Abhishek Banerjee: অভিষেকের বাড়ি ‘শান্তিনিকেতন’-এ কলকাতা পুলিশ, নেপথ্যে কোন কারণ?
Abhishek Banerjee: সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তি ও বাড়ির বেআইনি অংশ ভাঙার বিষয়ে নোটিস দিয়েছিল কলকাতা পুরসভা। নোটিসে উল্লেখিত দিন অনুযায়ী, সোমবার অর্থাৎ আজই কলকাতা পুরসভার দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা।
Abhishek Banerjee: সোমবার দুপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন ‘শান্তিনিকেতন’-এ হঠাৎই পুলিশের প্রবেশ ঘিরে শোরগোল পড়ে গেল। বেআইনি নির্মাণ বিতর্কের মধ্যেই ভরদুপুরে সাদা উর্দিধারী এবং সাধারণ পোশাকের কয়েক জন পুলিশকর্মী ডায়মন্ড-হারবারের তৃণমূল সাংসদের বাড়িতে বাসভবনে প্রবেশ করেন। কিছুক্ষণ তল্লাশির পর বাড়ির ভেতর থেকে একটি মনিটর নিয়ে তাঁদের বেরিয়ে আসতে দেখা যায়, যা পরে ‘কলকাতা পুলিশ’ লেখা একটি সাদা গাড়িতে তোলা হয়। তবে কী কারণে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পুলিশ গিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে কী কোনও বিশেষ তদন্ত, নাকি নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনও কারণ? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বত্র।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে পুলিশ
সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তি ও বাড়ির বেআইনি অংশ ভাঙার বিষয়ে নোটিস দিয়েছিল কলকাতা পুরসভা। নোটিসে উল্লেখিত দিন অনুযায়ী, সোমবার অর্থাৎ আজই কলকাতা পুরসভার দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা। রবিবারই কলকাতা পুরসভার নোটিসের জবাবের জন্য কলকাতা পুরসভার কাছে সময় চেয়ে চিঠি দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন অভিষেকের আবেদনে সাড়া দিয়ে ১০ দিনের সময়সীমা বাড়িয়েছে কলকাতা পুরসভা। এই আবহেই সোমবার বিকেলে অভিষেকের হরিশ মুখার্জি ঠিকানায় পৌঁছে যায় কলকাতা পুলিশের একটি টিম। একটি কালো গাড়িতে এসে বাড়িতে ঢুকে যান দুই আধিকারিক। বেআইনি নির্মাণ ঘিরে বিতর্কের মাঝেই শান্তিনিকেতনে পুলিশ আধিকারিকদের সারপ্রাইজ ভিজিট নিয়ে শোরগোল পড়ে যায়।
কিছুক্ষণ পর আধিকারিকরা বেরোনোর সময় দেখা যায়, তাঁদের হাতে একটি মনিটর ছিল। কী কারণে অভিষেকের বাড়ি থেকে মনিটর নিয়ে যাওয়া হল? যদিও সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে কোনও জবাব দেননি আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস কোম্পানির নামেই রেজিস্টার্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হরিশ মুখার্জি রোডের 'শান্তিনিকেতন।' তৃণমূল শাসনকালে থাকাকালীনই একাধিক দুর্নীতির তদন্তে এই কোম্পানির নাম বারবার উঠে এসেছে বিতর্কের কেন্দ্রে। বেআইনি নির্মাণের জবাব দিতে সোমবার কলকাতা পুরসভার 'ডেডলাইন' নোটিস দেওয়ার পরেই আচমকা শান্তিনিকেতনে কলকাতা পুলিশ পৌঁছতেই একাধিক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কী লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের সঙ্গে জড়িত বিষয়েই নতুন করে কলকাতা পুলিশের নজরে শান্তিনিকেতন? নাকি বেআইনি নির্মাণ নোটিসের মাঝে নিরাপত্তার সংক্রান্ত কারণে আচমকা অভিষেকের 'দুয়ারে' পুলিশ?
