সেই অনুযায়ী যুবতী কাটোয়ার বল্লভপাড়া ফেরিঘাটে পৌঁছনোর পরেই পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নেয়। অভিযোগ, ওই পুলিশকর্মী তাঁকে জলের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে কৌশলে কৃষ্ণনগরে নবদ্বীপ রোডের একটি লজে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর উপর যৌন অত্যাচার করা হয়।
বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কাটোয়ার এক যুবতীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার হলেন সামশেরগঞ্জ থানায় কর্মরত এক পুলিশ কনস্টেবল। অভিযুক্ত জাহাঙ্গির শেখকে শুক্রবার রাতে আটক করে কাটোয়া থানার পুলিশ। শনিবার তাকে কাটোয়া মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পরিচয় হওয়া থেকে শুরু হয় ঘটনার বিবর্তন। ফেসবুকে আলাপের পর ধীরে ধীরে জাহাঙ্গির এবং ওই যুবতীর মধ্যে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়। অভিযোগ, সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন ওই কনস্টেবল। নির্যাতিতার দাবি, দু’মাস আগে প্রথমবার তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। কিন্তু সর্বশেষ ঘটনা ঘটে ২৭ সেপ্টেম্বর। সেদিন দেখা করতে বলেছিলেন জাহাঙ্গির। সেই অনুযায়ী যুবতী কাটোয়ার বল্লভপাড়া ফেরিঘাটে পৌঁছনোর পরেই পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নেয়। অভিযোগ, ওই পুলিশকর্মী তাঁকে জলের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে কৌশলে কৃষ্ণনগরে নবদ্বীপ রোডের একটি লজে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর উপর যৌন অত্যাচার করা হয়।
রক্তাক্ত ও অসুস্থ অবস্থায় ওই যুবতীকে সেখানকার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত। পরে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ যুবতীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁরা ছুটে এসে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন এবং মেয়েকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যান। এরপরই ২৯ সেপ্টেম্বর নির্যাতিতা কাটোয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, জাহাঙ্গির শেখ নদিয়ার তেহট্ট থানার পলাশীপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি জলপাইগুড়ির ডাবগ্রামে র্যাফের দ্বিতীয় ব্যাটেলিয়নে কর্মরত থাকলেও বর্তমানে সামশেরগঞ্জ থানায় ডেপুটেশনে ছিলেন। সেখান থেকেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। সমগ্র ঘটনায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, নির্যাতিতার মেডিক্যাল রিপোর্টসহ ঘটনাস্থলের বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।