Mira Bhattacharya: তৃণমূল যা কেড়ে নিয়েছিল, ক্ষমতায় এসেই বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্ত্রীকে তা ফেরালেন শুভেন্দু

বুদ্ধবাবুর মৃত্যুর পর পাম অ্যাভিনিউয়ের ৫৯এ নম্বরের ছোট্ট ফ্ল্যাটেই আগের মতো বসবাস করে আসছেন তাঁর স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্য। তবে মীরা দেবীর জীবনযাত্রায় কোনও জৌলুস আসেনি।

Published on: Jul 15, 2026, 13:24:12 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Mira Bhattacharya: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেও আসতে শুরু করেছে নতুন বার্তা। এবার সেই তালিকায় যোগ হল একটি ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্যের জন্য ফের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই উদ্যোগকে রাজনৈতিক মহলে ‘সৌজন্যের নজির’ বলেই ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মতাদর্শে বিস্তর ফারাক থাকা সত্ত্বেও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের এই সিদ্ধান্ত বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

বুদ্ধবাবুর মৃত্যুর পর পাম অ্যাভিনিউয়ের ৫৯এ নম্বরের ছোট্ট ফ্ল্যাটেই আগের মতো বসবাস করে আসছেন তাঁর স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্য।
বুদ্ধবাবুর মৃত্যুর পর পাম অ্যাভিনিউয়ের ৫৯এ নম্বরের ছোট্ট ফ্ল্যাটেই আগের মতো বসবাস করে আসছেন তাঁর স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্য।

২০২৪ সালের ৮ আগস্ট প্রয়াত হন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তাঁর মৃত্যুর পর পাম অ্যাভিনিউয়ের ৫৯এ নম্বরের ছোট্ট ফ্ল্যাটেই আগের মতো বসবাস করে আসছেন তাঁর স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্য। তবে মীরা দেবীর জীবনযাত্রায় কোনও জৌলুস আসেনি। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি অত্যন্ত সাধারণ ও অনাড়ম্বর জীবনযাপন করছেন, যা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের রাজনৈতিক জীবনেরও অন্যতম পরিচয় ছিল।

সূত্রের খবর, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মৃত্যুর পর তৎকালীন রাজ্য সরকার ওই ফ্ল্যাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রত্যাহার করে নেয়। সেই সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে সরকার পরিবর্তনের পর সেই অবস্থান বদলাতে চলেছে। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মীরা ভট্টাচার্যের নিরাপত্তা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। খুব শীঘ্রই পাম অ্যাভিনিউয়ের ফ্ল্যাটে ফের নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং রাজনৈতিক সৌজন্যেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। কারণ, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং শুভেন্দু অধিকারী সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতিনিধি। তবুও রাজনৈতিক বিরোধিতাকে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা সম্মানের পথে বাধা হতে দেননি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের প্রতি এই সম্মান প্রদর্শন বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক বার্তা বহন করছে বলেই মত অনেকের।

মীরা ভট্টাচার্যের জীবনযাপনও বরাবরই আলোচনার বিষয়। মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীনও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বিলাসবহুল সরকারি বাসভবনে না উঠে পাম অ্যাভিনিউয়ের ছোট্ট ফ্ল্যাটেই থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। জানা যায়, একসময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুও তাঁকে বড় বাড়িতে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু বুদ্ধদেব সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। তাঁর মৃত্যুর পরও একই সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন মীরা ভট্টাচার্য। এখনও সেই সাধারণ ফ্ল্যাটেই অত্যন্ত সাদামাটা জীবন কাটাচ্ছেন তিনি।

রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন সরকারকে স্বাগতও জানিয়েছিলেন মীরা ভট্টাচার্য। মতাদর্শগত পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন, নতুন সরকার নির্বাচনের আগে যে প্রতিশ্রুতিগুলি দিয়েছিল, সেগুলি বাস্তবায়িত হবে। একই সঙ্গে তিনি চেয়েছিলেন, বাংলায় এমন একটি পরিবেশ ফিরে আসুক যেখানে সিন্ডিকেট রাজ বা সাধারণ মানুষের উপর অযথা চাপের অভিযোগ থাকবে না।

সব মিলিয়ে, মীরা ভট্টাচার্যের নিরাপত্তা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবেই নয়, রাজনৈতিক সৌজন্য ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির এক ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবেও উঠে এসেছে। বিরোধী মতের একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের এই উদ্যোগ রাজ্যের নতুন সরকারের রাজনৈতিক বার্তাকেও স্পষ্ট করে তুলেছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More