Sundarban Arms Smuggling: সুন্দরবনে মাঝসমুদ্রে বড়সড় সাফল্য, অস্ত্রবোঝাই নৌকা আটক কোস্ট গার্ডের, গ্রেফতার ৪
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২২ জুলাই সুন্দরবন উপকূলবর্তী সমুদ্র এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। আগে থেকেই গোয়েন্দা সূত্রে খবর ছিল, একটি মাছ ধরার নৌকার আড়ালে আন্তর্জাতিক জলসীমা ব্যবহার করে অবৈধ অস্ত্র পাচারের পরিকল্পনা চলছে।
সুন্দরবনের উপকূলবর্তী সমুদ্রসীমায় বড়সড় অভিযানে সাফল্য পেল ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী (কোস্ট গার্ড)। গোপন সূত্রে পাওয়া নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে বন দফতরের সঙ্গে যৌথ অভিযান চালিয়ে একটি সন্দেহভাজন ভারতীয় মাছ ধরার নৌকা আটক করা হয়েছে। নৌকাটিতে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয়েছে পাঁচটি অত্যাধুনিক দূরপাল্লার আগ্নেয়াস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ তাজা কার্তুজ। ঘটনায় নৌকায় থাকা চার ভারতীয় ক্রু সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত অস্ত্র পাচারচক্র জড়িত থাকতে পারে বলে প্রাথমিক তদন্তে মনে করছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি।

কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২২ জুলাই সুন্দরবন উপকূলবর্তী সমুদ্র এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। আগে থেকেই গোয়েন্দা সূত্রে খবর ছিল, একটি মাছ ধরার নৌকার আড়ালে আন্তর্জাতিক জলসীমা ব্যবহার করে অবৈধ অস্ত্র পাচারের পরিকল্পনা চলছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী এবং বন দফতর যৌথভাবে নজরদারি বাড়ায় এবং সন্দেহভাজন নৌকাটির গতিবিধির উপর কড়া নজর রাখে।
অভিযানের সময় মাঝসমুদ্রেই নৌকাটিকে ঘিরে ফেলে কোস্ট গার্ডের দল। এরপর নৌকায় তল্লাশি চালিয়ে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় পাঁচটি অত্যাধুনিক দূরপাল্লার আগ্নেয়াস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। অস্ত্রগুলি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে নৌকার ভিতরে গোপন স্থানে রাখা ছিল বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের ধরন, উৎস এবং এগুলি কোথায় পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অস্ত্র উদ্ধারের পর নৌকায় থাকা চার ভারতীয় ক্রু সদস্যকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে কোস্ট গার্ড। পরে তাঁদের সুন্দরবন কোস্টাল থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ ইতিমধ্যেই অস্ত্র পাচারের সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক, অর্থের উৎস এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের খুঁজতে তদন্ত শুরু করেছে।
তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক অনুমান, এই চক্রের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবহার করে অস্ত্র পাচারের যোগ থাকতে পারে। সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ নদীপথ ও উপকূলীয় অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই পাচারকারীদের কাছে সংবেদনশীল রুট হিসেবে পরিচিত। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মাছ ধরার নৌকার আড়ালে অবৈধ অস্ত্র পরিবহনের চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের।
উপকূলরক্ষী বাহিনীর এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সমুদ্রপথে যে কোনও ধরনের অবৈধ পাচার, অস্ত্র চোরাচালান কিংবা নাশকতামূলক কার্যকলাপ রুখতে ভারতীয় কোস্ট গার্ড ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত টহল ও যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে, যাতে দেশের সামুদ্রিক সীমান্ত নিরাপদ থাকে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভিযান শুধু বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সম্ভাব্য বড়সড় নাশকতার ছক ভেস্তে দেওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। এখন তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য, এই অস্ত্র কোথা থেকে এসেছে, কার কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল এবং এর সঙ্গে জড়িত বৃহত্তর আন্তঃসীমান্ত পাচারচক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা। সব মিলিয়ে, সুন্দরবনের মাঝসমুদ্রে এই সফল অভিযান দেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতাকে আরও একবার সামনে এনে দিল।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


