Keya Ghosh on Koel Mallick: ‘প্রতিদিনই তৃণমূলের শরীরে নতুন নতুন ক্ষত তৈরি হচ্ছে’, কোয়েল ইস্যুতে খোঁচা কেয়ার
কোয়েল মল্লিকের দল ছাড়ার প্রসঙ্গে কেয়া ঘোষ বলেন, 'প্রতিদিনই তৃণমূলের শরীরে নতুন নতুন ক্ষত তৈরি হচ্ছে। কোয়েল মল্লিকের মতো জনপ্রিয় অভিনেত্রীও দল ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এর একটাই কারণ, চোরদের দলে সাধারণ বা ভদ্র মানুষ টিকে থাকতে পারেন না।'
অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকের রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন চর্চা। এই ইস্যুকে সামনে রেখে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ। একই সঙ্গে কলকাতা বিমানবন্দর সংলগ্ন বাঁকড়া মসজিদ স্থানান্তর ঘিরে চলা বিক্ষোভ নিয়েও বিরোধীদের একহাত নেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক স্বার্থে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে উসকানি দিয়ে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।

কোয়েল মল্লিকের দল ছাড়ার প্রসঙ্গে কেয়া ঘোষ বলেন, 'প্রতিদিনই তৃণমূলের শরীরে নতুন নতুন ক্ষত তৈরি হচ্ছে। কোয়েল মল্লিকের মতো জনপ্রিয় অভিনেত্রীও দল ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এর একটাই কারণ, চোরদের দলে সাধারণ বা ভদ্র মানুষ টিকে থাকতে পারেন না। সেখানে শুধু দুর্নীতিগ্রস্ত ও অসৎ লোকেরাই থাকতে পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে সৎ মানুষের কোনও জায়গা নেই বলেই তাঁরা একে একে দল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।'
এরপরই কলকাতা বিমানবন্দরের নিরাপত্তার স্বার্থে বাঁকড়া মসজিদ স্থানান্তর নিয়ে চলা বিতর্কে সরব হন বিজেপি নেত্রী। তিনি দাবি করেন, যাঁরা আগে মসজিদ স্থানান্তরে কোনও আপত্তি নেই বলে জানিয়েছিলেন, তাঁরাই এখন ভিন্ন অবস্থান নিচ্ছেন। কেয়া ঘোষের অভিযোগ, বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবেই এগোচ্ছিল। কিন্তু কিছু রাজনৈতিক দল তা মেনে নিতে না পেরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে উসকানি দিচ্ছে এবং বিক্ষোভের নামে অশান্তির পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, বিজেপি সরকার বিমানবন্দরের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। আগের সরকারগুলি এত বছরেও এই নিরাপত্তা ত্রুটি দূর করতে পারেনি। অথচ মাত্র দু’মাসের মধ্যে আমাদের সরকার সেই সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছে। এখন পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা চলছে।'
বাঁকড়া মসজিদ রানওয়ের একেবারে কাছে অবস্থিত হওয়ায় নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথাও উল্লেখ করেন কেয়া ঘোষ। তাঁর দাবি, মসজিদের ইমাম এবং তৃণমূলের এক প্রাক্তন বিধায়কও একসময় বলেছিলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে মসজিদ স্থানান্তরে আপত্তি থাকা উচিত নয়। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, 'যদি কোনও জঙ্গি ওই জায়গাকে ব্যবহার করত, তাহলে কী ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারত? এই নিরাপত্তা ঝুঁকি দূর করতেই সরকার পদক্ষেপ করেছে।'
বিজেপি নেত্রী আরও জানান, সম্প্রতি রাজ্যে ‘অ্যান্টি-গুণ্ডা’ আইন পাস হয়েছে। সেই আইনের উল্লেখ করে তিনি সতর্কবার্তা দেন, বিক্ষোভের নামে যদি কেউ ভাঙচুর, অশান্তি বা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়, তাহলে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের প্রতিও আবেদন জানিয়ে কেয়া ঘোষ বলেন, যাঁরা ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষকে উসকানি দিচ্ছেন এবং পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা করছেন, তাঁদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত।
কোয়েল মল্লিকের দলত্যাগ এবং বাঁকড়া মসজিদ ইস্যু—এই দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেয়া ঘোষের ধারাবাহিক আক্রমণ রাজ্যের রাজনৈতিক তরজাকে আরও তীব্র করে তুলেছে। তাঁর বক্তব্যকে ঘিরে আগামী দিনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও বাড়বে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


