Kunal Ghosh on Uttam Kumar: ‘এটা ইয়ার্কি হচ্ছে?’ উত্তমকুমারের মূর্তি নিয়ে বিস্ফোরক পোস্ট কুণাল ঘোষের

ফেসবুক পোস্টে কুণাল ঘোষ লিখেছেন, 'এটা উত্তমকুমারের মূর্তি? ইয়ার্কি হচ্ছে? এটা রাজ্য সরকার বসাল।' তাঁর বক্তব্য, মূর্তিটির চেহারা বা শিল্পমান কোনওভাবেই মহানায়ক উত্তমকুমারের ব্যক্তিত্বকে তুলে ধরতে পারেনি। তাই এমন একটি মূর্তি জনসমক্ষে রাখা উচিত নয় বলেই তাঁর মত।

Published on: Jul 27, 2026, 11:10:40 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

প্রয়াত মহানায়ক উত্তমকুমারের মূর্তিকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুণাল ঘোষ নিজের ফেসবুক পোস্টে ওই মূর্তির তীব্র সমালোচনা করে প্রশ্ন তুলেছেন, 'এটা উত্তমকুমারের মূর্তি? ইয়ার্কি হচ্ছে?' তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সরকারের উদ্যোগে স্থাপিত এই মূর্তি মহানায়কের মর্যাদার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। অবিলম্বে বর্তমান মূর্তি সরিয়ে যথাযথ মূর্তি স্থাপনের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

কুণাল ঘোষের অভিযোগ, রাজ্য সরকারের উদ্যোগে স্থাপিত মূর্তি মহানায়কের মর্যাদার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। (ANI Video Grab)
কুণাল ঘোষের অভিযোগ, রাজ্য সরকারের উদ্যোগে স্থাপিত মূর্তি মহানায়কের মর্যাদার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। (ANI Video Grab)

ফেসবুক পোস্টে কুণাল ঘোষ লিখেছেন, 'এটা উত্তমকুমারের মূর্তি? ইয়ার্কি হচ্ছে? এটা রাজ্য সরকার বসাল।' তাঁর বক্তব্য, মূর্তিটির চেহারা বা শিল্পমান কোনওভাবেই মহানায়ক উত্তমকুমারের ব্যক্তিত্বকে তুলে ধরতে পারেনি। তাই এমন একটি মূর্তি জনসমক্ষে রাখা উচিত নয় বলেই তাঁর মত। পোস্টে কুণাল আরও একটি রাজনৈতিক প্রশ্নও তোলেন। তিনি লেখেন, 'এই মূর্তি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্বোধন করলে কী হত ভাবতে পারছেন? মিডিয়া কতটা লাফাত, কতগুলো টক শো বসে যেত। এখন নীরবতা।'

তৃণমূল নেতার অভিযোগ, একই ঘটনা অন্য রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ঘটলে সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা এবং বিতর্কের ঝড় উঠত। কিন্তু বর্তমান ঘটনায় সেই মাত্রার প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি। শুধু সংবাদমাধ্যম নয়, বিজেপির অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্নের মুখে তুলেছেন তৃণমূল নেতা। পোস্টে তিনি লেখেন, 'বিজেপির অভিনেতা-অভিনেত্রীরা দেখতে পাচ্ছেন না?' তাঁর ইঙ্গিত, যাঁরা শিল্প-সংস্কৃতি নিয়ে সরব হন, তাঁদেরও এই বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মতামত জানানো উচিত।

কুণাল ঘোষের মতে, উত্তমকুমার শুধুমাত্র একজন অভিনেতা নন, তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক অনন্য প্রতিষ্ঠান। তাই তাঁর স্মৃতিকে সম্মান জানাতে হলে মূর্তিটিও হতে হবে মর্যাদাপূর্ণ এবং বাস্তবসম্মত। এই কারণেই তিনি রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়ে লিখেছেন, অবিলম্বে এই মূর্তি সরিয়ে ঠিকঠাক মূর্তি বসাক রাজ্য। উত্তমকুমারকে নিয়ে ছেলেখেলা করবেন না।

উত্তম কুমারের যে মূর্তি নিয়ে বিতর্ক
উত্তম কুমারের যে মূর্তি নিয়ে বিতর্ক

এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই কুণাল ঘোষের বক্তব্যকে সমর্থন করে দাবি করেছেন, জননন্দিত ব্যক্তিত্বদের মূর্তি নির্মাণের ক্ষেত্রে শিল্পমান এবং বাস্তবতার বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়া উচিত। আবার অন্য একাংশের মত, বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত রাজনৈতিক বিতর্ক না করে শিল্পীদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়াই বেশি প্রয়োজন।

উত্তমকুমার বাংলা সিনেমার ইতিহাসে ‘মহানায়ক’ হিসেবে পরিচিত। কয়েক দশক ধরে তাঁর অভিনয়, ব্যক্তিত্ব এবং জনপ্রিয়তা তাঁকে বাঙালির আবেগের অন্যতম প্রতীক করে তুলেছে। ফলে তাঁর মূর্তিকে ঘিরে যে কোনও বিতর্কই স্বাভাবিকভাবেই মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। যদিও কুণাল ঘোষের এই মন্তব্যের বিষয়ে এখনও রাজ্য সরকারের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। মূর্তি নির্মাণ বা স্থাপনের সঙ্গে যুক্ত কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু জানায়নি। তবে কুণাল ঘোষের এই পোস্টের পর মহানায়কের মূর্তির শিল্পমান এবং তা ঘিরে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, এই সমালোচনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনও পদক্ষেপ করে কি না।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More