Kolkata Police: কলকাতা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ৪ মে সারাদিন ভোট গণনা চলবে। এই সময় শহরজুড়ে আবেগ এবং উত্তেজনা চরম পর্যায়ে থাকে। গণনাকেন্দ্রে ভিড় বা রাজনৈতিক গোলমালের জেরে যাতে সাধারণ মানুষের জনজীবন ব্যাহত না হয় এবং জনশান্তি বিঘ্নিত না হয়, সেই কারণেই এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ।
Kolkata Police: বঙ্গ রাজনীতিতে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। টানা ১৫ বছরের শাসনের পর বড় ধাক্কা তৃণমূল কংগ্রেসে। রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে স্পষ্ট বদলের ইঙ্গিত মিলছিল গণনার ট্রেন্ডেই। গেরুয়া ঝড় উঠতেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিজয়োল্লাস শুরু হয়েছে। কিন্তু ফলপ্রকাশের পর আজ কী আদৌ বিজয় মিছিল করতে পারবে রাজনৈতিক দলগুলি? এমনই প্রশ্ন উঠছে। রাজ্যের নজর যখন ভোট গণনার দিকে, ঠিক তখনই শহর কলকাতায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কড়া পদক্ষেপ নিল লালবাজার। সোমবার, ৪ মে গণনা চলাকালীন তিলোত্তমায় কোনও রকম বিজয় মিছিল বা বড় জমায়েত করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিল কলকাতা পুলিশ।
কড়া পুলিশি প্রহরায় মহানগর (PTI)
রবিবার বিকেলেই কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দ একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। সেই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, মিছিলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। ৪ মে অর্থাৎ আজ গণনা চলাকালীন কোনও রাজনৈতিক দল বা সংগঠন কোনও রকম বিজয় মিছিল, র্যালি বা জনসমাবেশ করতে পারবে না। সবার জন্যই এক নিয়ম থাকবে বলা হয়েছে। এই বিধিনিষেধ সমস্ত রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে সমানভাবে কার্যকর হবে। এতে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, যদি কোনও দল বিজয় মিছিল করতে চায়, তবে তা ৫ মে বা তার পরে করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। তবে তার জন্য সংশ্লিষ্ট থানার ওসির কাছ থেকে আগাম অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। পুলিশের দেওয়া সমস্ত শর্ত মেনেই তবে মিছিল করা যাবে বলে জানানো হয়েছে।
কেন এই কড়াকড়ি?
কলকাতা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ৪ মে সারাদিন ভোট গণনা চলবে। এই সময় শহরজুড়ে আবেগ এবং উত্তেজনা চরম পর্যায়ে থাকে। গণনাকেন্দ্রে ভিড় বা রাজনৈতিক গোলমালের জেরে যাতে সাধারণ মানুষের জনজীবন ব্যাহত না হয় এবং জনশান্তি বিঘ্নিত না হয়, সেই কারণেই এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, এই নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই শহরের প্রতিটি থানার ওসি-দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে এলাকায় কড়া নজরদারি চালানো হয় এবং এই নিয়ম অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হয়।
ভোটের ফল যাই হোক না কেন, উৎসবের মেজাজ যেন বিশৃঙ্খলায় পরিণত না হয়, এখন সেটাই লালবাজারের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। এখন দেখার, ফল ঘোষণার দিন এই নির্দেশ কতটা কার্যকর হয় এবং রাজনৈতিক দলগুলি কতটা তা মেনে চলে।