NCPI Founder on TMC: 'কর্মীরা শঙ্কায়,দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে', TMC MP-দের যোগদান নিয়ে বললেন NCPI প্রতিষ্ঠাতা

তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ বিদ্রোহী সাংসদদের এই দলে যোগদানের সম্ভাবনা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এই আবহেই দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, আদর্শ এবং তৃণমূলের বিক্ষুব্ধদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন দলের প্রতিষ্ঠাতা শান্তনু দে।

Published on: Jun 15, 2026, 11:53:16 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

রাজ্য রাজনীতিতে হঠাৎ করেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে কার্যত অস্তিত্বহীন রাজনৈতিক দল ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই)। তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ বিদ্রোহী সাংসদদের এই দলে যোগদানের সম্ভাবনা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এই আবহেই দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, আদর্শ এবং তৃণমূলের বিক্ষুব্ধদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন দলের প্রতিষ্ঠাতা শান্তনু দে।

বিতর্ক তৈরি হয়েছে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের এনসিপিআই-তে যোগদানের সম্ভাবনা ঘিরে। (Handout)
বিতর্ক তৈরি হয়েছে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের এনসিপিআই-তে যোগদানের সম্ভাবনা ঘিরে। (Handout)

শান্তনু দে জানান, মানুষের অধিকার রক্ষার লক্ষ্য নিয়ে ২০২২ সালে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের পরিকল্পনা শুরু হয়। প্রথমে ‘ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি’ নাম প্রস্তাব করা হলেও পরে ২০২৩ সালের ২০ জানুয়ারি ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ নামে দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়। দল গঠনের পর তিনি নিজে জাতীয় সংগঠক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং ত্রিপুরার সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী দেওয়ার উদ্যোগ নেন।

তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক চাপে সাতটির মধ্যে চারটি মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছিল। এমনকি তাঁর উপর হামলাও হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। সমস্ত বাধা সত্ত্বেও তিনটি কেন্দ্রে দল প্রার্থী দিতে সক্ষম হয়েছিল বলে জানান শান্তনু দে। সেই নির্বাচনী ফলাফল নির্বাচন কমিশনের নথিতে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের এনসিপিআই-তে যোগদানের সম্ভাবনা ঘিরে। শান্তনু দে অভিযোগ করেছেন, প্রায় ২০ জন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদকে দলে নেওয়ার বিষয়ে প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের সঙ্গে কোনও আলোচনা করা হয়নি। তাঁর দাবি, দলের বর্তমান নেতৃত্ব একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এমনকি অর্থ বা অন্য কোনও স্বার্থে দলকে ব্যবহার করার চেষ্টাও হতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি।

শান্তনু দে স্পষ্ট জানিয়েছেন, দলের সংবিধান অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সভাপতির স্বাক্ষর প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করে কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, দলের সাধারণ কর্মীরাও তৃণমূলের বিদ্রোহীদের যোগদানকে ভালোভাবে নিচ্ছেন না। তাঁদের আশঙ্কা, এতে দলের আদর্শ ও ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তবে দরজা পুরোপুরি বন্ধও রাখেননি এনসিপিআই প্রতিষ্ঠাতা। তিনি জানিয়েছেন, দেশের স্বার্থ ও সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিলে এবং দলের কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করে তাঁদের শর্ত মেনে নিলে তবেই ওই সাংসদদের গ্রহণ করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের শাসনের সমালোচনা করলেও বর্তমান সরকারের প্রতি এখনও আশাবাদী অবস্থান নিয়েছে এনসিপিআই। তবে মানুষের স্বার্থ রক্ষায় সরকার ব্যর্থ হলে রাজপথে নেমে আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন শান্তনু দে। তাঁর দাবি, মানুষের সমর্থন পেলে আগামী দিনে এনসিপিআই সর্বভারতীয় স্তরেও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More