Weather Update: দক্ষিণে গরমের দাপট অব্যাহত! উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, স্বস্তি ফিরবে কবে?

Weather Update: উত্তরে যখন নামতে চলেছে স্বস্তির বৃষ্টি, তখন দক্ষিণবঙ্গের কপালে এখনই কোনও স্বস্তি নেই, এটা বেশ স্পষ্ট। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী রবিবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে এই তীব্র অস্বস্তিকর আবহাওয়া জারি থাকবে।

Published on: May 21, 2026, 20:22:23 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Weather Update: কয়েকদিন ধরেই তীব্র গরম আর ভ্যাপসা আবহাওয়ায় নাজেহাল বাংলার মানুষ। দিনের বেলায় রোদের তাপ এতটাই বাড়ছে যে বাইরে বের হওয়াই কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে দক্ষিণবঙ্গজুড়ে অস্বস্তিকর গরমের দাপট বজায় থাকলেও, উত্তরবঙ্গের ছবিটা একেবারেই আলাদা। হাওয়া দফতরের পূর্বাভাস বলছে, ফলতার ভোটগণনা পর্যন্ত এই ঘামে ভেজা অস্বস্তি থেকে খুব একটা শান্তি নেই রাজ্যবাসীর। যদিও উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির জন্য কিছু ভাল খবর শুনিয়েছে হাওয়া অফিস।

দক্ষিণে গরমের দাপট অব্যাহত!
দক্ষিণে গরমের দাপট অব্যাহত!

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে জোড়া ঘূর্ণাবর্তের ফাঁসে আটকে রয়েছে বাংলা। একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং সংলগ্ন বাংলাদেশের ওপরে। আর দ্বিতীয় ঘূর্ণাবর্তটি তৈরি হয়েছে পশ্চিম বিহারের বায়ুমণ্ডলে। এই দুই জোড়া ঘূর্ণাবর্তের পারস্পরিক শক্তির জেরেই বঙ্গোপসাগর থেকে হু হু করে ঢুকছে জলীয় বাষ্প। আর তাতেই উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এবং ডুয়ার্সের জেলাগুলিতে অতি ভারী বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া

উত্তরে যখন নামতে চলেছে স্বস্তির বৃষ্টি, তখন দক্ষিণবঙ্গের কপালে এখনই কোনও স্বস্তি নেই, এটা বেশ স্পষ্ট। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী রবিবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে এই তীব্র অস্বস্তিকর আবহাওয়া জারি থাকবে। মাঝেমধ্যে আকাশ মেঘলা হয়ে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা বৃষ্টি হলেও গরমের দাপট কমার কোনও লক্ষণ নেই। দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে চড়া রোদ আর আর্দ্রতার জেরে অস্বস্তি চরমে উঠবে। আবহাওয়া দফতর স্পষ্ট জানিয়েছে, স্থানীয়ভাবে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হয়ে বিক্ষিপ্তভাবে ঝড়-বৃষ্টি হলেও, তা স্থায়ী স্বস্তি দিতে পারবে না। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূম জেলাতে গরম ও অস্বস্তি সবচেয়ে বেশি মাত্রায় থাকবে। পশ্চিমের জেলাগুলিতে পারদ ইতিমধ্যেই ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘর ছুঁয়ে ফেলতে পারে। তবে বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়াতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে দমকা ঝড়ো হাওয়া বইতে পারে। স্থানীয়ভাবে সামান্য সময়ের জন্য এই ঝড় ধেয়ে আসতে পারে।

উপকূল ও কলকাতার পরিস্থিতি

কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অত্যধিক বেশি থাকায় প্যাচপ্যাচে অস্বস্তি অনেক বেশি হবে। তিলোত্তমায় তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে ঘোরাফেরা করবে। কলকাতার আবহাওয়ার দিকে নজর রাখলে দেখা যাচ্ছে, আজ, বৃহস্পতিবার সকালে শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এই মরসুমের স্বাভাবিকের তুলনায় ০.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। গতকাল বিকেলে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস- এটিও স্বাভাবিকের থেকে ০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস উপরে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় কলকাতার তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যেই ওঠানামা করবে বলে জানাচ্ছে হাওয়া অফিস।

উত্তরবঙ্গের তাপমাত্রা কেমন থাকবে?

দক্ষিণবঙ্গের ঠিক উল্টো ছবি দেখা যাবে উত্তরবঙ্গে, যেখানে ধেয়ে আসছে ভারী থেকে অতি ভারী দুর্যোগ। উত্তরের উপরের পাঁচটি জেলায় আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত দফায় দফায় এই ভারী বৃষ্টিপাত চলবে বলে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের দেওয়া বুলেটিন অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু করে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের সবকটি জেলাতেই বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টিপাত হবে। শুক্র, শনি এবং রবিবার জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারের কিছু কিছু অংশে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং জলপাইগুড়ি জেলাতে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টি চলার পাশাপাশি পুরো উত্তরবঙ্গ জুড়েই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। নীচের তিন জেলা, মালদহ এবং উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরেও আবহাওয়া শুকনো থাকবে না। সেখানে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি মেয়াদের বৃষ্টি হতে পারে।