আরজি কর কাণ্ডে তিন শীর্ষ পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড করে দিল রাজ্য সরকার। শুক্রবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও মৃত্যু কাণ্ডকে ঠিকমতো সামলানোর না (মুখ্যমন্ত্রীর ভাষায় 'মিসহ্যান্ডলিং') জন্য এবং পরিবারকে টাকা দেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ ওঠার জন্য আইপিএস বিনীত গোয়েল, আইপিএস ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং আইপিএস অভিষেক গুপ্তাকে সাসপেন্ড করা হচ্ছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
কী কারণে সাসপেন্ড করেছেন? ব্যাখ্যা শুভেন্দুর

কেন তাঁদের সাসপেন্ড করে দেওয়া হচ্ছে, সেটার ব্যাখ্যা মুখ্যমন্ত্রী করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, পুলিশমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পরে আরজি কর কাণ্ড ও পরবর্তী ঘটনা নিয়ে মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্র সচিবের থেকে লিখিত তথ্য চেয়েছিলেন। কীভাবে পুলিশ অফিসাররা পুরো ঘটনা সামলেছিলেন, তা জানতে চেয়েছিলেন। সেই সংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধানকারী রিপোর্ট জমা পড়েছে। তার ভিত্তিতে তিন আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: Tiljala Buldozer: তিলজলায় বেআইনি ভবন ভাঙায় অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ, আগের সরকারকে ভর্ৎসনা হাইকোর্টের
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আরজি কর কাণ্ডের 'মিসহ্যান্ডেলিং', অভয়ার পরিবারকে টাকা অফার করার অভিযোগ উঠেছিল। সেইসময় পুলিশের হয়ে সাংবাদিক বৈঠক করা ডিসির ‘মনোভাব ও ভাষা’ নিয়েও উঠেছিল একগুচ্ছ প্রশ্ন। সেই প্রেক্ষিতেই বিনীত, ইন্দিরা এবং অভিষেককে সাসপেন্ড করা হচ্ছেে বলে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
CBI তদন্তে ঢোকা হচ্ছে না, দাবি শুভেন্দুর
{{/usCountry}}CBI তদন্তে ঢোকা হচ্ছে না, দাবি শুভেন্দুর
{{/usCountry}}সেইসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে আরজি কর কাণ্ডে আরও একাধিক ব্যবস্থা নেবে রাজ্য সরকার। তবে সিবিআই যে তদন্ত করছে, সেটার মধ্যে ঢোকা হবে না, তা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরজি কর কাণ্ডের সময় ৩ আইপিএস কোন পদে ছিলেন?
২০২৪ সালের অগস্টে আরজি কর কাণ্ডের সময় কলকাতার পুলিশ কমিশনার ছিলেন বিনীত। ডিসি (সেন্ট্রাল) পদে ছিলেন আইপিএল ইন্দিরা। যিনি সেইসময় কলকাতা পুলিশের হয়ে একাধিক সাংবাদিক বৈঠক করেছিলেন। আর অভিষেক ছিলেন ডিসি (নর্থ) পদে। আরজি কর আন্দোলনের পরবর্তীতে জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনের মুখে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতার পুলিশ কমিশনারের পদ থেকে বিনীতকে সরিয়ে দিয়েছিলেন। যিনি আপাতত এডিজি (আইবি) পদে আছেন। আবার সরানো হয়েছিল অভিষেককেও।