এজরা স্ট্রিটে অগ্নিকাণ্ডের জেরে কঠোর পুরসভা, একাধিক পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত ফিরহাদের
বৈঠক শেষে মেয়র ফিরহাদ হাকিম স্পষ্ট ভাষায় জানান, এজরা স্ট্রিটে তারের জঙ্গল আর থাকতে দেওয়া যাবে না। সব তারকে ডাক্টে ঢোকানো হবে। প্রয়োজনে মাটির নীচ দিয়ে যাওয়া হবে। পাশাপাশি ধর্মীয় স্থান ঘিরে যেসব দোকান গজিয়েছে তার স্ট্যাটাস জানতে চাওয়া হয়েছে।
এজরা স্ট্রিটের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে সেখানে কত বিপদ লুকিয়ে আছে। মেছুয়া ফলপট্টির আগুন সামলাতে না সামলাতেই গত সপ্তাহে আবার ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ১২ তলা বাণিজ্যিক ভবন। সেই ঘটনার পরই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম, এবার আর অবহেলা নয়, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেমে পড়বে পুরসভা। সোমবার সপ্তাহের প্রথম দিনেই সেই প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবায়িত করে কলকাতা কর্পোরেশনের কনফারেন্স রুমে হয়ে গেল গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক।

আরও পড়ুন: পুলিশের সমালোচনা মানেই সমাজবিরোধী, বিতর্কিত মন্তব্য মেয়র ফিরহাদ হাকিমের
বৈঠকে হাজির ছিলেন পুলিশ, দমকল, সিইএসসি, এজরা স্ট্রিটের ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা এবং পুরকর্তারা। আর সেখানে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা বদলে দিতে পারে পুরো এলাকার নিরাপত্তা কাঠামো। মেয়র সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, এজরা স্ট্রিটে আর থাকবে না মাকড়সার জালের মতো ঝুলন্ত বৈদ্যুতিক ও কেবল টিভির তার। এগুলোকে তুলে নিয়ে ঢোকানো হবে নির্দিষ্ট ডাক্টে। প্রয়োজনে সিইএসসি মাটির নীচ দিয়েও তার নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করতে পারে।
আগুন লাগার অন্যতম কারণ হিসেবে তারের জটকেই চিহ্নিত করেছিলেন মেয়র। বৈঠকেও সেই ইস্যু সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেয়েছে। কারণ স্পষ্ট, এত ঘিঞ্জি জায়গায় জটলা তার যেকোনও মুহূর্তে বিস্ফোরণ বা শর্ট সার্কিটের জন্ম দিতে পারে। আবার আগুন লাগলে দমকলের ল্যাডার বা ইঞ্জিন বাধাহীনভাবে ঢুকতে না পারার ফলে আগুন দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়। সেই চিত্র এজরা স্ট্রিটে সবাই প্রত্যক্ষ করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও সমস্যা, হকারদের দখলদারি। ফুটপাত থেকে রাস্তা পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকা ডালা, বেআইনি দোকান আর অবাধ পার্কিং জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজকে বিপর্যস্ত করে। মেয়রের বৈঠকে তাই বেআইনি দোকান উচ্ছেদ থেকে শুরু করে পার্কিং নিয়ন্ত্রণ, সবই খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে একটি ধর্মীয় স্থানকে কেন্দ্র করে যেভাবে বহু দোকান গজিয়ে উঠেছে, তার আইনি অবস্থান জানতে চেয়েছেন মেয়র, যা নিয়ে তদন্ত শুরু হবে।
ফায়ার অডিট জোরদার করা, দমকল বিভাগের সারপ্রাইজ পরিদর্শন, এবং ভবনগুলির অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সচল আছে কি না নিয়মিত পরীক্ষা, এসব বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। মেয়রের নির্দেশ, কোনও ভবনে ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা অকার্যকর থাকলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
বৈঠক শেষে মেয়র ফিরহাদ হাকিম স্পষ্ট ভাষায় জানান, এজরা স্ট্রিটে তারের জঙ্গল আর থাকতে দেওয়া যাবে না। সব তারকে ডাক্টে ঢোকানো হবে। প্রয়োজনে মাটির নীচ দিয়ে যাওয়া হবে। পাশাপাশি ধর্মীয় স্থান ঘিরে যেসব দোকান গজিয়েছে তার স্ট্যাটাস জানতে চাওয়া হয়েছে।












