লড়াই হয়ে গেছে। কারণ তাঁরা সম্প্রতি সংসদে কয়েকটি বিল পাস করাতে পারেনি। তাই এইভাবে বিরোধীদের শেষ করে দেওয়ার চক্রান্ত করছে। তৃণমূল সাংসদের মতে, দেশে বিরোধী না থাকলে কিছুই থাকবে না। গণতন্ত্রই শেষ হয়ে যাবে। যদিও বিজেপির এটাই টার্গেট।
অন্যদিকে, দমদমের সাংসদ সৌগত রায় বলেন, 'কয়েকদিন আগে সুদীপের সঙ্গে কথা হয়েছিল। বলেছিল, আমি কোথাও যাচ্ছি না। গেলে তোমাদের জানাব। কিন্তু আজ শতাব্দীর সঙ্গে একই গাড়িতে দেখা গেল। এটা মানুষের নৈতিকতার ব্যাপার।'
Home/Bengal/Kalyan Banerjee: 'মমতা দির কাছে নতুন গাড়ি চেয়েছিলেন...,' সুদীপের শিবির বদলের জল্পনার মধ্যেই বিস্ফোরক কল্যাণ