নিজের হাতে গড়া দলে ফিরে এসে রয়ে গিয়েছিলেন বিস্ময়সূচক চিহ্নের মতো, কেন সেই মুকুল রায়কে মনে রাখবেন সাধারণ মানুষ

কেন মুকুল রায়কে মনে রাখবেন সাধারণ মানুষ? কোন জায়গায় তিনি ছিলেন এক ব্যাতিক্রমী রাজনীতিবিদ? লিখছেন তাঁকে দীর্ঘ দিন কাছ থেকে দেখা সাংবাদিক দেবক বন্দ্যোপাধ্যায়

Published on: Feb 23, 2026, 16:18:13 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

মুকুল রায় মারা গেলেন। মৃত্যুকালে তিনি কী ছিলেন, কতটা ছিলেন, কতটা ঠিক, কতটা ভুল, কতটা ভালো, কতটা খারাপ... সবই তাঁর বিস্মৃতিতে ছিল। রাজনৈতিক তাৎপর্য বলতে যা বোঝায়, শেষকালে তার কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। তবু এই ক্রিকেট বোদ্ধা রাজনৈতিক গুরুকে কেন মনে রাখবে মানুষ? মনে রাখার কোনও সঙ্গত কারণ?

খেন মুকুল রায়কে মনে রাখবেন মানুষ?
খেন মুকুল রায়কে মনে রাখবেন মানুষ?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সামনে রেখে তৃণমূল কংগ্রেসকে গড়ে তোলার পিছনে তাঁর ভূমিকার জন্য? তৃণমূলকে ক্ষমতায় নিয়ে আসার পিছনে তাঁর সাংগঠনিক বুদ্ধির জন্য? প্রাক আই প্যাক যুগে তাঁর ভোট কৌশলের জন্য? কেন মানুষ তাঁকে মনে রাখবে?

শুভবুদ্ধি সম্পন্ন সাধারণ মানুষের কি কোনও দায় আছে তাঁকে মনে রাখার? রাজনীতির কারবারীরা তাঁকে মনে রাখতে পারেন তাঁর সাংগঠনিক মেধার জন্য। দলীয় কর্মীরা মনে রাখতে পারে তাঁর থেকে পাওয়া ভালোবাসার জন্য। তৃণমূল মনে রাখতে পারে দলের চারা অবস্থা থেকে দলকে মহীরুহে পরিণত করা এক মালি হিসেবে। বিজেপি মনে রাখতে পারে ২০১৯ এর লোকসভায় বাংলার বুকে তাদের আশাতীত ফলের জন্য। এমনকী কৌশানীও মনে রাখতে পারেন-- মুকুলের বিজেপির হয়ে লড়া প্রথম নির্বাচনে তিনি তাঁর প্রতিপক্ষ ছিলেন বলে। কিন্তু সাধারণ মানুষ? শুভবুদ্ধি সম্পন্ন সাধারণ মানুষ? তাঁরা সম্ভবত একটা কারণেই মুকুলকে মনে রাখতে পারেন, তা হল অসাম্প্রদায়িকতা। হ্যাঁ, বিজেপিতে গিয়েও তাঁর অসাম্প্রদায়িক চরিত্রের জন্য ইচ্ছে করলে তাঁরা তাঁকে মনে রাখতে পারেন।

যে কারণেই বিজেপিতে যান না কেন (সেই আলোচনার জায়গা এটা নয়) তিনি হিন্দুত্বের রাজনীতিতে গা ভাসাননি। পরধর্ম বিদ্বেষ আছে এমন কোনও ঘৃণা বাক্য কখনও উচ্চারণ করেননি। বরং বিভিন্ন বক্তৃতায় বলেছেন, দক্ষিণেশ্বর সংলগ্ন মসজিদের কথা। বলেছেন, নজরুলের শ্যামাসঙ্গীতের কথা। বলেছেন, লড়াইটা রাজনৈতিক, ধর্মের লড়াই নয়। তিনি চেষ্টা করেছেন, জয়শ্রীরাম নয়, বাংলার জন্য জয়মাকালী ধ্বনিকে স্লোগান করে তুলতে। বাঙালির সেন্টিমেন্ট ছুঁতে। কারও কারও মতে, বিজেপির একবগ্গা, চাপিয়ে দেওয়ার মানসিকতা তা হতে দেয়নি। বিজেপিতে থাকাকালীন ভোটের হিসেব থেকে তিনি মুসলমানদের বাদ দেওয়ার বিপক্ষে ছিলেন। বলতেন, ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় ৩০ বাদ দিয়ে লিখলে পাস করা যায়? যদিও তাঁর এই তত্ত্ব বিজেপির পছন্দ হয়নি। মুকুলের নেতৃত্বে উনিশে কৌশলী সাফল্যের পরেও একুশে বিজেপি হিন্দুত্বের লাইনেই জোর দিয়েছে। ব্যর্থও হয়েছে।

তাঁর বিজেপিতে যাওয়া ও আবার তৃণমূলে ফিরে আসা। ফিরে এসে নিজের হাতে গড়া দলে বিস্ময়সূচক চিহ্নের মতো রয়ে যাওয়া... এই সবকিছুর মধ্যে অনেক জানা-না-জানা গল্প আছে। সেই সব গল্প পেরিয়ে মুকুল এখন প্যাভিলিয়নের পথে।