Dilip Ghosh: পঞ্চায়েত প্রধান নয়, এবার আর্থিক ক্ষমতা আধিকারিকদের হাতে! বড় ঘোষণা মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের
Dilip Ghosh: রাজ্যে পালাবদল হলেও অধিকাংশ পঞ্চায়েত রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে। পরবর্তী পঞ্চায়েত ভোট ২০২৮ সালে। অথচ রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বিভিন্ন পঞ্চায়েতে প্রধান এবং উপপ্রধানদের দেখা মিলছে না বলে অভিযোগ। তা নিয়ে পঞ্চায়েত প্রধানদের আগেই সতর্ক করে দিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ।
Dilip Ghosh: রাজ্য বিধনাসভায় পঞ্চায়েত দফতরের বাজেট আলোচনায় অনুপস্থিত পঞ্চায়েত প্রধানদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রশাসনিক পরিবর্তনের ফের ইঙ্গিত দিলেন দফতরের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। পঞ্চায়েত প্রধানদের আর্থিক ক্ষমতা কমানোর জন্য নতুন বিল আনা হবে বলেও ঘোষণা করেন মন্ত্রী।

সোমবার থেকে রাজ্য বিধানসভার বাদল অধিবেশন শুরু হয়েছে। বিকেলে বিধানসভায় পঞ্চায়েত বাজেটের জবাবি ভাষণে বক্তৃতা করছিলেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। সেখানেই এই নতুন বিলের কথা ঘোষণা করেন তিনি। মন্ত্রী জানান, আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে এ সংক্রান্ত বিল পেশ করা হবে বিধানসভায়। প্রস্তাবিত বিল অনুযায়ী, পঞ্চায়েতের কাজে আর ‘সিগনেটরি অথরিটি’ থাকবেন না প্রধানেরা। অর্থাৎ, নথিপত্রে আর সই করার বা অনুমোদনের অধিকার থাকবে না পঞ্চায়েত প্রধানদের হাতে। পরিবর্তে দায়িত্ব দেওয়া হবে সরকারি আধিকারিকদের। এমনটাই জানিয়েছেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
রাজ্যে পালাবদল হলেও অধিকাংশ পঞ্চায়েত রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে। পরবর্তী পঞ্চায়েত ভোট ২০২৮ সালে। অথচ রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বিভিন্ন পঞ্চায়েতে প্রধান এবং উপপ্রধানদের দেখা মিলছে না বলে অভিযোগ। তা নিয়ে পঞ্চায়েত প্রধানদের আগেই সতর্ক করে দিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। প্রধানদের বাড়িতে ‘ডিমের পরিবর্তে ঢিল পড়বে’ বলে সাবধানও করেছিলেন। পঞ্চায়েতমন্ত্রীর ওই মন্তব্য নিয়ে এদিন বিধানসভায় প্রশ্ন তোলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী তৃণমূলের তিন বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন, সমীর জানা এবং বীণা মণ্ডল। বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে দিলীপ ঘোষ হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, 'আমি বলেছি, পঞ্চায়েত প্রধান হলে মানুষকে পরিষেবা দিতে হবে। তাই বলেছি এসে কাজ করুন, না হলে পদত্যাগ করুন। যদি অফিসে না আসেন, তা হলে পুলিশ দিয়ে কোমরে দড়ি দিয়ে এনে সই করাব। কী ভাবে জিতেছেন, কোন পার্টি করছেন, কোন দলে যাচ্ছেন জানি না। কোনও কিছুর জন্য মানুষকে বঞ্চিত করা যাবে না।' তৃণমূল আমলে গ্রামাঞ্চলে পরিষেবার ক্ষেত্রে বিস্তর বেনিয়ম, দুর্নীতি এবং কাটমানির অভিযোগ উঠেছিল। সে দিকে ইঙ্গিত করে পঞ্চায়েত মন্ত্রী বলেন, 'যাঁরা আজ নীতির কথা বলছেন, তাঁরা ১৫ বছরে যা করছেন… এ সব কথা মানায় না।'
আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই এই দফতরে ১১ হাজার কর্মী নিয়োগ করা হবে বলে সোমবার দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন। তবে এবার নিয়োগের পদ্ধতিতে বড় বদল আনছে রাজ্য সরকার। এতদিন জেলা স্তর থেকে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও, এবার তা কেন্দ্রীয়ভাবে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে করা হবে। দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘কর্মীর অভাবে পঞ্চায়েতের কাজ করা যাচ্ছে না। পিএসসির মাধ্যমে ১১ হাজার লোক নেওয়া হবে পঞ্চায়েত দপ্তরে। ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করবে রাজ্য সরকার।’ তিনি স্পষ্ট করেন, নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে কেন্দ্রীয়ভাবে পঞ্চায়েতে কর্মী নিয়োগের এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতদিন পঞ্চায়েত আইনের মাধ্যমে এই স্তরে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালানো হতো। তবে এবার তা স্বশাসিত সংস্থা পিএসসির হাতে তুলে দিতে চায় রাজ্য সরকার। দিলীপ ঘোষ জানান, যেহেতু পিএসসি একটি স্বশাসিত সংস্থা, তাই তাদের ওপর এই নিয়োগের দায়িত্ব অর্পণ করতে গেলে আইন সংশোধন করা প্রয়োজন এবং সরকার সেই পথেই হাঁটছে। মন্ত্রী আরও মনে করিয়ে দেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর তিনি যে এক লক্ষ কর্মসংস্থানের আশ্বাস দিয়েছিলেন, এই ১১ হাজার নিয়োগ তারই অংশ।
E-Paper

