Mal Municipality: আবাস দুর্নীতি! কাটমানির টাকা ফেরত চাইতেই মারধর, ধৃত মালের তৃণমূল কাউন্সিলর-সহ ৫
Mal Municipality: এই বর্বরোচিত হামলার পর তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা বর্মণ ফের নতুন করে মালবাজার থানায় কাউন্সিলরের নামে খুনের চেষ্টার অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরেই পুলিশ তৎপরতার সঙ্গে তদন্ত শুরু করে।
Mal Municipality: রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক হাওয়া বদলের পর থেকেই দুর্নীতি ও কাটমানি ইস্যুতে জেলায় জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের গ্রেফতারির পালা চলছে। শুধু তাই নয়, কোথাও কোথাও সাধারণ জনতার তীব্র রোষের মুখে পড়ছেন তৃণমূলের নেতারা। আবার কোথাও গণপিটুনি ও গণবিক্ষোভ এড়াতে বিগত দিনে তোলাবাজি করে নেওয়া কাটমানির টাকা সাধারণ মানুষকে ডেকে ডেকে সসম্মানে ফিরিয়ে দিচ্ছেন তৃণমূলের পঞ্চায়েত বা পুরসভার প্রতিনিধিরা। কিন্তু এই চেনা ছবির সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র ধরা পড়ল জলপাইগুড়িতে।

জানা গেছে, মাল পুরসভা এলাকায় তোলাবাজির টাকা ফেরত চাওয়ায় এক ব্যক্তি এবং তাঁর পরিবারকে নির্মমভাবে মারধর ও রক্তাক্ত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্বয়ং তৃণমূল কাউন্সিলর এবং তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ তড়িঘড়ি পদক্ষেপ করে সংশ্লিষ্ট তৃণমূল কাউন্সিলর এবং তাঁর ভাই-সহ মোট পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনার মূল অভিযোগকারী হলেন বিপুল বর্মণ নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের ‘প্রধানমন্ত্রীর আবাস যোজনা’র পাকা বাড়ির সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে তাঁদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা বা কাটমানি নিয়েছিলেন মাল পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অজয় লোহার। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিপুল বর্মণ বা তাঁর পরিবার আবাস যোজনার সেই ঘর পাননি। ঘর না পেয়ে অবশেষে নিরুপায় হয়ে ওই সুবিধা নেওয়ার জন্য কাউন্সিলরকে যে অগ্রিম অর্থ দিতে হয়েছিল, সেটাই ফেরত চাইতে শুরু করেন তাঁরা।
সম্প্রতি বিপুল এবং তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা বর্মণ টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় আবারও এক বার কাউন্সিলর অজয় লোহারের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু তাতেও কোনও কাজ হয়নি, উল্টে তাঁদের খালি হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। অগত্যা কোনও উপায় না দেখে এই প্রতারণার বিরুদ্ধে মালবাজার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এই দম্পতি। অভিযোগ, থানায় অভিযোগ দায়ের করার কথা জানতে পারার পর থেকেই ওই দম্পতির ওপর চাপ সৃষ্টি করা শুরু হয়েছিল কাউন্সিলরের তরফ থেকে। কিন্তু প্রাণভয় থাকা সত্ত্বেও থানায় গিয়ে নিজেদের সেই লিখিত অভিযোগ প্রত্যাহার করতে রাজি হননি বিপুল ও প্রীতিলতা। আর এতেই চরম ক্ষুব্ধ ও মারমুখী হয়ে ওঠেন তৃণমূল কাউন্সিলর অজয় লোহার এবং তাঁর ভাই আনন্দ লোহার। প্রীতিলতার অভিযোগ, সোমবার রাতে তাঁর স্বামী যখন কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিলেন, ঠিক তখনই রাস্তায় ওত পেতে থাকা একদল দুষ্কৃতী তাঁর ওপর আচমকা প্রাণঘাতী আক্রমণ চালায়। মালবাজারের ব্যস্ত চৌপতি এলাকায় বিপুলকে ফেলে কাউন্সিলরের অনুগামী ও গুন্ডাবাহিনীই লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে মেরেছে বলে দাবি করেন তিনি। মারের চোটে গুরুতর জখম ও রক্তাক্ত অবস্থায় বিপুলকে উদ্ধার করে বর্তমানে মালবাজার সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন তিনি।
অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মালবাজার শহরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এই বর্বরোচিত হামলার পর তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা ফের নতুন করে মালবাজার থানায় কাউন্সিলরের নামে খুনের চেষ্টার অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরেই পুলিশ তৎপরতার সঙ্গে তদন্ত শুরু করে এবং রাতেই তৃণমূল কাউন্সিলর অজয় লোহার, তাঁর ভাই আনন্দ লোহার এবং মালবাজারের তৃণমূল টাউন ব্লক সভাপতি-সহ মোট পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এদিকে, ধৃতদের পক্ষের দাবি, এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে করা একটি চক্রান্ত। তবে এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, আবাস যোজনায় দুর্নীতির প্রতিবাদ করলেই তৃণমূলের পক্ষ থেকে এমন আক্রমণের শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সবিস্তার তদন্ত চলছে এবং ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এলাকাটি বর্তমানে পুলিশি নজরদারিতে রয়েছে।
E-Paper

