‘Dirtiest’ Rail Station in Sealdah: শিয়ালদা শাখায় সবথেকে ‘নোংরা’ স্টেশন সন্তোষপুর, সঙ্গে আরও ১টি, বাকিগুলির কী হাল?

নোংরা, আবর্জনার স্তূপ এবং উৎকট গন্ধ- শিয়ালদা ডিভিশনের একাধিক স্টেশনের সেই ছবিটা পালটাতে চাইছে পূর্ব রেল। আর সেই লক্ষ্যে শিয়ালদা ডিভিশনের লোকাল ট্রেনের লাইনেএক বিশেষ অভিযান চালানো হল

Published on: Mar 22, 2026, 09:59:06 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

নোংরা, আবর্জনার স্তূপ এবং উৎকট গন্ধ- শিয়ালদা ডিভিশনের একাধিক স্টেশনের সেই ছবিটা পালটাতে চাইছে পূর্ব রেল। আর সেই লক্ষ্যে শিয়ালদা ডিভিশনের লোকাল ট্রেনের লাইনেএক বিশেষ অভিযান চালানো হল। পূর্ব রেলের এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হাউসকিপিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের তরফে জানানা হয়েছে, কয়েকশো টন বর্জ্য সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আবর্জনা পরিষ্কার করে সবুজায়ন ঘটিয়ে স্টেশনের চেহারা বদলে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে রেল কর্তৃপক্ষের তরফে। আর সাম্প্রতিক অভিযানে সবথেকে ‘অপরিচ্ছন্ন’ বা ‘নোংরা’ স্টেশন হিসেব উঠে এসেছে সন্তোষপুর ও বাঘাযতীন।

শিয়ালদা শাখায় সবথেকে ‘নোংরা’ স্টেশন সন্তোষপুর এবং বাঘাযতীন - সাম্প্রতিক অভিযানে এমনই তথ্য উঠে এল। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্যে পিটিআই)
শিয়ালদা শাখায় সবথেকে ‘নোংরা’ স্টেশন সন্তোষপুর এবং বাঘাযতীন - সাম্প্রতিক অভিযানে এমনই তথ্য উঠে এল। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্যে পিটিআই)

কোন স্টেশন থেকে কত পরিমাণ বর্জ্র উদ্ধার?

পূর্ব রেলের তরফে দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক এই অভিযানে শিয়ালদা ডিভিশনের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মোট ৪০০ টনেরও বেশি আবর্জনা সরানো হয়েছে। সবমিলিয়ে প্রায় ২৫,০০০ বর্গফুটেরও বেশি এলাকা এখন জঞ্জালমুক্ত। বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা 'ব্ল্যাক স্পট' বা ময়লার ভাগাড়গুলো পরিষ্কার করা হয়। আর এই অভিযানের সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে সন্তোষপুর এবং বাঘাযতীন স্টেশনে।

১) সন্তোষপুর ও বাঘাযতীন: প্রতিটি স্টেশন থেকে ১০০ টন করে মোট ২০০ টন আবর্জনা সরানো হয়েছে।

২) শিয়ালদা: গুরুত্বপূর্ণ এই স্টেশনের ৪,০০০ বর্গফুট এলাকা থেকে ৫০ টন বর্জ্য সরানো হয়েছে।

৩) অন্যান্য স্টেশন: মগরাহাটে ৩৫ টন, পাতিপুকুর ও টালায় ৩০ টন এবং বিধাননগর ও কলকাতা স্টেশনে ২০ টন জঞ্জাল পরিষ্কার করা হয়েছে। বাদ যায়নি লেক গার্ডেন্স, সোদপুর, সোনারপুর, হালিশহর বা আগরপাড়ার মতো ছোট-বড় স্টেশনগুলিও।

আরও পড়ুন: Motor Sports Academy in Kolkata: বাংলার প্রথম ‘মোটর স্পোর্টস অ্যাকাডেমি’-র সূচনা কলকাতায়! কোথায় কোথায় আছে?

বাজার এলাকার জটমুক্তি ও স্যানিটাইজেশন

রেল কর্তৃপক্ষের তরফে দাবি করা হয়েছে, এই অভিযানের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ছিল স্টেশন সংলগ্ন স্থানীয় বাজারগুলো। টালিগঞ্জ স্টেশনের এক নম্বর নম্বর প্ল্যাটফর্মের বুকিং কাউন্টার সংলগ্ন পথটি দীর্ঘকাল ধরে স্থানীয় বাজারের বর্জ্যে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। পথচারীদের যাতায়াতে সমস্যা হত। রেল কর্তৃপক্ষ সেই এলাকাটি সম্পূর্ণ পরিষ্কার করেছে।

একই ছবি দেখা গিয়েছে সন্তোষপুর স্টেশনেও। রেলের তরফে দাবি করা হয়েছে, স্টেশনে যাওয়ার মূল রাস্তাটি স্থানীয় সবজি বাজারের পচা সবজি ও নোংরার নিচে চাপা পড়ে গিয়েছিল। রেল কর্মীরা সেই রাস্তা উদ্ধার করার পর সেখানে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন, যাতে পুনরায় কেউ সেখানে ময়লা ফেলতে না পারে।

আরও পড়ুন: ভোটমুখী বঙ্গে টানটান উত্তেজনা! সাপ্লিমেন্টারি তালিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে...

আর সেই অভিযান নিয়ে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানিয়েছেন, রেল চত্বরকে স্থানীয় বিক্রেতা বা সাধারণ মানুষ যাতে ডাস্টবিন হিসেবে ব্যবহার না করেন, সেই সচেতনতা তৈরি করাই রেলের প্রধান উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, 'আমরা চাই যাত্রীরা যখন স্টেশনে আসবেন, তখন যেন তারা এক স্বাস্থ্যকর ও নান্দনিক পরিবেশ পান। এই সবুজায়ন প্রকল্প কেবল পরিবেশ রক্ষা করবে না, স্টেশনের সামগ্রিক দৃশ্যপট বদলে দেবে।

আরও পড়ুন: Mamata speech at Eid Prayer: ‘বাংলাকে টার্গেট করা লোকেরা জাহান্নামে যাক’, ইদে জোর হুংকার মমতার, নিশানায় মোদীও

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

রেল সূত্রের খবর, শিয়ালদা ডিভিশনের এই সাফল্যের পর আগামদিনে হাওড়া ও মালদা ডিভিশনেও এই ধরণের বড় মাপের পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হবে। প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। রেলের এই 'সবুজ' পদক্ষেপে খুশি নিত্যযাত্রীরাও। তবে এই পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সাধারণ মানুষের সচেতনতা এবং সহযোগিতা একান্ত কাম্য বলে মনে করছে রেল প্রশাসন।

  • Ayan Das
    ABOUT THE AUTHOR
    Ayan Das

    অয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More