প্রসঙ্গত, তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেকের বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি ও বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তার স্বার্থেই কলকাতা পুলিশের তরফে লাগানো হয়েছিল সিসিটিভি ও একাধিক মনিটর। সূত্রের খবর, অভিষেকের বাড়ির বেআইনি অংশ ভাঙার নোটিসের মাঝেই সেই সিসিটিভি ও মনিটরগুলি নিয়ে কলকাতা পুলিশের নিরাপত্তা দফতরে শুরু হয়েছে আলোচনা। পুরসভার নোটিসের জবাবদিহি না করলে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে, তা নিয়েও প্রশাসনিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।
বেলেঘাটার বহুতলে বুলডোজার
অবৈধ নির্মাণের ক্ষেত্রে 'জিরো টলারেন্স' নীতি বর্তমান শুভেন্দু অধিকারী সরকারের। এই পরিস্থিতিতে তাই আঁতসকাচের নিচে বেলেঘাটার তৃণমূল নেতা তথা প্রোমোটার রাজু নস্কর। সোমবার তার নির্মীয়মাণ বহুতলেই চলল বুলডোজার। আর তারই মাঝে ফ্ল্যাটের ক্রেতাদের রোষানলে রাজু শাগরেদ। তাকে রাস্তাতেই চড়, থাপ্পড় মারা যায়। পরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী পরিস্থিতি সামাল দেয়। জানা গেছে, বেলেঘাটার ৩৭ নম্বর বারোয়ারিতলা রোড এবং ১ ই ইস্ট কুলিয়া রোডের ওই দুটি বহুতলে মোট ১৬টি ফ্ল্যাট রয়েছে। দু'টি বেআইনিভাবে তৈরি। তাই ভাঙার নোটিস দিয়েছে পুরসভা। ইস্ট কুলিয়া রোডের বহুতলটি ইতিমধ্যে বুলডোজার চালিয়ে একাংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। এই খবর পাওয়া মাত্রই দৌড়ে যান ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা। সেই সময় স্কুটিতে চড়ে যাচ্ছিলেন রাজুর শাগরেদ। তাঁকে ঘিরে ধরেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তর্কাতর্কি বাঁধে। মারধরও করা হয় বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, যাকে মারধর করা হয়েছে তিনি আসলে দালাল। রাজু নস্করের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। সে কারণেই মার খান ওই ব্যক্তি।
বলে রাখা ভালো, গত ফেব্রুয়ারি মাসে বেলেঘাটার এক বাসিন্দাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধরের অভিযোগ ওঠে। সেই সময় রাজুকে গ্রেফতার করা হয়। স্থানীয় সূত্রে খবর, সেই সময় রাজু নস্করের এই ফ্ল্যাটগুলি নিয়ে তৃণমূল সরকারের আমলে আপত্তিও ওঠে। তবে সেসবে নাকি আমলই দেননি রাজু নস্কর। পরিবর্তে ফ্ল্যাটের জন্য যাঁরা টাকা দিয়ে রেখেছিলেন তাঁদের আশ্বাস দেন কোনও সমস্যা হবে না। সময়মতো ফ্ল্যাট হস্তান্তরের কাজ হয়ে যাবে বলেই আশ্বাসও দিয়েছিলেন। অথচ সরকারের পালাবদলের পর থেকেই রাজু 'গায়েব'। যাঁরা ফ্ল্যাট কিনেছেন, রাজু নস্করের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তাঁরা। অভিযোগ, বেআইনি জমির উপর যে বহুতল নির্মাণ করা হয়েছে, তা আগে জানানো হয়নি। বরং সমস্ত নথিপত্র রয়েছে বলেই জানানো হয়। তবে এখনও পর্যন্ত বিল্ডিং প্ল্যান পাননি তাঁরা। এগ্রিমেন্ট পেপারও পাননি। অথচ তাঁদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বারবার রাজু নস্করের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে রাজুর অফিস তালাবন্ধ রয়েছে।
E-Paper

