National Teacher Award Winners Bengal: ক্লাসরুমে AI থেকে নিজস্ব টিফিন তহবিল: জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার পাচ্ছেন বাংলার ২ জন

National Teacher Award Winners Bengal: ঝাড়গ্রামের জঙ্গলমহলের শ্রেণিকক্ষ থেকে শুরু করে বর্ধমানের প্রাথমিক বিদ্যালয়- জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারে ভূষিত হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের দুই শিক্ষক। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর তাঁদের পুরস্কৃত করা হবে।

Published on: Aug 22, 2026, 23:02:50 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

National Teacher Award Winners Bengal: শিক্ষাদানে নিত্যনতুন উদ্ভাবনী ভাবনা, প্রযুক্তি ও সমাজভাবনার মেলবন্ধন ঘটিয়ে জাতীয় মঞ্চে বাংলার নাম উজ্জ্বল করলেন রাজ্যের দুই শিক্ষক। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে 'জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার' গ্রহণ করবেন তাঁরা। পুরস্কারপ্রাপ্ত এই দুই শিক্ষক হলেন ঝাড়গ্রামের গভর্নমেন্ট মডেল স্কুলের ভূগোলের শিক্ষক শান্তনু পাত্র এবং পূর্ব বর্ধমানের শ্রী রামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পলাশ চৌধুরী। শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁদের এই অভাবনীয় অবদান আজ সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের জন্য এক গর্বের মুহূর্ত তৈরি করেছে।

জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারে ভূষিত হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের দুই শিক্ষক। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্যে ন্যানো ব্যানানা দিয়ে তৈরি)
জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারে ভূষিত হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের দুই শিক্ষক। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্যে ন্যানো ব্যানানা দিয়ে তৈরি)

AI ও পরিবেশ পাঠে ঝাড়গ্রামের শান্তনু পাত্রের কিস্তিমাত

ঝাড়গ্রামের প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া আদিবাসী সম্প্রদায়ের ছাত্রছাত্রীদের আধুনিক শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে দীর্ঘ আট বছর ধরে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন শান্তনুবাবু। প্রতিকূল সামাজিক-অর্থনৈতিক পরিবেশের মাঝে দাঁড়িয়েও তিনি ক্লাসরুমে নিয়ে এসেছেন এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন। শান্তনু শ্রেণিকক্ষে মূলত তিনটি বিশেষ ‘স্টেশন’ বা লার্নিং জোন তৈরি করেছেন।

আরও পড়ুন: Heavy Rain Forecast in South Bengal: মুড়ি-মুড়কির মতো নিম্নচাপ তৈরি! কাল থেকে ভারী বৃষ্টি শুরু বাংলায়, চলবে কতদিন?

১) ডিজিটাল স্টেশন: যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি বিষয়ে ভিত্তিক শিক্ষণীয় ভিডিয়ো এবং অনলাইন কুইজের মাধ্যমে জটিল বিষয় সহজ করে বোঝানো হয়।

২) ডিসকাশন স্টেশন: পড়ুয়াাদের সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনা করে পড়াশোনার যাবতীয় খটকা বা সংশয় দূর করার জন্য এই বিভাগ।

৩) ক্রিয়েটিভিটি স্টেশন: যেখানে ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের হাতে মডেল, চার্ট এবং প্রজেক্ট তৈরি করে।

শুধু প্রযুক্তিই নয়, প্রকৃতি ও লোকসংস্কৃতিকেও শিক্ষার আঙিনায় নিয়ে এসেছেন তিনি। স্থানীয় প্রকৃতি-কেন্দ্রিক লোক উৎসবগুলোকে প্রেজেন্টেশনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছেন এবং ছাত্রছাত্রীদের রেজাল্ট কার্ড বা রিপোর্ট কার্ডও সম্পূর্ণ ডিজিটাইজড করেছেন।

আরও পড়ুন: Suvendu on Annapurna Yojana: রাস্তায় গড়াগড়ি খেয়ে লাভ নেই, যোগ্যরাই অন্নপূর্ণা যোজনা পাবেন, বললেন শুভেন্দু

নিজস্ব মোবাইল অ্যাপ ও প্রাতরাশ প্রকল্প: পলাশ চৌধুরীর অভিনব উদ্যোগ

অন্যদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় তথ্যপ্রযুক্তির প্রয়োগ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অনন্য নজির গড়েছেন বর্ধমানের শ্রী রামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পলাশ চৌধুরী। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিজের উদ্যোগেই তৈরি করেছেন একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। এই অ্যাপের মাধ্যমে প্রতিদিনের ক্লাসের তথ্য, উপস্থিতি এবং ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার অগ্রগতি সরাসরি অভিভাবকদের মোবাইলে পৌঁছে যায়।

আরও পড়ুন: Suvendu on Jadavpur University: যাদবপুরে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করবই! হুংকার শুভেন্দুর, ‘জাতীয় পতাকা তুলতে দেয় না’

কিন্তু এখানেই শেষ নয়; পলাশবাবু অনুভব করেছিলেন খালি পেটে শিশুদের পড়াশোনায় মনোযোগ তৈরি হওয়া কঠিন। সেই ভাবনা থেকে তিনি স্কুলে চালু করেছেন বিনামূল্যে 'প্রাতঃরাশ বা ব্রেকফাস্ট প্রোগ্রাম'। এই কর্মসূচির পিছনে বছরে খরচ হয় প্রায় ৬০,০০০ টাকা, যা কোনও সরকারি ফান্ড থেকে নয়- বরং পলাশ বাবু এবং তাঁর এক সহকর্মী শিক্ষক নিজেদের ব্যক্তিগত বেতন থেকে বহন করেন!

  • Ayan Das
    ABOUT THE AUTHOR
    Ayan Das

    অয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More