Samik Bhattacharya: মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ ঘিরে জল্পনা! ঝটিকা সফরে দিল্লিতে শমীক, বৈঠকে RSS নেতৃত্ব

Samik Bhattacharya: রাজ্যে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ টানতে তৎপর হয়েছে রাজ্যে নব্য বিজেপি সরকার। সূত্রের খবর, উৎপাদন ও ভারী শিল্প ক্ষেত্রে বিনিয়োগ নিয়ে ইতিমধ্যেই শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব।

Published on: May 15, 2026 4:35 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Samik Bhattacharya: রাজ্যের নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে। আর এই আবহেই দিল্লিতে দফায় দফায় বৈঠক সারলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সূত্রের খবর, বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত বাংলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনসলের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন তিনি। শুধু তাই নয়, আরএসএস নেতৃত্বের সঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার সকালেও দিল্লিতে একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে শমীকের এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

ঝটিকা সফরে দিল্লিতে শমীক ভট্টাচার্য (PTI)
ঝটিকা সফরে দিল্লিতে শমীক ভট্টাচার্য (PTI)

রাজ্য সরকারের মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ

রাজনৈতিক মহলের মতে, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মাটিতে প্রথম বিজেপি সরকারের প্রতি বঙ্গবাসীর অফুরান প্রত্যাশা। তাই নতুন সরকারের ক্ষমতার ভারসাম্য, আঞ্চলিক সমীকরণ এবং সংগঠনের বিশ্বস্ত মুখদের মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়া - এই তিন বিষয়কেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এগোচ্ছে গেরুয়া শিবির। এদিকে, শুক্রবারই কলকাতায় আসছেন সুনীল বনসল। সূত্রের দাবি, পরবর্তী এবং সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হবে কলকাতাতেই। সেই বৈঠকেই মন্ত্রিসভার বাকি সদস্যদের নাম প্রায় চূড়ান্ত হয়ে যেতে পারে। বিজেপি সূত্রে খবর, সম্ভাব্য তালিকায় সর্বাধিক ৩০ জনের নাম থাকতে পারে। কে পাচ্ছেন গুরুত্বপূর্ণ দফতর, কার বাড়ছে রাজনৈতিক গুরুত্ব, আর কার নাম শেষ মুহূর্তে বাদ পড়তে পারে - তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে বিজেপির অন্দরে। দিল্লি ও কলকাতার টানা সমন্বয়ের পর গেরুয়া শিবির যে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে, তা স্পষ্ট রাজনৈতিক মহলের কাছে।

শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ

এদিকে, রাজ্যে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ টানতে তৎপর হয়েছে রাজ্যে নব্য বিজেপি সরকার। সূত্রের খবর, উৎপাদন ও ভারী শিল্প ক্ষেত্রে বিনিয়োগ নিয়ে ইতিমধ্যেই শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন হলেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার শিল্প প্রকল্পে গতি আনবে বলে দাবি। নতুন জমিনীতিও আনার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গিয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানান, রাজ্যে শিল্পের পরিবেশ তৈরি করতে সন্ত্রাস ও রাজনৈতিক হিংসামুক্ত পরিস্থিতি জরুরি। তাঁর দাবি, 'এখন রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।' একই সঙ্গে তিনি বলেন, রাজ্যের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বাইরে চলে যাওয়া মেধাবীদের ফিরিয়ে আনাই সরকারের লক্ষ্য।

পশ্চিমবঙ্গ প্রতিষ্ঠা দিবস

এছাড়াও জুন মাসে সরকারি উদ্যোগে পশ্চিমবঙ্গ প্রতিষ্ঠা দিবস পালনের কথাও ঘোষণা করেছে বিজেপি। রাজ্য বিজেপি সভাপতির দাবি, ১৯৪৭ সালের ২০ জুন পৃথক পশ্চিমবঙ্গ গঠনের প্রস্তাব পাশ হওয়ার দিনটিকেই প্রকৃত প্রতিষ্ঠা দিবস হিসেবে তুলে ধরা হবে। তাঁর কথায়, 'অতীতে কী হয়েছিল সেটার পাশাপাশি প্রকৃত ইতিহাস জানবে মানুষ। বিকৃত এবং ভুলিয়ে দেওয়া ইতিহাস দেশের একটি বড় সমস্যা। এই সমস্যা থেকে দেশকে বের করে আনতে হবে। আমরা শুধু রাজ্য বা দেশ নয়, সমগ্র পৃথিবীর সিলেবাসের কথা ভাবছি। সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।' তিনি আরও বলেন, '১ বৈশাখ কোথা থেকে এল! ১৯৪৭ সালের ২০ জুন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, মেঘনাদ সাহা, রানি জ্যোতির্ময়ী, শিবেন্দুশেখর রায়, কংগ্রেসের সমস্ত হিন্দু বিধায়ক, কমিউনিস্ট পার্টির জ্যোতি বসু, রতনলাল ব্রহ্মণ পৃথক হিন্দু বাঙালির হোমল্যান্ডের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। সেদিনই প্রকৃতপক্ষে জন্ম হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের। সেটাই রাজ্যের জন্মদিন। যাঁরা এটাকে বয়কট করতে চাইছিলেন, মানুষ তাঁদের বয়কট করে দিয়েছে, ডিজে বাজিয়ে দিয়েছে।' শমীক ভট্টাচার্য জানান, এতদিন দলগতভাবে এই দিনটি রাজ্যের প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করা হয়েছে, এবার রাজ্য সরকারের তরফেও তা পালন করা হবে।