Shatadru Dutta: 'এবার দ্যাখ কেমন লাগে...,' মেসি-কাণ্ডে হয় জেল, অরূপ হারতেই বিস্ফোরক শতদ্রু
Lionel Messi’s Kolkata ‘Goat Tour’ Scandal: সোশ্যাল মিডিয়াতে স্টোরি দিয়ে শতদ্রু দত্ত বলেছেন, তিনি নিজের পরিবার থেকে বাঁচতে চুপ থাকলেও এবার আর চুপ থাকবেন না। দিন কয়েকের মধ্যেই একটি প্রেস কনফারেন্স করে সবকিছু নিয়ে আলোচনা করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
Lionel Messi’s Kolkata ‘Goat Tour’ Scandal: রাজ্যে গেরুয়া ঝড়। বিধানসভা নির্বাচনে পরাস্ত হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সরকার গঠন করতে চলেছে বিজেপি। আর এই আবহে সোশ্যাল মিডিয়ায়, লোকমুখে উঠে এসেছেন লিওনেল মেসি। কলকাতার মেসি কাণ্ড ভুলে যাননি কেউই। ফুটবলের রাজপুত্র শহরে পা রাখতেই যেমন একটা উষ্ণ মেজাজ ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা কলকাতায়, আর্জেন্টিনাইন ফুটবলারের প্রস্থানের সময় ধরা পড়েছিল ঠিক বিপরীত ছবি। পছন্দের ফুটবলারকে দেখতে না পেয়ে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে কার্যত তাণ্ডব চালিয়েছিলেন দর্শকরা। যে ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছিলেন বাংলার ক্রীড়া সংগঠক শতদ্রু দত্ত। সোমবার, বঙ্গে পরিবর্তনের হাওয়া উঠতেই অতীত স্মরণ করে মেসি কাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন শতদ্রু।

তৃণমূল হারতেই মুখ খুললেন শতদ্রু দত্ত
রাজ্যের পালা বদলের পর সোমবার ফেসবুকে স্টোরি দিয়ে শতদ্রু দত্ত লেখেন, 'আমার টিমের কাছে জোর করে অ্যাক্সেস কার্ড চাওয়া হয়েছিল। তারা দিতে না চাওয়ায় তাদের ঘরবন্দি করে রাখা হয়েছিল। আপনারা স্রেফ আমার ইভেন্ট নষ্ট করেননি, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছেন। আমাকে নিয়ে চক্রান্ত করেছেন। আপনাদের জন্য সব সমর্থকেরা হতাশ হয়েছে। আপনাদের জন্যেই আমি ৩৮ দিন জেলে ছিলাম। সবকিছুর হিসেব হবে। আমার সময় এসেছে। ভগবান সব দেখছেন।' দুটি ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, 'আমার আর্তনাদ কেউ শোনেনি। পাশে উনি (অরূপ) মজা নিচ্ছিলেন। বারবার বলেছিলাম এখানে ছবি তোলাবেন না। কিন্তু দাদাগিরি করে তুলেছিল। এবার দ্যাখ কেমন লাগে। সব হিসেব দিতে হবে।'
সোশ্যাল মিডিয়াতে স্টোরি দিয়ে শতদ্রু বলেছেন, তিনি নিজের পরিবার থেকে বাঁচতে চুপ থাকলেও এবার আর চুপ থাকবেন না। দিন কয়েকের মধ্যেই একটি প্রেস কনফারেন্স করে সবকিছু নিয়ে আলোচনা করার কথা জানিয়েছেন তিনি। ৫০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি ও ৫০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করার কথাও বলেছেন তিনি। তাঁর কথায়, '৩৮ দিনের কথা সবাই মনে রেখেছে। এটা স্রেফ শুরু।' স্টোরিতে কারও নাম না লিখলেও বুঝতে অসুবিধে হয় না, তাঁর যাবতীয় অভিযোগের তীর প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের দিকে। অতীতে এই শতদ্রুই মারাদোনা, রোনাল্ডিনহো, এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে কলকাতায় এনেছিলেন কিন্তু মেসির বেলায় যেন সব হিসেব গুলিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু রাজ্যের পালাবদলের পর শতদ্রুর ফেসবুক স্টোরি কিসের অশনি সঙ্কেত দিচ্ছে, সেটাই জানতে আগ্রহী সমর্থকেরা।
কী হয়েছিল কলকাতার শো-তে?
১৩ ডিসেম্বর দুপুর ১২টা নাগাদ মেসির মাঠে আসার কথা থাকলেও সকাল থেকেই ছিল অনেক কর্মসূচি। লেকটাউনে নিজের স্ট্যাচুর উদ্বোধন করেছিলেন মেসি। এরপরেই বাচ্চাদের সঙ্গে একটি ফুটবল প্র্যাকটিস হওয়ার কথা থাকলেও সেটি বাতিল হয়ে গিয়েছিল। সাড়ে ১২টা নাগাদ মেসি যুবভারতীতে প্রবেশ করতেই ঘটল আসল চমক। মেসি, সুয়ারেজ ও দি’পল-কে ঘিরে ধরলেন তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও তাঁর দলবল। প্রায় কয়েকশো লোকের জটলা তখন মেসিকে ঘিরে। বারবার শতদ্রু সরে গিয়ে দর্শককে দেখার অনুরোধ করলেও রাজি হননি কেউই। এর ফলে বঞ্চিত হলেন দর্শকরা। হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটে একঝলকও মেসিকে দেখতে পাননি সমর্থকরা। কেউ এসেছিলেন টাকা ধার করে টিকিট কিনে। কারও আবার সেদিন ছিল বিয়ে। বিয়ে পিছিয়ে সল্টলেক স্টেডিয়ামে এসেছিলেন ওই তরুণ, কিন্তু যুবভারতীর ৬০ হাজারি দর্শকের কপালে সেদিন ছিল স্রেফ শূন্যতা। এরপরেই যেন জনগণের ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। যুবভারতী স্টেডিয়ামের মাঠে নেমে পড়েন সমর্থকরা। বাকেট চেয়ার খুলে ফেলা থেকে বারপোস্টের জাল ছেঁড়া – বাদ যায়নি কিছুই। অনেককে মাঠের কার্পেট তুলে নিয়ে বাড়ি চলে যেতে দেখা যায়। এই সব ঘটনা নিয়ে নিন্দা করা হয় গোটা দেশে। সমাজমাধ্যমে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ শুরু করেন সাধারণ মানুষ। এমনকি বিদেশের সংবাদপত্রেও নিন্দিত হয় কলকাতার গোট ট্যুর। দুপুরের মধ্যেই এয়ারপোর্ট থেকে গ্রেফতার করা হয় শতদ্রু দত্তকে।
E-Paper

