...
...
Next Story

Bengal Roads Renaming: গণিতজ্ঞ, দ্বিজাতি তত্ত্বের বিরোধী, হিন্দু ও মুসলিম পণ্ডিত- কাদের নামে রাস্তা হতে পারে বাংলায়?

Bengal Roads Renaming: গণিতজ্ঞ থেকে দ্বিজাতি তত্ত্বের বিরোধী থেকে হিন্দু এবং মুসলিম পণ্ডিত - কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের একাধিক রাস্তায় নাম পালটে বিশিষ্টদের নামে রাখার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হবে। বৈঠক হবে দুর্গাপুজোর পরে।

Published on: Sep 14, 2026, 15:34:11 IST
Advertisement

Bengal Roads Renaming: গণিতজ্ঞ থেকে দ্বিজাতি তত্ত্বের বিরোধী থেকে হিন্দু ও মুসলিম পণ্ডিত থেকে মার্কিন ‘নায়ক’- কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের একাধিক রাস্তায় নাম পালটে সেই বিশিষ্ট মানুষদের নামে রাখা হতে পারে। সূত্রের খবর, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের রাস্তা, ব্রিজের মতো জায়গায় নাম পালটানোর ক্ষেত্রে কার্তিক মহারাজের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের যে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে রাজ্য সরকার, তা দুর্গাপুজোর পরে প্রথম বৈঠকে বসবে। কমিটিতে আছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত, মেঘালয়ের প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়, কলকাতা পুরনিগমের কমিশনার স্মিতা পান্ডেরাও। তবে কমিটির বৈঠকের আগেই একাধিক রাস্তার সম্ভাব্য নাম উঠে আসছে।

কোন রাস্তার নাম পালটে কী রাখা হতে পারে?

কলকাতা-সহ বাংলার একাধিক রাস্তার নাম পালটে যেতে পারে। (ফাইল ছবি, এক্স @KanjilalSupti10 এবং @SuvenduWB)
কলকাতা-সহ বাংলার একাধিক রাস্তার নাম পালটে যেতে পারে। (ফাইল ছবি, এক্স @KanjilalSupti10 এবং @SuvenduWB)

১) লেনিন সরণি: দেবপ্রসাদ ঘোষের নামে করা হতে পারে।

২) কার্ল মার্ক্স সরণি (খিদিরপুর): মাইকেল মধুসূদন দত্ত বা রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে করা হতে পারে।

৩) হো-চি-মিন সরণি: মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের নামে হতে পারে।

৪) বিশ্ব বাংলা সরণি: নাম পালটে শ্রী কৃষ্ণ চৈতন্য অ্যাভিনিউ করা হতে পারে।

৫) তিতুমীর বাস স্ট্যান্ড (বারাসত): কাজী আবদুল ওদুদ বা বেকম রোকেয়া বা এস ওয়াজিদ আলির নামে নামকরণ করা হতে পারে।

৬) সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের নামে কোনও রাস্তায় নাম রাখা হতে পারে। সেটা মেয়ো রোড হতে পারেও বলে একটি মহলের তরফে দাবি করা হয়েছে।

গণিতজ্ঞ থেকে জনসংঘের সভাপতি- দেবপ্রসাদ ঘোষ

দেবপ্রসাদ ঘোষ ছিলেন প্রখ্যাত গণিতজ্ঞ। কংগ্রেস এবং হিন্দু মহাসভার হাত ধরে রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়েছিল। পরবর্তীতে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সান্নিধ্যে এসে জীবনের মোড় পালটে গিয়েছিল। যোগ দিয়েছিলেন ভারতীয় জনসংঘে। ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত জনসংঘের সর্বভারতীয় সভাপতি ছিলেন। রাজ্যসভার সদস্য হিসেবেও মনোনীত হয়েছিলেন।

রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন বাংলার বিখ্যাত কবি এবং সাহিত্যিক। স্বদেশপ্রেম এবং আধুনিক আখ্যানকাব্য ফুটে উঠত তাঁর লেখনীতে। 'স্বাধীনতা-হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায়' পংক্তিটি তাঁর লেখনীতে ফুটে উঠেছিল। অনেকের মতে, ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের প্রাচীন ধারা এবং মাইকেল মধুসূদন দত্তের আধুনিক ধারার মধ্যে সেতু ছিলেন রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই তাঁকে অনেকে 'বাংলা কাব্যের নবযুগের প্রবর্তক' হিসেবেও বিবেচনা করেন।

আধুনিক বাংলা কবিতার জনক মাইকেল মধুসূদন দত্ত

বাংলা আধুনিক কবিতার জনক ছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত। উনিশ শতকের আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম মুখ ছিলেন। অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তন, মেঘনাথবধ কাব্য থেকে সনেট রচনা- বাংলা সাহিত্যকে নতুন দিশা দেখিয়েছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

আরও পড়ুন: Gurugram News: দূরত্ব বজায় রাখতে বলাই কাল! মহিলা বাইকারকে ধাওয়া করে ধাক্কা, গুরুগ্রামের ভিডিও ভাইরাল

গান্ধীজির আদর্শে অনুপ্রাণিত মার্কিন নায়ক

মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র ছিলেন আফ্রিকান-আমেরিকান নাগরিক অধিকার আন্দোলনের প্রধান নেতা। মহাত্মা গান্ধীর অহিংস নীতিতে অনুপ্রাণিত হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবৈষম্য এবং কৃষ্ণাঙ্গদের উপরে অত্যাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। তাঁর সেই ‘I have a Dream’ ভাষণ এখনও জনপ্রিয়।

হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র

বাংলার মহান বৈষ্ণব সন্ত, সমাজসংস্কারক এবং গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন শ্রী কৃষ্ণ চৈতন্য তথা চৈতন্য মহাপ্রভু। জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে হরি নাম (হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র) জপ এবং কৃষ্ণনামের নগর কীর্তনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে ভক্তিভাব পৌঁছে দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: 9/11 attacks: ৯/১১-র পরই গ্রেফতার! মার্কিন আইনের জালে দুঃস্বপ্নের নির্বাসন ২ ভারতীয়র

বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও দ্বিজাতি তত্ত্বের তীব্র বিরোধী

কাজী আবদুল ওদুদ ছিলেন বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক। বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের অন্যতম প্রধান রূপকার ছিলেন। একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনি কখনও দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে কখনও সমর্থন করেননি দেশভাগকে।

নারী জাগরণের অগ্রদূত বেকম রোকেয়া

খ্যাতনামা সাহিত্যিকের পাশাপাশি বেগম রোকেয়া ছিলেন নারী জাগরণের অগ্রদূত। মুসলিম-সহ সার্বিকভাবে সমাজে মহিলাদের শিক্ষা ও অধিকার নিয়ে অবিস্মরণীয় অবদান রেখে গিয়েছিলেন।

বিংশ শতাব্দীর বিখ্যাত প্রাবন্ধিক ওয়াজিদ আলি

এস ওয়াজিদ আলি ছিলেন বিংশ শতাব্দীর বিখ্যাত প্রাবন্ধিক এবং চিন্তাবিদ। মানবতাবাদী সাহিত্যকর্ম, ধর্মনিরপেক্ষ চেতনা এবং উদারপন্থী ভাবাদর্শের জন্য পরিচিত ছিলেন। পেশায় আইনজীবী ছিলেন তিনি। ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনও করেছিলেন।

'ভারতের লৌহমানব' সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল

সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল ছিলেন স্বাধীন ভারতের প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী এবং প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। 'ভারতের লৌহমানব' হিসেবে পরিচিত তিনি। কারণ স্বাধীনতার সময় অসংখ্য রাজ্যকে যুক্ত করে অখণ্ড ভারত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর অসামান্য ভূমিকা ছিল।

 
ABOUT THE AUTHOR
Ayan Das

অয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks