Subrata Bakshi: তবে 'বক্সী'ও বদলাল! ক্ষমতার পর আনুষ্ঠানিক ফ্রেমেও 'ব্রাত্য', বনস্পতির ছায়াটুকুই সম্বল?
Subrata Bakshi: ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটের গণনার ঠিক আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভার্চুয়াল বৈঠক করেছিলেন তৃণমূলের সমস্ত সাংসদ ও জেলা সভাপতিদের সঙ্গে। শনিবারও তার পুনরাবৃত্তি হয়। মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দু’জনেই ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন দলের সব প্রার্থীর সঙ্গে এবং তাঁদের এজেন্টদের সঙ্গে।
Subrata Bakshi: আশির কাছাকাছি এসে কী তিনি বৃদ্ধ হলেন? নাকি বনস্পতির ছায়াটুকু রেখে ‘নতুন’কে জায়গা ছেড়ে দেওয়ার এটাই উপযুক্ত সময় বলে মনে হচ্ছে দলের? কংগ্রেস ছেড়ে ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেন, তখন থেকেই প্রাক্তন ব্যাঙ্ককর্মী দলের রাজ্য সভাপতি। বাংলা তো বটেই, ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসেও বোধহয় তাঁর নাম থেকে যেতে পারে। সেই সুব্রত বক্সীর ক্ষমতা যে খর্ব হয়ে গেছিল, তা বিধানসভা নির্বাচনে দলের প্রার্থীতালিকা ঘোষণার সময়েই বোঝা গিয়েছিল। এবার এই প্রথম দেখা গেল, আনুষ্ঠানিকতার ফ্রেম থেকেও বেরিয়ে গেলেন বক্সীবাবু।

সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে কালীঘাটে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন অর্ধেক প্রার্থীতালিকা ঘোষণা করে বাকিটা পড়ার জন্য লিস্টটি দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তুলে দেন, তখনও কেবল আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি ছাড়া সুব্রত বক্সীর আর কোনও ভূমিকাই ছিল না। এমনকী দেখা যায়, তালিকাটি হাতে পেয়েই এপাতা-ওপাতা উল্টেপাল্টে দেখছেন ‘বক্সীদা।’ বিভিন্ন সূত্র আগেই ধারণা করেছিল, সুব্রত বক্সীর সুপারিশ মতো তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় কোনও নামই হয়তো থাকবে না। সেই তালিকা তৈরিতে তাঁর তো কোনও ভূমিকা ছিলই না, এমনকী তাঁর একান্ত অনুগত সৈনিক জয়প্রকাশ মজুমদার, তাঁকেও টিকিট দিতে পারেননি তৃণমূলের এই বর্ষীয়ান রাজ্য সভাপতি। এবার ভোটের ফল প্রকাশের আগেই আনুষ্ঠানিকতার ফ্রেম থেকেও ব্রাত্য তিনি।
২০২৪ সালে লোকসভা ভোটের গণনার ঠিক আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভার্চুয়াল বৈঠক করেছিলেন তৃণমূলের সমস্ত সাংসদ ও জেলা সভাপতিদের সঙ্গে। শনিবারও তার পুনরাবৃত্তি হয়। মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দু’জনেই ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন দলের সব প্রার্থীর সঙ্গে এবং তাঁদের এজেন্টদের সঙ্গে। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, গাঢ় নীল ব্যাকগ্রাউন্ডের সামনে শুধু দিদি আর অভিষেকই বসেছিলেন। ‘বক্সীদা’র জন্য কোনও আসনই ছিল না। আর তারপর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, কেন বক্সীবাবুর জন্য আসন ছিল না? সুব্রত বক্সীর ঘনিষ্ঠ সূত্রে বলা হচ্ছে, দাদার শরীরটা ভাল যাচ্ছে না। আবার তাঁর কাছের কিছু মানুষ বলছেন, মনটাও ভাল নেই। তাঁর ঘনিষ্ঠদের দাবি, এবার রাজ্যসভার নির্বাচনে সুব্রত বক্সী আর পুনর্মনোনয়ন চাননি। দলের সহ-সভাপতি হলেন জয়প্রকাশ মজুমদার। ঘরোয়া মহলে তাঁকে তৃণমূলের অনেকেই ‘জহর অ্যাসিস্ট্যান্ট’ বলেন। সূত্রের দাবি, বক্সীবাবু জয়প্রকাশকে রাজ্যসভায় পাঠানোর দরখাস্ত করেছিলেন। কিন্তু সেটা তো হয়ইনি, বাকি কিছুই আর বাস্তবায়ন হয়নি।
আবার, কালীঘাট-ঘনিষ্ঠ এক নেতার কথায়, সুব্রত বক্সীকে বলা হয়েছিল, এই বিধানসভা নির্বাচনে বালিগঞ্জ আসনে প্রার্থী হতে। এটা সেই গত নভেম্বরের কথা। তাতেও রাজি হননি দলের রাজ্য সভাপতি। কারণ, তিনি সম্ভবত দেওয়াল লিখন পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছিলেন, তৃণমূলের বৃদ্ধতন্ত্র বঙ্গোপসাগরের দিগন্তে ঢলে পড়ছে। দলের কর্তৃত্ব ক্রমশই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে চলে যাচ্ছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে। এবং এই সেই সন্ধিক্ষণ, যার ওপারে তৃণমূলের সংগঠনের সবটাই অভিষেক। রাজ্য সভাপতি পদে তাঁর মেয়াদ ফুরোনোও তাই এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
বলে রাখা ভালো, সুব্রত বক্সী তৃণমূলে ‘বক্সী’ বা ‘বক্সীদা’ বলেই পরিচিত। বাংলার রাজনীতিতে ‘সুব্রত’ বললে প্রয়াত সুব্রত মুখোপাধ্যায় ছাড়া আর কারও কথা এখনও মনে পড়ে না। তাই বোধহয় পদবি পরিচয়েই সংক্ষিপ্ত পরিচিতি হয়ে গিয়েছিল ‘বক্সী।’ রাজনীতিতে অনুজপ্রতিম হলেও তৃণমূলে সুব্রতের থেকে বক্সী ‘বড়’ ছিলেন বরাবরই।
E-Paper

