Foolbagan Temple ₹44 Lakh Theft: মন্দির তহবিল থেকে ৪৪ লক্ষ টাকা চুরির অভিযোগ, তদন্তে ফুলবাগান থানার পুলিশ

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বেলেঘাটার সুভাষ সরোবর সংলগ্ন একটি প্রাচীন মন্দিরের পরিচালন সমিতির কয়েকজন সদস্য এই অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁদের দাবি, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে মন্দিরের দানপত্রে জমা হওয়া অর্থের কোনও সঠিক হিসাব সমিতির কাছে পেশ করা হয়নি।

Published on: Jul 17, 2026, 09:14:17 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Foolbagan Temple 44 Lakh Theft: পূর্ব কলকাতার বেলেঘাটায় একটি মন্দিরের তহবিল থেকে প্রায় ৪৪ লক্ষ টাকারও বেশি তছরূপের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় ফুলবাগান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে মন্দির পরিচালন সমিতি। অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। মন্দিরের দানপত্রে জমা হওয়া অর্থ এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারীরা।

পূর্ব কলকাতার বেলেঘাটায় একটি মন্দিরের তহবিল থেকে প্রায় ৪৪ লক্ষ টাকারও বেশি তছরূপের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পূর্ব কলকাতার বেলেঘাটায় একটি মন্দিরের তহবিল থেকে প্রায় ৪৪ লক্ষ টাকারও বেশি তছরূপের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বেলেঘাটার সুভাষ সরোবর সংলগ্ন একটি প্রাচীন মন্দিরের পরিচালন সমিতির কয়েকজন সদস্য এই অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁদের দাবি, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে মন্দিরের দানপত্রে জমা হওয়া অর্থের কোনও সঠিক হিসাব সমিতির কাছে পেশ করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভক্ত এবং কমিটির সদস্যদের মধ্যে প্রশ্ন উঠছিল। সম্প্রতি নথিপত্র খতিয়ে দেখার পরই বিপুল অঙ্কের আর্থিক গরমিল সামনে আসে বলে অভিযোগ।

অভিযোগ অনুযায়ী, মন্দিরের দানপত্রে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১২ হাজার টাকা জমা পড়ে। সেই হিসেবে গত ১৬ বছরে শুধুমাত্র দানপত্র থেকেই প্রায় ২৩ লক্ষ টাকার বেশি জমা হওয়ার কথা। কিন্তু এই অর্থ কোথায় গিয়েছে, তার কোনও নির্ভরযোগ্য হিসাব পাওয়া যায়নি। শুধু তাই নয়, অভিযোগকারীদের দাবি, প্রায় ১৬ বছর আগে মন্দিরের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ২১ লক্ষ টাকা জমা ছিল। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে সেই অ্যাকাউন্টে আর কোনও অর্থ জমা পড়েনি বলে অভিযোগ।

মন্দির পরিচালন সমিতির সদস্যদের বক্তব্য, দানপত্র এবং তহবিলের দায়িত্বে যিনি ছিলেন, তাঁকে একাধিকবার হিসাব দিতে বলা হলেও তিনি কোনও সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি। ভক্তদের প্রশ্নেরও স্পষ্ট জবাব মেলেনি। এরপরই বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয় এবং শেষ পর্যন্ত থানার দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কমিটি।

পুলিশের কাছে জমা পড়া অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, দানপত্রে জমা হওয়া অর্থ এবং ব্যাঙ্কের তহবিল মিলিয়ে মোট ৪৪ লক্ষ টাকারও বেশি তছরূপ হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পরই ভারতীয় ন্যায় সংহিতার প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে ফুলবাগান থানার পুলিশ।

তদন্তকারী আধিকারিকরা জানিয়েছেন, মন্দিরের আর্থিক নথি, ব্যাঙ্কের লেনদেনের বিবরণ এবং দানপত্র সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। দানপত্রের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিকে শীঘ্রই তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। প্রয়োজন হলে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হবে। তদন্তে আর কারও ভূমিকা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও মন্দিরের ভক্তদের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মন্দিরের আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তার কোনও সদুত্তর পাওয়া যায়নি। ফলে এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। অনেকেরই দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সামনে আনা হোক এবং কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

তবে এখনও পর্যন্ত এই মামলায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং তহবিলের প্রকৃত হিসাব মিলিয়ে দেখার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে মন্দির কমিটি, ভক্ত এবং স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More