Mamata Banerjee: 'বিধায়কদের ভয় দেখানো...,' BJP-কে হুঁশিয়ারি মমতার, বিস্ফোরক দুই বহিষ্কৃত নেতা
Mamata Banerjee: বর্তমানে তৃণমূলের অন্দরেই বিক্ষোভ বাড়ছে। এই আবহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'তৃণমূল কংগ্রেসকে আপনারা ভাঙতে চান? যতই চেষ্টা করুন, তৃণমূল কংগ্রেস আরও শক্তিশালী হবে। আর যাঁরা নিজেদের সম্পদ বাড়াতে বড় বড় কথা বলছেন, আমি নিজে আদালতে গিয়ে সওয়াল করেছি।'
Mamata Banerjee: তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ডামাডোল ক্রমশ বাড়ছে। একের পর এক নেতা ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। বিধায়কদের নিয়ে ডাকা বৈঠকে ৬০ জন অনুপস্থিত থাকছেন। এরমধ্যেই দলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল।এই পরিস্থিতিতে সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভে এসে বিজেপিকে নিশানা করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বললেন, 'গায়ের জোরে যা ইচ্ছে করে যান, তৃণমূলকে ভাঙা যাবে না।'

তৃণমূল বিধায়কদের ভয় দেখানো হচ্ছে!
সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, এবার থেকে সাংবাদিক বৈঠক করবেন না তিনি। তাঁর যা বলার, সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভে এসে বলবেন। এদিন উলুবেড়িয়া প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ ভিডিও করে তৃণমূলনেত্রী বলেন, 'তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কদের পুলিশ দিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে, দল ভাঙুন, অমুক লোকের সঙ্গে গিয়ে যোগাযোগ করুন। প্রথম ফোনটা পুলিশের তরফ থেকে যাচ্ছে। দ্বিতীয় ফোনটা বিজেপির কোনও না কোনও অফিস থেকে যাচ্ছে। বিধায়কদের ভয় দেখানো হচ্ছে। কালকে আমাকে চারজন বিধায়ক জানিয়েছে, তাঁরা যদি মিটিংয়ে তাহলে আর্মস,গাঁজা কেস দেওয়া হবে। আপনাকে গ্রেফতার করা হবে। এনআইএ, সিবিআই, ইডি আপনাকে ধরবে। এটা গণতন্ত্রের নমুনা?'
তিনি আরও বলেন, 'যারা রোজ গিয়ে বিজেপির সঙ্গে দেখা করছেন এবং তাদের কথা মতো সবাইকে ভয় দেখাচ্ছে তাঁদের আমার বহিষ্কার করেছি। এরমধ্যে একজন সাংসদও আছেন। তিনি আবার অন্যান্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ করছেন। অপরাধটা কী, তিনি তাঁর ছেলের জন্য টিকিট চেয়েছিলেন।সবার কী শুধু মা-বাবা বিধায়ক-সাংসদ হবেন? তাঁর ছেলেরাই শুধু টিকিট পাবেন আর কেউ পাবেন না?'
‘তৃণমূলকে ভাঙা যাবে না’
বর্তমানে তৃণমূলের অন্দরেই বিক্ষোভ বাড়ছে। এই আবহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'তৃণমূল কংগ্রেসকে আপনারা ভাঙতে চান? যতই চেষ্টা করুন, তৃণমূল কংগ্রেস আরও শক্তিশালী হবে। আর যাঁরা নিজেদের সম্পদ বাড়াতে বড় বড় কথা বলছেন, আমি নিজে আদালতে গিয়ে সওয়াল করেছি। মনে রাখবেন, কয়েকজন বিধায়ক ও সাংসদকে টাকা দিয়ে কিংবা ভয় দেখিয়ে ভেঙে তৃণমূলকে দুর্বল করা যায় না। গায়ের জোরে যা ইচ্ছে করে যান, তৃণমূলকে ভাঙা যাবে না। বাংলার মানুষের মাথা নত করা যাবে না। যারা বাংলার ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, আমি ছাত্র সমাজকে আহ্বান জানাব, আপনারা কেন প্রতিবাদ করছেন না? আপনারা সমাজের মেরুদণ্ড। আমরাও ছাত্র আন্দোলন করে এসেছি। যেখানে অন্যায় দেখেছি, আমরা প্রতিবাদ করেছি।'
তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজও নিজের অবস্থানে অনড়। এদিন ফের তাঁর মুখে শোনা গেল রিগিং তত্ত্ব। আবারও দাবি করলেন, তিনি হারেননি। ১৭৭ টি আসনে বিজেপি কারচুপি করে জিতেছে বলেই দাবি তাঁর। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'বাংলাকে টার্গেট করে হারিয়েছেন। প্রায় ১৭৭ টা সিটে আপনারা রিগ করেছেন, আমার কাছে সব খবর আছে। আমাকে মারতে মারতে কাউন্টিং সেন্টার থেকে বের করেছেন। তখন আমি এগিয়েছিলাম। তারপর আমাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদের তাপস চট্টোপাধ্যায় জিতে গিয়েছিল। পরেরদিন জোর করে রিকাউন্টিং করা হল। তারপর দেখানো হল ৩০০ ভোটে হেরে গিয়েছে।'
কী বললেন সন্দীপন সাহা?
অন্যদিকে, তৃণমূল থেকে বহিষ্কারের পর নিউজ ১৮ বাংলার তরফে যোগাযোগ করা হলে সন্দীপন সাহা বলেন, 'আমি কোনও অনৈতিক কাজের সঙ্গে নেই। আমরা অভিযোগ করেছি, স্বীকার করছি। কারণ অনৈতিক কাজ করব না আমরা। দলের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায় না। দলের মধ্যে কোনও কথা বলা যায় না। আগামিদিনে এই নিয়ে তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে সাহায্য করব সম্পূর্ণ ভাবে। ওই দলটা আর থাকবে না। দল উঠে যাবে।'
কী প্রতিক্রিয়া ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের?
এদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, 'আমরা স্পিকারকে গোটা বিষয়টা বলেছি। ক্যামাক স্ট্রিটের লোকেরাই সই করেছিল। পুষ্পাকে কেন গার্ড কড়া হয়েছিল তা নিয়ে সরব হয়েছিলাম। তৃণমূলের সংবিধানের নাম শপথ করিনি আমি। তাই নৈতিক কারণেই স্পিকারের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি কারণ স্পিকার কোনও দলের নন।'
এরমধ্যে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহার বহিষ্কার প্রসঙ্গে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, 'বাকি বিধায়কদের হাত জোড় করে অনুরোধ করছি ঋতব্রতর পাল্লায় পড়বেন না।' একইসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, 'দল ভাঙানোর খেলায় বিজেপিকে দোষ দেব না। আমরা ওদের লোককে একসময় নিয়েছি।'
E-Paper

