Kalyan Banerjee slams TMC Muslim MPs: ‘তোমাদের নেতা এখন মোদী’, বিদ্রোহী সংখ্যালঘু সাংসদদের নিশানা কল্যাণের
কল্যাণের বক্তব্য, যাঁরা তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁদের উচিত নিজেদের বিধানসভা এলাকায় গিয়ে কর্মী-সমর্থকদের মুখোমুখি হওয়া। তিনি বলেন, 'যাঁদের ভোটে জিতে এসেছেন, যাঁরা আপনাদের জন্য লড়াই করেছেন, তাঁদের সঙ্গে বৈঠক করুন। গেরুয়া শিবিরের লোকজনকে নিয়ে বৈঠক করবেন না।'
তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলে ভাঙনের আবহে বিদ্রোহী সাংসদদের বিরুদ্ধে আক্রমণের ঝাঁজ আরও বাড়ালেন দলের প্রবীণ নেতা ও সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশেষ করে এনডিএ-তে যোগদানের ইচ্ছাপ্রকাশ করা সংখ্যালঘু সাংসদদের উদ্দেশে তিনি কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, 'আবু তাহের, খলিলুর রহমান, তোমাদের নেতা কিন্তু এখন নরেন্দ্র মোদী। এটা মনে রেখো।' তৃণমূলের একাধিক সাংসদ দল ছেড়ে এনডিএ-র দিকে ঝুঁকেছেন বলে জল্পনার মধ্যে চারজন সংখ্যালঘু সাংসদের নামও উঠে এসেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইউসুফ পাঠান, সাজদা আহমেদ, আবু তাহের খান এবং খলিলুর রহমান। এই প্রেক্ষাপটেই তাঁদের উদ্দেশে কটাক্ষ ছুড়ে দেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

তাঁর বক্তব্য, যাঁরা তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁদের উচিত নিজেদের বিধানসভা এলাকায় গিয়ে কর্মী-সমর্থকদের মুখোমুখি হওয়া। তিনি বলেন, 'যাঁদের ভোটে জিতে এসেছেন, যাঁরা আপনাদের জন্য লড়াই করেছেন, তাঁদের সঙ্গে বৈঠক করুন। গেরুয়া শিবিরের লোকজনকে নিয়ে বৈঠক করবেন না।' বিদ্রোহী সাংসদদের অন্যতম অভিযোগ ছিল, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বিরুদ্ধে তাঁদের একাধিক ক্ষোভ ছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে কল্যাণ প্রশ্ন তোলেন, যদি সত্যিই অভিযোগ থেকে থাকে, তাহলে তার কোনও লিখিত প্রমাণ বা ই-মেল কেন প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে না। তাঁর দাবি, অভিযোগের কথা বলা হলেও তার কোনও নথি এখনও সামনে আসেনি।
একইসঙ্গে দলের মহিলা সাংসদদেরও কটাক্ষ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এতদিন কেউ কোনও অভিযোগ তোলেননি। বরং নেতৃত্বকে খুশি রাখতেই ব্যস্ত ছিলেন অনেকে। বিদ্রোহী শিবিরের উদ্দেশে আরও একধাপ এগিয়ে কল্যাণ বলেন, দীর্ঘদিন মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বৃত্তে থাকার অভ্যাস থেকেই আজও তাঁরা ক্ষমতার কাছাকাছি থাকতে চাইছেন। তবে বিজেপি তাঁদের গ্রহণ করবে না বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, বিভিন্ন বিতর্কিত ঘটনার সঙ্গে কারা যুক্ত ছিলেন, সে সম্পর্কে বিজেপি অবগত এবং তাই “কলঙ্কিত” নেতাদের দলে নেওয়া হবে না।
তারকা সাংসদদের নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি কল্যাণ। তাঁর মন্তব্য, জনপ্রিয়তার জোরে ভোটে জেতা আর সংসদীয় রাজনীতিতে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া এক বিষয় নয়। তিনি দাবি করেন, সংগঠনের শক্তি না থাকলে অনেকেই নির্বাচনে জয়ী হতে পারতেন না। অন্যদিকে, তৃণমূলের এই সংকটের মধ্যেই প্রাক্তন মন্ত্রী তাপস রায় আরও তীব্র মন্তব্য করেছেন। তাঁর দাবি, দল যত দ্রুত রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হবে, ততই গণতন্ত্র ও বাংলার পক্ষে মঙ্গলজনক হবে। সংসদীয় দলে এই অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি মন্তব্যের জেরে তৃণমূলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


