PM Modi Campaign: 'বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ...,' শেষবেলার প্রচারে পরিবর্তনের পক্ষে জোর সওয়াল PM মোদীর
PM Modi Campaign: আগামী ২৯ তারিখ, বুধবার রাজ্যে দ্বিতীয় তথা শেষদফার ভোট। ১৪২ আসনে ভোটগ্রহণ হবে। তার আগে সোমবার বিকেলেই শেষ হয়ে যাবে প্রচার। তার আগে এদিন সকাল সকাল জগদ্দলের জিলিপি ময়দানের মেগা জনসভা থেকে রীতিমতো আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
PM Modi Campaign: 'যা দেখলাম, ৪ মে-র পরে বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে এই রাজ্যে আমাকে আসতেই হবে।’ দ্বিতীয় দফা ভোটে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মনোবল আরও চাঙ্গা করতে ইঙ্গিতবাহী বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ছাব্বিশের বঙ্গভোটে প্রচার প্রায় শেষ। আর এই শেষবেলায় সব রাজনৈতিক দলেরই প্রচারের সুর একেবারে সপ্তমে। সোমবার সকাল সকাল বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের সাত বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীদের হয়ে শেষ জনসভা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সিপাই বিদ্রোহের স্মৃতি বিজড়িত জায়গায় দাঁড়িয়ে মঙ্গল পাণ্ডে আবেগে শান দিলেন তিনি।

পরিবর্তনের ডাক!
আগামী ২৯ তারিখ, বুধবার রাজ্যে দ্বিতীয় তথা শেষদফার ভোট। ১৪২ আসনে ভোটগ্রহণ হবে। তার আগে সোমবার বিকেলেই শেষ হয়ে যাবে প্রচার। তার আগে এদিন সকাল সকাল জগদ্দলের জিলিপি ময়দানের মেগা জনসভা থেকে রীতিমতো আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তাঁর কথায়, ‘১৮৫৭ সালে এই ব্যারাকপুরে স্বাধীনতার প্রথম লড়াইকে শক্তি জুগিয়েছিল। আজ এই ভূমি বাংলায় পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করছে। একটাই ধ্বনি, পাল্টানো দরকার। সকাল সকাল আমাকে আশীর্বাদ দিতে এসেছেন বহু মানুষ। হেলিপ্যাড থেকে যখন আসছিলাম, রাস্তার দু’পাশে মানুষের উৎসাহ দেখে আমি অভিভূত। কল্পনা করতে পারিনি। এই ভোটে আমার এটা শেষ সভা। বাংলায় যেখানে যেখানে গিয়েছি, মানুষের যা মেজাজ দেখেছি, এই বিশ্বাস নিয়ে যাচ্ছি যে, ৪ মের পরে বিজেপির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আসতেই হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই দৌড়োদৌড়িতে একটু ক্লান্তি আসে। ৩০-৪০ বছর আগেও ক্লান্তি আসত। কিন্তু এই ভোটে অন্য অনুভূতি হচ্ছে। এই গরম সত্ত্বেও বাংলার ভোটে এতটুকু ক্লান্তি আসছে না। রোড শো শেষ হওয়ার পরেও মানুষের ভিড়। সেয়ি ভিড়ের মধ্যে হেঁটেছি। হেলিপ্যাডে গিয়েছি। রোড শো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, তীর্থযাত্রা।’ জনগণের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত তিন-চার দশক ধরে দেশের কোনায় কোনায় যাচ্ছি। রাজনীতি, বিজেপি-তে আসার পরে, পার্টি যা বলে, তা-ই করি। নির্বাচনের দায়িত্ব সামলানোও তার মধ্যেই পড়ে। দিন-রাত-ঋতু কিছু দেখি না। আপনাদের মাঝে থাকলে শান্তি পাই, সুখ পাই। আপনারাই আমার পরিবার।’
আপ্লুত প্রধানমন্ত্রী ও নিশানায় তৃণমূল
এদিন বারাকপুর, ভাটপাড়া, নোয়াপাড়া, জগদ্দল-সহ একাধিক প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সভায়। প্রধানমন্ত্রী মোদীর হাতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মঙ্গল পাণ্ডে এবং নৈহাটির বড়মার ছবি তুলে দেন তাঁরা। তাতে আরও আপ্লুত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী। বক্তব্য রাখতে গিয়ে একেকটি ইস্যু ধরে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে যত না আক্রমণ করেছেন তিনি, তার চেয়ে বেশি বিজেপির ক্ষমতায় আসা নিয়ে আত্মবিশ্বাস ঝরে পড়ল তাঁর কথায়। তিনি বলেন, ‘বাংলার মানুষ মুক্তি চায় এই দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূল সরকার থেকে। এবার বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী হবেন। ডবল ইঞ্জিন সরকার হবে। সিএম-পিএম মিলে উন্নয়নের কাজ হবে। আমি পাঁচ প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছি। বিজেপি ক্ষমতায় এলে রোজগার মেলায় যুবকদের নিয়োগপত্র সরকারি শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগ, সপ্তম পে কমিশনের আওতায় সরকারি কর্মীরা কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় মেক ইন ইন্ডিয়া হাব, গ্রামীণ এলাকায় বছরে ১২৫ দিনের কাজ, গুন্ডাদের বেছে বেছে শাস্তি দেওয়া হবে।'
‘পূর্বোদয়’!
বাংলার ভোটারদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, ‘বাংলার সেবা করা, সুরক্ষিত করা, বড় চ্যালেঞ্জ থেকে তাকে রক্ষা করা আমার ভাগ্যে লেখা রয়েছে। আমার দায়িত্বও। এই দায়িত্ব থেকে পিছু হঠব না। বাংলার এই ভোট, গোটা পূর্ব ভারতের ভাগ্য বদলানোর ভোট। যখন ভারত সমৃদ্ধ ছিল অতীতে, তখন তিনটি মজবুত স্তম্ভ ছিল-অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ অর্থাৎ বিহার, বাংলা, ওড়িশা। এই তিন স্তম্ভ দুর্বল যখন হয়, গোটা ভারতে ঝটকা লেগেছে।’ এরপরেই তিনি বলেন, ‘আজ বিকশিত ভারতে এই তিন স্তম্ভ জরুরি। ভারতের ভাগ্যোদয় পূর্বোদয় ছাড়া সম্ভব নয়। ভারতের ভাগ্যোদয় এবং পূর্বোদয় পরস্পরের পরিপূরক। ২০১৩ সাল থেকে, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে থেকে বলছি, পূর্ব ভারত যখন এগোবে, তখন দেশ এগোবে। অঙ্গ, কলিঙ্গে কমল ফুটেছে। এখন বাংলার পালা।’ প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘এবার যা দেখলাম, পূর্বোদয় হবেই। অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গের নারীশক্তি ভরসা করে বিজেপি-তে। বাংলা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে সাংসদ করেছিল। তার প্রেরণা বিজেপির সঙ্কল্প হয়। জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা রদ করে তাঁর একটি সঙ্কল্প পূরণ করেছি। আরও একটি সঙ্কল্প রয়েছে শ্যামাপ্রসাদের- বাংলার সমৃদ্ধি এবং শরণার্থীদের সমস্যার সমাধান।’
E-Paper

