West Bengal Colleges: ৩০ দিনের ডেডলাইন! কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ফি আদায়ে লাগাম, বড় নির্দেশ নবান্নের
West Bengal Colleges: উচ্চশিক্ষা দফতর নির্দেশ দিয়েছে যে অবিলম্বে সমস্ত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ইউনিয়ন ফি আদায় বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি, এতদিন ধরে এই খাতে যে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাবও দফতরের কাছে জমা দিতে হবে।
West Bengal Colleges: রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবার বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। সমস্ত সরকারি এবং সরকার-পোষিত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়কে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে তাদের অডিট রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে উচ্চশিক্ষা দফতর। শুধু অডিট রিপোর্টই নয়, ছাত্র ইউনিয়ন ফি বাবদ এতদিন কত টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সেই অর্থ কোন খাতে ব্যয় করা হয়েছে, তারও বিস্তারিত হিসাব জমা দিতে বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই তথ্য জমা না দিলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

কলেজে ছাত্র সংসদ ফি নিয়ে কড়া নির্দেশ নবান্নের
উচ্চশিক্ষা দফতরের তরফে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে রাজ্যের কোনও সরকারি বা সরকার-পোষিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত ছাত্র সংসদ বা ছাত্র ইউনিয়ন কার্যকর অবস্থায় নেই। অথচ দীর্ঘদিন ধরে বহু কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের কাছ থেকে ‘স্টুডেন্ট ইউনিয়ন ফি’ বা ছাত্র সংসদ বাবদ অর্থ আদায় করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিকে নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে রাজ্য সরকার। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধি বা ছাত্র সংসদ না থাকলে ছাত্র ইউনিয়নের নামে কোনও ফি আদায় করা যায় না। কারণ সেই তহবিলের ব্যবহার এবং পরিচালনার জন্য নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাস্তবে বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই নিয়ম মানা হয়নি বলে অভিযোগ। ফলে ছাত্রদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এই পরিস্থিতিতে উচ্চশিক্ষা দফতর নির্দেশ দিয়েছে যে অবিলম্বে সমস্ত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ইউনিয়ন ফি আদায় বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি, এতদিন ধরে এই খাতে যে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাবও দফতরের কাছে জমা দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে, কত টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে, কোন তহবিলে রাখা হয়েছে এবং কী কী কাজে সেই অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেই তথ্য-সহ রিপোর্ট জমা দিতে হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে। কলেজ ইউনিয়নের ফান্ড নিয়ে দুর্নীতি রুখতেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সব তথ্য জমা করতে এখন তৎপর শিক্ষাঙ্গন।
শিক্ষা মহলের একাংশের মতে, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন তহবিলের আর্থিক লেনদেন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন উঠছিল। বিশেষ করে ছাত্র ইউনিয়নের নামে সংগৃহীত অর্থের ব্যবহার নিয়ে স্বচ্ছতার অভাব ছিল বলে অভিযোগ। সেই কারণেই এবার সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। অডিট রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনার উপর আরও বেশি নজরদারি চালাতে চাইছে প্রশাসন। শুধু আর্থিক স্বচ্ছতাই নয়, ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়েও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধি না থাকলে ছাত্রদের নামে কোনও তহবিল গঠন বা অর্থ সংগ্রহ করা যাবে না এই বার্তাই কার্যত দিতে চেয়েছে সরকার। এর ফলে ভবিষ্যতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং ছাত্র প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
E-Paper

