Bhabanipur: 'তাঁর রাজনৈতিক অবসর...,' ভবানীপুরে ইন্দ্রপতন, ঘরের মেয়েই হারতেই ইঙ্গিতবাহী বার্তা শুভেন্দুর
Bhabanipur: সোমবার সন্ধ্যায় ভবানীপুর আসনে জয়ের সার্টিফিকেট হাতে নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'যাঁরা হিন্দুত্বের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, এই জয় তাঁদের প্রতি উৎসর্গ করলাম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানো খুব দরকার ছিল।'
Bhabanipur: রাজনীতির ময়দানে তিনি নিজেকে 'ভবানীপুরের ঘরের মেয়ে' হিসেবেই পরিচয় দিতে ভালোবাসেন। নিজের এই কেন্দ্রকে আদর করে ডাকতেন ‘বড়বোন’ বলে, আর নন্দীগ্রাম ছিল তাঁর ‘মেজোবোন।’ কিন্তু সোমবারের ফলাফল এক রূঢ় বাস্তবকে সামনে এনে দিল। পাঁচ বছর আগে নন্দীগ্রামের মাটিতে যা ঘটেছিল, এবার খাস ভবানীপুরেও ঠিক তার পুনরাবৃত্তি হল। শুভেন্দু অধিকারীর দাপটে ‘মেজোবোনের’ পর এবার ‘বড়বোনকেও’ হারাতে হল তৃণমূল কংগ্রেস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ঘরের মাঠে ঘরের মেয়েকে হারতে হল দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এক কঠিন লড়াইয়ে। আর এবারের বিধানসভা নির্বাচনের হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুরে তৃণমূল প্রার্থী, বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে হারিয়ে এই জয় বাংলার বলে উচ্ছ্বাসে ভাসলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

সোমবার সন্ধ্যায় ভবানীপুর আসনে জয়ের সার্টিফিকেট হাতে নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'যাঁরা হিন্দুত্বের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, এই জয় তাঁদের প্রতি উৎসর্গ করলাম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানো খুব দরকার ছিল। ইতিমধ্যে তাঁর রাজনৈতিক অবসর হয়ে গিয়েছে। একুশে নন্দীগ্রামে হারিয়েছিলাম। আর এবারও ১৫ হাজারের বেশি ভোটে হারালাম।' এরপর তিনি খানিক কটাক্ষের সুরে জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুসলিম সম্প্রদায় দু'হাত উপুড় করে ভোট দিয়েছে। ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে প্রত্যেক মুসলিম ভোটারই সবাই ওঁকে ভোট দিয়েছেন। আর আমাকে হিন্দু, শিখ, জৈন এবং বৌদ্ধ ধর্মালম্বীরা আশীর্বাদ করেছেন। এই জয় হিন্দুত্বের জয়।'
তিনি আরও বলেন, 'সিপিএম-এর সমস্ত সমর্থক আমাকে ভোট দিয়েছেন। ভবানীপুরে সিপিএম-এর ১৩,০০০ ভোট ছিল, তার মধ্যে অন্তত ১০,০০০ ভোট আমার দিকে চলে এসেছে। আমি এলাকার সিপিএম ভোটারদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানাই। সমস্ত বাঙালি হিন্দুরা আমাকে দু'হাত উপুড় করে ভোট দিয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে গুজরাটি, জৈন, মারোয়াড়ি, শিখ সম্প্রদায়ও আমাকে দু'হাত উপুড় করে ভোট দিয়েছেন... অমিত শাহ আমাকে দুই-তিনবার ফোন করেছিলেন। তিনি ভবানীপুর নিয়ে কিছুটা উদ্বেগও প্রকাশ করেছিলেন। আমি তাঁকে কিছুক্ষণ আগেই বলেছিলাম...। আমি অন্য আর কারুর সঙ্গে কথা বলিনি। আমার ফোন ব্যবহার করার অনুমতি ছিল না, তাই আমি কথা বলিনি। আমাকে এবার নন্দীগ্রামের সার্টিফিকেটটাও জোগাড় করতে হবে।' ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। আশা ছিল, ভবানীপুরে হত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিততে পারবেন। কিন্তু, 'বাংলার মেয়ের' উপর ভরসা রাখতে পারল না এলাকাবাসী। এদিন গণনার শুরুর দিকে একবার এগিয়ে গিয়েছিলেন শুভেন্দু। তারপর থেকে টানা বেশ কয়েক রাউন্ড এগিয়ে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৩ রাউন্ড গণনার পর ছবিটা বদলাতে শুরু করে। ফের মার্জিন কমতে শুরু করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এগোতে শুরু করেন শুভেন্দু। নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুর যে শুভেন্দুর কাছে একটা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, তা অনেকেই স্বীকার করেছেন। সেই চ্যালেঞ্জে তিনি শেষ পর্যন্ত লেটার মার্কস নিয়ে পাশ করলেন।
E-Paper

