শ্রীরামপুর স্টেশনকে এবার ‘আইকনিক’ বা আদর্শ স্টেশন হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিল রেল মন্ত্রক। শ্রীরামপুর স্টেশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্প’-র অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পূর্ব রেলের তরফে বলা হয়েছে, ‘শ্রীরামপুর শুধু একটি রেল স্টেশন নয়, এটি বাংলার ইতিহাস ও সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। হুগলি নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত এই শহরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইন্দো-ডেনিশ বাণিজ্যিক ঐতিহ্য। শ্রীরামপুর স্টেশনের পুনর্গঠন এমনভাবে করা হবে যাতে এই শহরের প্রাচীন সংস্কৃতি এবং ঐতিহাসিক পরিচয় অক্ষুণ্ণ থাকে। স্টেশনের নকশা ও স্থাপত্যে শ্রীরামপুরের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটবে।’
শ্রীরামপুরের মাহাত্ম্য ও উন্নয়ন পরিকল্পনা

রেলের তরফে জানানো হয়েছে, শ্রীরামপুর মানেই ভারতের অন্যতম প্রাচীন মাহেশের রথযাত্রা। জগন্নাথ মন্দিরের এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব দেখতে প্রতি বছর আসেন লাখ-লাখ মানুষ। এছাড়া ভারতের প্রাচীনতম ছাপাখানা বা প্রেসের অন্যতম কেন্দ্র ছিল এই শহর, যা বাংলার শিক্ষার প্রসারে এককালে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিল। অমৃত ভারত প্রকল্পের অধীনে এই সমস্ত ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে মাথায় রেখেই স্টেশনের সাজসজ্জা করা হবে।
নবরূপে সজ্জিত শ্রীরামপুর স্টেশনে কী কী থাকবে?
১) সাংস্কৃতিক সংহতি: স্টেশনের স্থাপত্যে স্থানীয় ঐতিহ্যের ছোঁয়া থাকবে।
২) ঐতিহাসিক গুরুত্ব: মাহেশ জগন্নাথ মন্দির-সহ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থানর উপরে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ।
৩) আধুনিকতার সঙ্গে শিকড়ের টান: আধুনিক রেল পরিকাঠামোর পাশাপাশি বজায় রাখা হবে চিরাচরিত নান্দনিকতা।
আরও পড়ুন: Mamata Banerjee: 'মমতা বারবার পৃথিবীতে আসবেন না, তাঁর গান বাঙালির ঘরে-ঘরে বাজবে', দাবি সাহিত্যিকের
কী কী সুযোগ-সুবিধা থাকছে শ্রীরামপুর স্টেশনে?
রেলের তরফে জানানো হয়েছে, অমৃত ভারত স্টেশন স্কিমের আওতায় শ্রীরামপুর স্টেশনকে একটি অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। যাত্রী সাধারণের স্বাচ্ছন্দ্য বাড়াতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে:
{{/usCountry}}রেলের তরফে জানানো হয়েছে, অমৃত ভারত স্টেশন স্কিমের আওতায় শ্রীরামপুর স্টেশনকে একটি অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। যাত্রী সাধারণের স্বাচ্ছন্দ্য বাড়াতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে:
{{/usCountry}}১) উন্নত সংযোগ: শহরের দুই প্রান্তকে স্টেশনের মাধ্যমে যুক্ত করা হবে এবং যাতায়াতের পথ আরও প্রশস্ত ও সুগম করা হবে।
২) আধুনিক পরিকাঠামো: লিফট, এসকেলেটর এবং আধুনিক প্ল্যাটফর্ম সারফেসিংয়ের সুবিধা।
আরও পড়ুন: WB 7th Pay Commission: পশ্চিমবঙ্গে সপ্তম বেতন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি জারি কবে হবে? বাজেটে ঘোষণা করা হয়
৩) যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য: শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং আরামদায়ক ওয়েটিং এরিয়া, নিখরচায় উচ্চগতির ওয়াই-ফাই এবং ডিজিটাল ইনফরমেশন সিস্টেম।
৪) নান্দনিক প্রবেশদ্বার: স্টেশনের প্রবেশপথ সুন্দর আলোকসজ্জায় সজ্জিত এবং স্থানীয় শিল্পকলায় অনুপ্রাণিত হবে।
৫) দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন: পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই নকশায় স্টেশনের কাজ সম্পন্ন হবে। যানজট রুখতে নিয়ন্ত্রিত ট্রাফিক ব্যবস্থার ওপরও জোর দেওয়া হবে।
কী কী লাভ হবে?
রেলের তরফে দাবি করা হয়েছে, নবরূপে শ্রীরামপুর স্টেশন সজ্জিত হওয়ার ফলে শুধু যে রেলযাত্রীদের সুবিধা হবে তাই নয়, শ্রীরামপুর এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে। স্টেশনের এই ভোলবদল শহরটিকে পর্যটন মানচিত্রেও এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সবমিলিয়ে ইতিহাসমণ্ডিত শ্রীরামপুর স্টেশন এখন আধুনিক সাজে সেজে ওঠার অপেক্ষায়, যা বাংলার গর্বকে বিশ্ব দরবারে নতুন করে তুলে ধরবে বলে রেলের তরফে দাবি করা হয়েছে।