হাইকোর্টের নির্দেশে পুরনো বাসে নতুন আশা, জরিমানা-করে ছাড় চান মালিকপক্ষ
সিটি সাবারবান বাস সার্ভিসের নেতা টিটু সাহা বলেন, হাইকোর্টের রায় স্বস্তির, তবে সত্যিকারের স্বস্তি তখনই পাবেন, যখন পরিবহণ দফতর তাঁদের ক্ষতির কথা বিবেচনা করবে। তাহলে যাত্রীদেরও আরও আরামদায়ক পরিষেবা দিতে পারবেন।
কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে পুরনো বাসগুলির ‘স্বাস্থ্য’ ও নির্গমনমাত্রাকে ভিত্তি করে মেয়াদ বাড়ানোর নির্দেশ আসতেই নড়েচড়ে বসেছে বেসরকারি বাসমালিকদের সংগঠনগুলি। নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘদিন ধরে গ্যারাজে পড়ে থাকা বহু বাসকে ফের রাস্তায় নামানোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে বাসমালিক সংগঠনগুলি পরিবহণ দফতরের কাছে জরিমানা মুকুব ও করছাড়ের আবেদন জানাতে চলেছে। তাঁদের দাবি, রাজ্য সরকার ছাড় দিলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ৭০০ থেকে ৮০০ বাস ফের যাত্রীপরিষেবা দিতে পারবে, যা শহরের গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে অনেকটাই স্বস্তি দেবে।

আরও পড়ুন: পড়ুয়াদের সুরক্ষায় স্কুল বাস, পুলকারের জন্য গাইডলাইন আনছে রাজ্য, বদলাবে রং
মূল সমস্যার সূত্রপাত ২০০৮ সালে রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের নির্দেশ থেকে। বৃহত্তর কলকাতা মিউনিসিপ্যাল ডেভেলপমেন্ট অথরিটি এলাকায় ১৫ বছরের বেশি পুরনো বাসের পারমিট নবীকরণ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বহু বাস বাতিল হওয়ার মুখে পড়ে। প্রযুক্তিগত উন্নতির ফলে বাসের দূষণমাত্রা কমলেও স্বাস্থ্যগত নিরীক্ষার কোনও জায়গা ছিল না পুরনো নীতিতে। সেই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ জানিয়েই ১৩ মাস আগে হাইকোর্টে মামলা করে ছ’টি বেসরকারি বাস সংগঠন। তাদের যুক্তি ছিল, বয়স নয়, গাড়ির প্রকৃত স্বাস্থ্যই হওয়া উচিত সিদ্ধান্তের আসল মানদণ্ড। বিচারপতি রাই চট্টোপাধ্যায় নির্দেশ দেন, যান্ত্রিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে পুরনো বাসগুলিও রাস্তায় চলতে পারবে। তবে শর্ত একটাই, বছরে দু’বার বিস্তারিত স্বাস্থ্য ও দূষণ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। যে বাস সব পরীক্ষায় পাশ করবে, সে-ই চলাচলের ছাড়পত্র পাবে। আদালতের এই নির্দেশকে ‘ঐতিহাসিক জয়’ বলে বর্ণনা করেছে বাসমালিক সংগঠনগুলি, যাদের মতে এই রায় ফের নতুন প্রাণ দেবে শহরের বেসরকারি বাস পরিষেবাকে।
তবে সমস্যা অন্য জায়গায়। দীর্ঘ সময় বাস না চালাতে পারায় মালিকপক্ষের ক্ষতি হয়েছে বিপুল। তার ওপর রাস্তায় ফেরার ছাড়পত্র পেতে বাস পিছু দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আগামী সপ্তাহে পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী ও সচিব সৌমিত্র মোহনের কাছে বাসমালিকরা আবেদন জানাতে চলেছেন, যাতে নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ের জরিমানা বা করের বোঝা লাঘব করা হয়। সিটি সাবারবান বাস সার্ভিসের নেতা টিটু সাহা বলেন, হাইকোর্টের রায় স্বস্তির, তবে সত্যিকারের স্বস্তি তখনই পাবেন, যখন পরিবহণ দফতর তাঁদের ক্ষতির কথা বিবেচনা করবে। তাহলে যাত্রীদেরও আরও আরামদায়ক পরিষেবা দিতে পারবেন।












